মারুয়া বা রাগি বহুবর্ষজীবী ভেষজ তৃণ

মারুয়া বা রাগি

বৈজ্ঞানিক নাম: Eleusine coracana (L.) Gaertn., Fruct. 1: 8. 1. 1. f. 11 (1788). সমনাম: Cynosurus coracanus L. (1759). ইংরেজী নাম: African Millet, Finger Millet, Koracan Millet. স্থানীয় নামঃ মারুদ, মারুয়া।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Commelinids. বর্গ: Poales. পরিবার: Poaceae. গণ: Eleusine প্রজাতির নাম: Eleusine coracana

ভূমিকা: মারুয়া বা রাগি (বৈজ্ঞানিক নাম: Eleusine coracana) হচ্ছে  এক প্রকারের ভেষজ তৃণ। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।

মারুয়া বা রাগি-এর বর্ণনা:

মারুয়া এক বা বহুবর্ষজীবী তৃণ। এদের কাণ্ড খাড়া বা উর্ধ্বগ, ৩০- ১০০ সেমি উঁচু, কোমল, সরল, রোমশবিহীন, মসৃণ, চাপা, পর্ব রোমশবিহীন। পত্রফলক রৈখিক, ১০-৮০ × ০.৩-১.০ সেমি, চ্যাপ্টা, সূক্ষাগ্র, গোড়া গোলাকার বা তাম্বুলাকার, দীর্ঘ কোমল ৬ মিমি সাদা রোমাবৃত বা রোমশ বিহীন, অনুফলক ঘন সিলিয়াযুক্ত, ১.০-১.৫ মিমি লম্বা, পরিঘাত কলা রোমশবিহীন, আবরণ প্রশস্ত, শিথিল, পাতলা কাগজবৎ, সুস্পষ্ট শিরাল, দীর্ঘ কোমল রোমাবৃত বা রোমশবিহীন।

পুষ্পবিন্যাস আঙ্গুলাকারে বিন্যস্ত স্পাইক, স্পাইক ৭ (কদাচিৎ ৮) টি, প্রতিটি ৩-৮ সেমি লম্বা, বক্র, রোমশবিহীন, মসৃণ, মঞ্জরীদণ্ড পক্ষল। স্পাইকলেট সাধারণত ৪টি পুষ্প বিশিষ্ট, ডিম্বাকার, ২-৪ × ১.৫-৩.০ মিমি, মঞ্জরী অক্ষ সর্পিল। গ্লুম ভল্লাকার-আয়তাকার, কাগজবৎ, প্রায়স্থলাগ্র, শূকবিহীন, কিল মোটা, নিচের গ্লুম ২- ৩ × ১.৫-৩.০ মিমি, ৩-শিরাল, উপরের ঘুম ৩-৪ × ১.৫- ৩.০ মিমি, ৫-শিরাল। লেমা ডিম্বাকার, ২-৪ × ২-৩ মিমি, কাগজবৎ, ৩-শিরাল, স্থূলাগ্র, প্রায় সূক্ষ্মাগ্র, সরু পক্ষল, শুক বিহীন। পেলিয়া ডিম্বাকৃতি-আয়তাকার, ২-৩ × ১.৫-২.০ মিমি, কাগজবৎ, ২টি কিরযুক্ত, কিল পক্ষল। পুংকেশর ৩টি, পরাগধানী ১.০-১.৫ মিমি লম্বা। ক্যারিঅপসিস গোলাকার থেকে সামান্য কোণাকার, ১ × ১ মিমি, শীর্ষ ও গোড়া কর্তিতাগ্র, লালাভ-বাদামী, কুঞ্চিত, ভ্রূণ দানার অর্ধেক দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২০ = ৩৬।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

শুষ্কাঞ্চল বা সিক্ত ভূখন্ড। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২০০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় জন্মে। ফুল ও ফল ধারণকাল ডিসেম্বর থেকে মার্চ। বীজ ও গ্রন্থিকন্দে দ্বারা বংশ বিস্তার।

আরো পড়ুন:  স্বর্ণচাঁপা ফুল, ফল, গাছের ছালের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ

বিস্তৃতি :

ওল্ড ওয়ার্ল্ডের উষ্ণ মন্ডলে প্রচুর চাষাবাদ হয়। নিউ ওয়ার্ল্ডে প্রবর্তিত। বাংলাদেশের ঢাকা জেলায় কদাচিৎ দেখা যায়।

ব্যবহার:

পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকায় এবং ভারতে দানা প্রধান খাদ্য। মদ্যাদি চোলাইয়ের মণ্ড রূপেও এটি ব্যবহৃত হয়। অনেকদিন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব বলে এটি দুর্ভিক্ষের সময় প্রধান খাদ্যরূপে ব্যবহৃত করা হয়। দানা থেকে বিভিন্ন প্রকার মদ তৈরী হয়। পশু খাদ্যরূপে গুরুত্ব কম। খড় ঘরের ছাউনিরূপে ব্যবহৃত হয়। পৈত্তিক সমস্যা ও কুষ্ঠ রোগ নিরাময়ে দানা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ১২খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) মারুয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাস্থল ধ্বংসের কারনে বাংলাদেশে এটি হুমকির সম্মুখীন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে মারুয়া সংরক্ষণের জন্য বলা হয়েছে প্রজাতিটি চাষাবাদের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে হবে। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বীজ ব্যাংকে বীজ সংরক্ষণ এবং চাষাবাদ সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. এস নাসির উদ্দিন (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩৬৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!