মানকচুর পরিচিতি ও ভেষজ গুণাগুণ: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের অবাক করা তথ্য

মানকচু (বৈজ্ঞানিক নাম: Alocasia macrorrhizos) হলো অ্যারাসি (Araceae) পরিবারের অ্যালোকেসিয়া গণের একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও বিশালাকৃতির বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। গ্রামীণ লোকালয় থেকে শুরু করে শহুরে কাঁচাবাজার—সবখানেই সবজি হিসেবে এর ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক ও জনপ্রিয়। সুস্বাদু এই সবজিটি শুধু মুখরোচক খাবারের উৎসই নয়, বরং প্রাচীনকাল থেকেই লোকজ চিকিৎসায় এর নানা ধরনের অবিশ্বাস্য ভেষজ গুণাগুণ ও ওষধি ব্যবহারের নজির রয়েছে।

মানকচু (Giant Taro) উদ্ভিদের পরিচিতি ও বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস:

বিষয়ের নামবিস্তারিত তথ্য
স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নামAlocasia macrorrhizos (L.) G. Don
প্রথম প্রকাশনার সূত্রSweet, Hort. Brit. ed. 3: 631 (1839).
উদ্ভিদের সমনাম (Synonyms)Arum macrorrhizon L. (1753)
Arum indicum Lour. (1790)
জনপ্রিয় ইংরেজি নামGiant Taro, Giant Alocasia, Elephant’s Ear
জনপ্রিয় বাংলা নামমানকচু
আঞ্চলিক ও স্থানীয় নামফানকচু
জগৎ (Kingdom)Plantae (উদ্ভিদ)
বিভাগ (Division)Tracheophytes (নালিকাযুক্ত উদ্ভিদ)
ক্ল্যাড (Clade)Angiosperms (সপুষ্পক উদ্ভিদ) / Monocots (একবীজপত্রী)
বর্গ (Order)Alismatales
পরিবার (Family)Araceae (অ্যারাসি বা কচু পরিবার)
গণ (Genus)Alocasia
প্রজাতি (Species)A. macrorrhizos

মানকচুর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও কাণ্ডের গঠন

  • আকৃতি ও প্রকৃতি: মানকচু প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। এটি একটি বিশালাকৃতির ও হৃষ্টপুষ্ট চিরহরিৎ বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। যেকোনো বাগান বা প্রাকৃতিক পরিবেশে এটি এক বিশেষ নান্দনিক সৌন্দর্য যোগ করে।
  • কাণ্ডের পুরুত্ব: এই উদ্ভিদের প্রধান কাণ্ডটি বেশ মজবুত ও খাড়া প্রকৃতির হয়। এর পুরুত্ব বা ব্যাস সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

পাতার রাজকীয় রূপ ও আকার

  • বৃন্ত ও দৈর্ঘ্য: লম্বা ও দৃঢ় সবুজ বোঁটা বা বৃন্তের ওপর ভর করে এর পাতাগুলো আকাশের দিকে সোজা হয়ে থাকে। চাষের পরিবেশ ও বয়স ভেদে এর পাতাগুলো লম্বায় ০.৫ থেকে প্রায় ১.৮ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
  • পাতার দ্বৈত রূপ: এক একটি বিশালাকার ডিম্বাকার পাতার মূল ফলকের আকার প্রায় ৬০-৮০ সেমি লম্বা এবং ৫০-৬৫ সেমি চওড়া হয়। পাতার ওপরের অংশটি উজ্জ্বল গাঢ় সবুজ হলেও এর নিচের দিকটি কিছুটা ফ্যাকাশে রঙের হয়, যা পাতাটিকে একটি দ্বৈত রূপ দান করে।

ফুল ও প্রজনন অঙ্গের বিবরণ

  • মঞ্জরী ও চমসা: মানকচুর পত্রকক্ষ (পাতা ও কাণ্ডের সংযোগস্থল) থেকে সাধারণত দুই বা তার বেশি পুষ্পমঞ্জরী বের হয়। এর বিশেষ ধরনের রঙিন ঢাকনা বা আবরণটিকে (চমসা/Spathe) বলা হয়, যা প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ওপরের অংশটি দেখতে অনেকটা নৌকার মতো এবং রঙ হলুদাভ-সাদা বা ক্রিম কালারের হয়ে থাকে।
  • স্পেডিক্স ও পুষ্প বিন্যাস: ফুলের স্পেডিক্স অংশটি সরাসরি যুক্ত থাকে এবং এর প্রজনন অঙ্গগুলো বিভিন্ন স্তরে খুব সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। এতে স্ত্রী পুষ্প এবং পুংকেশর ধারণকারী অংশগুলো সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা স্তরে অবস্থান করে। এর গর্ভাশয়টি ডিম্বাকার এবং এক প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট হয়ে থাকে।

