পানপাতা বেগোনিয়া পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো বাহারি প্রজাতি

বীরুৎ

পান পাতা বেগোনিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Begonia barbata Wall. ex A. DC. in DC., Prodr. 15(1): 348 (1864). স্থানীয় নাম: পানপাতা বেগোনিয়া জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Cucurbitales. পরিবার: Begoniaceae. গণ: Begonia  প্রজাতির নাম: Begonia barbata

ভূমিকা: পানপাতা বেগোনিয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Begonia barbata) বেগোনিয়াসিস পরিবারের একটি এক প্রকারের বাহারি বিরুৎ। এই প্রজাতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশে জন্মে।

পানপাতা বেগোনিয়া-র বর্ণনা:

লম্বা, কান্ডজ বীরুৎ, মূলাকার কান্ড লতানো, পুরু বা কন্দাল নয়। কান্ড ভূশায়ী, সাধারণত খাটো, ৪ মিমি লম্বা, বাদামী রোমশ, রোম পাতলা, বিস্তৃত।

পত্র সরল, ৫.০-১২.৫ সেমি লম্বা, ডিম্বাকার-দীর্ঘাগ্র, খন্ডবিহীন, অত্যন্ত অসম এবং মূলীয় অংশ তাম্বুলাকার, উভয় পৃষ্ঠ কন্টক ও ত্বকীয় রোমাবৃত, প্রান্ত দপ্তর, সিলিয়াযুক্ত, মূলীয় শিরা ৯-১১ টি,

বৃন্ত ২.৫-১০.০ সেমি লম্বা, বিস্তৃত রোমযুক্ত, উপপত্র ভল্লাকার-তুরপুন আকার, সিলিয়া যুক্ত, স্থায়ী। মঞ্জরীদন্ড ৭.৫ সেমি লম্বা, রোমশ। পুষ্প সাদা থেকে ফ্যাকাশে লাল, মধ্যম আকৃতি বিশিষ্ট।

পুংপুষ্প: বৃত্যংশ ২ টি, ডিম্বাকার, রোমশ, পাপড়ি ২ টি, সরু ডিম্বাকার, পুংকেশর ৫০ টি বা ততোধিক, কদাচিৎ একগুচ্ছ, পরাগধানী ডিম্বাকার, যোজক বৃহদাকার, ডিম্বাকৃতি-দীর্ঘায়ত।

স্ত্রীপুষ্প: পুষ্পপুট খন্ড ৫ টি, বাইরের খন্ড রোমশ, ভিতরের খন্ড ক্ষুদ্রতর, গর্ভাশয় রোমশ, অমসৃণ। ফল ক্যাপসিউল, পক্ষসহ ১.২ x ২.৫ সেমি, পক্ষ ৭ সেমি পর্যন্ত প্রশস্ত, রোমশ,

ফল শুকনো অবস্থায় বাদামী, ২ টি সরু পক্ষের উভয় পার্শ্বে ১ টি করে মোট ৪ টি রেখা সদৃশ চিড় দ্বারা বিদারী। বীজ উবৃত্তাকার, বাদামী।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

জলাশয়ের নিকটবর্তী ভিজা ও ছায়াযুক্ত মাটি। ফুল ও ফল ধারণ সময় জুন থেকে অক্টোবর মাস। বীজ ও গ্রন্থিকন্দের সাহায্যে বংশ বিস্তার হয়।

পানপাতা বেগোনিয়া-র বিস্তৃতি:

ভারত ও মায়ানমার। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি (কাপ্তাই) ও সিলেট জেলায় জন্মে। গুরুত্ব: বাহারি বীরুরূপে চাষাবাদ করা হয়। পাতা সবজি রূপে ব্যবহার্য।

আরো পড়ুন:  কনকচাঁপা দক্ষিণ এশিয়া ও মায়ানমারের আলংকারিক ফুল

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পানপাতা বেগোনিয়া  প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন।

বাংলাদেশে পানপাতা বেগোনিয়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির যথাস্থানে সংরক্ষণের প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. বি এম রিজিয়া খাতুন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ০৯-১০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!