ফলের প্রকৃতি ও ক্রোমোসোম সংখ্যা

  • ফল ও বীজ: পরিপক্ক বা পাকা অবস্থায় এই উদ্ভিদে উজ্জ্বল কমলা বা লাল রঙের ছোট ছোট বেরি (Berry) জাতীয় ফল দেখা যায়। এই উপবৃত্তাকার ফলগুলো আকারে প্রায় ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট হয়। প্রতিটি ফলে খুব অল্প সংখ্যক বীজ বা ডিম্বক থাকে।
  • ক্রোমোসোম সংখ্যা: উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানকচুর ডিপ্লয়েড ক্রোমোসোম সংখ্যা হলো ২n = ২৮

মানকচুর প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও আদর্শ পরিবেশ

মানকচু গাছটি প্রাকৃতিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য মূলত আর্দ্র ও ছায়াময় পরিবেশ বেশি পছন্দ করে।

  • গ্রামগঞ্জের ঝোপঝাড়: আমাদের দেশের গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত বাগান, ভিটা এবং বড় বড় গাছের নিচে যেখানে সরাসরি কড়া রোদ পৌঁছাতে পারে না, এমন ছায়াঘেরা স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে মানকচু সবচেয়ে ভালো বাড়ে।
  • নদীর তীর ও জলাভূমি: ছোট ছোট নদীর তীর বা নিচু জলাভূমি—যেখানে মাটির নিচে হালকা পানির প্রবাহ বা পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রয়েছে, সেখানে এদের প্রাকৃতিকভাবেই কোনো বিশেষ যত্ন ছাড়াই চমৎকারভাবে টিকে থাকতে দেখা যায়।

ফুল ও ফল ধারণের সঠিক সময়কাল

  • সময়কাল: মানকচু গাছে সাধারণত বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফুল ও ফলের সমারোহ দেখা যায়। বাংলা ঋতু অনুযায়ী বর্ষার মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত এই গাছটি সবচেয়ে বেশি সতেজ থাকে।
  • মাস: ইংরেজি মাসের হিসাবে সাধারণত জুলাই মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই উদ্ভিদে ফুল ফোটে এবং ফল ধরতে দেখা যায়।

বংশবিস্তার পদ্ধতি (Propagation)

বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে মানকচু গাছটি অত্যন্ত সহজ ও প্রাকৃতিক এক পদ্ধতি অনুসরণ করে:

  • রাইজোম বা কন্দের ব্যবহার: মূলত ‘শাখা কন্দ’ বা রাইজোমের (Rhizome) মাধ্যমেই এরা খুব দ্রুত নতুন চারা তৈরি করে।
  • ঘন ঝোপ তৈরি: মাটির নিচে কন্দের সাহায্যে বংশবৃদ্ধি হওয়ার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি তার আশেপাশে নতুন নতুন ছোট চারা বা উদ্ভিদের জন্ম দেয় এবং একটি ঘন ঝোপ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও আদি নিবাস

মানকচু প্রধানত ক্রান্তীয় বা উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর অঞ্চলের একটি সুপরিচিত প্রজাতি, যার ভৌগোলিক বিন্যাস বেশ বিশাল।

  • বৈশ্বিক বিস্তৃতি: এই উদ্ভিদের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিধি দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোতেও (Pacific Islands) প্রাকৃতিকভাবেই এই উদ্ভিদটি সগৌরবে প্রচুর পরিমাণে জন্মে থাকে।
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের জলবায়ু ও উর্বর মাটি মানকচুর বংশবৃদ্ধি ও বাড়বাড়ন্তের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই একে অনায়াসে জন্মাতে দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ছায়াঘেরা আর্দ্র স্থানে এটি কোনো প্রকার বাড়তি যত্ন ছাড়াই টিকে থাকে এবং আমাদের লোকজ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখে।

মানকচুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বাজার চাহিদা

মানকচু বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সুপরিচিত, পুষ্টিকর ও লাভজনক অর্থকরী সবজি প্রজাতি। এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:

  • বাণিজ্যিক চাষাবাদের জেলাসমূহ: দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাসমূহ, বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরিশাল, যশোর এবং খুলনা জেলাগুলোতে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে মানকচুর চাষ করা হচ্ছে।
  • বাজার মূল্য ও লাভ: সুস্বাদু এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে রাখা যায় বলে স্থানীয় ও শহুরে কাঁচাবাজারে মানকচু বেশ চড়া দামে বিক্রি হয়। ফলে এটি প্রান্তিক কৃষকদের আয়ের একটি চমৎকার অর্থনৈতিক উৎস।

খাদ্যমান, পুষ্টি ও অনন্য ভেষজ গুণাবলি

সবজি হিসেবে এটি যেমন উপাদেয়, ঠিক তেমনি পুষ্টি ও ভেষজ উপাদানের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ:

  • উচ্চ পুষ্টিমান: মানকচুতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন (লোহা), ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার (আঁশ) এবং ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘বি-কমপ্লেক্স’ রয়েছে। এটি শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে দারুণ সাহায্য করে।
  • লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার: সবজি হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি এর অনন্য ওষধি গুণের জন্য অনেক কৃষক এর চাষ করেন। প্রাচীন আয়ুর্বেদ ও গ্রামীণ চিকিৎসায় বাতের ব্যথা, জন্ডিস নিরাময় এবং ফোলা স্থানে এর পাতার রস বা কন্দের বিশেষ ব্যবহার রয়েছে।

ভেষজ ও ঔষধি গুণাগুণ

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশের লোকজ চিকিৎসায় মানকচুর ব্যবহার হয়ে আসছে। এর বিভিন্ন অংশ নানা ধরনের রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

  • সংক্রমণ ও টিউমার: পোকামাকড় কামড়ালে বা শরীরের কোনো স্থানে টিউমারের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসায় মানকচু ব্যবহার করা হয়।
  • মুখের ক্ষত নিরাময়: জিভ বা মুখের ভেতরের ঘা সারাতে মানকচুর কন্দ পুড়িয়ে সেই ছাই ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে, যা দ্রুত আরাম দিতে সাহায্য করে।
  • আঙুলের সংক্রমণ বা হাজা: মানকচুর একটি চমকপ্রদ জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে। আঙুলের সংক্রমণের চিকিৎসায় বা ইনফেকশন কমাতে রোগীরা আক্রান্ত আঙুলটি মানকচুর বৃন্তের (পাতার বোঁটা) ভেতরে সারাদিন ঢুকিয়ে রাখে। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে সংক্রমণের তীব্রতা দ্রুত কমে আসে।
  • হজম ও শারীরিক উপকারিতা
  • এই কচু অত্যন্ত লঘু বা হালকা হওয়ার কারণে খুব দ্রুত হজম হয়। এটি শরীরের ফোলা ভাব বা শোথ রোগ সারাতে এবং স্বাভাবিক প্রস্রাবের মাত্রা বজায় রাখতে কার্যকর সাহায্য করে।
  • পেটের সমস্যায় মানকচুর প্রভাব
  • মানকচু অনেকটা প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। অল্প মাত্রায় খেলে এটি পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকের মতে এটি মল রোধক হিসেবেও কাজ করে, যা শরীরের নির্দিষ্ট প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
  • মানকচুর কদর ও স্বাদ
  • সব ধরনের কচু প্রজাতির মধ্যে স্বাদে এবং পুষ্টিতে মানকচুর কদর বা ‘মান’ সবচেয়ে বেশি। এটি কেবল পুষ্টিকরই নয়, সঠিকভাবে রান্না করলে এটি অন্য সব সবজির চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু হয়।
  • পাতা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
  • শুধু কন্দ নয়, মানকচুর পাতাও শাক হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়। তবে পাতা রান্নার আগে তা ভালো করে সেদ্ধ করে পানি ফেলে দেওয়া জরুরি। এরপর ঘন্ট বা শাক হিসেবে রান্না করলে এর প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়।
  • মুখরোচক খাওয়ার উপায়
  • মানকচু খাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও সুস্বাদু উপায় হলো এর ভাজা। প্রথমে কচু সেদ্ধ করে পাতলা ও চাকা চাকা করে কেটে নিতে হয়। এরপর তেলে মচমচে করে ভাজলে এটি ভাতের সাথে খেতে দারুণ লাগে।
  • রক্তপিত্ত ও শরীরের বল বৃদ্ধি
  • নাক বা মুখ দিয়ে রক্ত পড়ার মতো (রক্তপিত্ত) সমস্যায় মানকচু বেশ ফলদায়ক। এটি খাওয়ার ফলে ক্ষুধা বাড়ে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক বল বৃদ্ধি পায়।
  • মায়েদের জন্য উপকারিতা
  • প্রসূতি মায়েদের জন্য মানকচু অত্যন্ত উপকারী একটি পথ্য। এটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে স্তন্যদুগ্ধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত কচু খেলে শরীরে কফ বা বায়ুর পরিমাণ বাড়তে পারে।

পুষ্টি ও ভেষজ শক্তির সংমিশ্রণ থাকায় এই সবজিটি একদিকে যেমন আমাদের পুষ্টির চাহিদা মেটায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক নিরাময়ক হিসেবেও কাজ করে।

মানকচুর সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা

‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’-এর ১১শ খণ্ডের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশে মানকচুর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক ও নিরাপদ। প্রকৃতিতে এর টিকে থাকার পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

  • আশু হুমকি: উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রকৃতিতে মানকচু প্রজাতিটি বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে বর্তমানে কোনো বড় ধরনের বা তাৎক্ষণিক আশু হুমকি লক্ষ্য করা যায়নি।
  • বর্তমান অবস্থা: লাল তালিকা বা রেড লিস্ট (Red List) অনুযায়ী এই প্রজাতিটির বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত (Least Concern – LC)। অর্থাৎ, এটি প্রকৃতিতে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে ও নিরাপদে টিকে রয়েছে ।
  • গৃহীত পদক্ষেপ: যেহেতু গাছটি বর্তমানে কোনো ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে নেই এবং এটি বাণিজ্যিকভাবেও চাষ হচ্ছে, তাই এখন পর্যন্ত এর জন্য বিশেষ কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
  • প্রস্তাবিত পদক্ষেপ: বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতিতে এর স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধির হার এবং কৃত্রিম চাষাবাদের মাত্রা চমৎকার থাকায় এই উদ্ভিদের সুরক্ষায় এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

আরো পড়ুন:

তথ্যসূত্র:

১. হোসনে আরা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩২-৩৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,১০৮-১০৯।

সম্পাদকীয় নোট ও চিত্রস্বত্ব (Editorial Note & Photo Credits)

  • চিত্রস্বত্ব (Photo Credits): নিবন্ধে ব্যবহৃত ছবিগুলো উইকিমিডিয়া কমন্স (Wikimedia Commons) থেকে নেওয়া হয়েছে। মূল আলোকচিত্রীর নাম: David J. Stang.।
  • সম্পাদকীয় বিজ্ঞপ্তি: এই তথ্যবহুল নিবন্ধটি সর্বপ্রথম ৪ মার্চ ২০২১ তারিখে জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ‘রোদ্দুরে.কম’-এ পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছিল। কন্টেন্টের গুণগত মান, বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং আধুনিক তথ্য বজায় রাখতে আজ ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি নতুন তথ্যসহ পরিমার্জন, আধুনিকীকরণ এবং আপডেট করা হয়েছে।

পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Frequently Asked Questions)

প্রশ্ন ১: মানকচুর বৈজ্ঞানিক নাম কী এবং এটি কোন পরিবারের উদ্ভিদ?

উত্তর: মানকচুর স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক নাম হলো Alocasia macrorrhizos (L.) G. Don। এটি মূলত অ্যারাসি (Araceae) বা কচু পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বিশালাকৃতির বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ।

প্রশ্ন ২: মানকচুকে আন্তর্জাতিকভাবে ইংরেজিতে কী বলা হয়ে থাকে?

উত্তর: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানকচুকে সাধারণত ‘Giant Taro’ (জায়েন্ট ট্যারো) বলা হয়। এছাড়া এর বিশালাকার রাজকীয় পাতার কারণে এটিকে ‘Giant Alocasia’ বা ‘Elephant’s Ear’ (হাতির কান কচু) নামেও ডাকা হয়।

প্রশ্ন ৩: বাংলাদেশের কোন কোন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে মানকচুর চাষ বেশি হয়?

উত্তর: বাংলাদেশের জলবায়ু মানকচু চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এটি দেশের প্রায় সর্বত্রই জন্মে। তবে বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরিশাল, যশোর এবং খুলনা জেলাগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে মানকচুর ব্যাপক চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।

প্রশ্ন ৪: মানকচুতে কী কী প্রধান পুষ্টি উপাদান এবং ভেষজ গুণ রয়েছে?

উত্তর: মানকচুতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার (আঁশ) এবং ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘বি-কমপ্লেক্স’ রয়েছে। লোকজ ও ভেষজ চিকিৎসায় বাতের ব্যথা উপশমে, জন্ডিস নিরাময়ে এবং শরীরের ফোলা স্থান কমাতে এর বিশেষ ব্যবহার রয়েছে।

প্রশ্ন ৫: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ অনুযায়ী মানকচুর বর্তমান অবস্থা কেমন?

উত্তর: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ-এর ১১শ খণ্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃতিতে মানকচু প্রজাতিটি বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে বর্তমানে কোনো বড় ধরনের আশু হুমকি নেই। রেড লিস্টের মানদণ্ড অনুযায়ী এটি বাংলাদেশে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত (Least Concern – LC) অবস্থায় রয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!