সোনাপাতা বা কেতুরী হলদি-এর গুণাগুণ

Curcuma angustifolia প্রজাতিটির গাছ সাধারণতঃ ২ থেকে ৩ ফুট লম্বা হয়। পত্রদণ্ডের উভয় দিকে ৭ থেকে ৮ জোড়া পাতা থাকে। পাতাগুলি ১২ ইঞ্চি লম্বা, সরু, দেখতে অনেকটা শণগাছের পাতার মতো, তবে বর্ণ হরিদ্রাভ সবুজ ও প্রায় মসৃণ। পাতা শুকিয়ে গেলে অতি সহজে ভেঙ্গে যায়। পত্রদণ্ডের গোড়া থেকে পুষ্পদণ্ড বেরোয়। পুষ্পদণ্ডের উভয় দিকে ফুল থাকে, দেখতে সোঁদাল ফুলের মতো হরিদ্রাবর্ণবিশিষ্ট। শুঁটি চ্যাপ্টা, ১২–২২ ইঞ্চি লম্বা, প্রায় ইঞ্চিখানিক চওড়া; শুকিয়ে গেলে সবুজাভ খয়েরী থেকে গাঢ় খয়েরী রঙের হয়। ফলের মধ্যে ৫। ৭টি প্রায় ডিম্বাকৃতি গাঢ় খয়েরী রঙের মসৃণ বীজ থাকে। বর্ষাকালে ফুল ও শীতকালে ফল হয়। সাধারণতঃ শুকনো ভূমিতে সোনাপাতার গাছ জন্মে। বীজ থেকে গাছ হয়। এই গাছের পাতাগুলিকে Senna বা সোনাপাতা এবং ফলগুলিকে Senna pods বা সোনাফল বলা হয়। দু’টি একই গুণ-সম্পন্ন হলেও ফলের চেয়ে পাতার গুণ অধিক। শুকনো পাতা ৪ । ৫ বছর পর্যন্ত গুণহীন হয় না ।

সোনাপাতা বা কেতুরী হলদি গুণপনা

সোনাপাতা বা কেতুরী হলদি তিক্ত, মূত্রকারক, বিরেচক, অস্ত্রের কৃমি গতিবর্ধক, পিত্ত নিঃসারক; চর্মরোগ, বাতব্যাধি, উদরকৃমি, অর্শ, শোথ, মেহ প্রভৃতি নাশক; রসায়ন ও শুক্রবর্ধক।

পাতায় দু’প্রকারের গ্লুকোসাইড পাওয়া যায়, তন্মধ্যে একটি মূত্রকারক এবং অপরটি বিরেচক গুণ-সম্পন্ন। এছাড়া এতে অল্প মাত্রায় Salicylic acid এবং Chrysophanic acid পাওয়া যায়। তাছাড়া পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতিও বিদ্যমান।

তবে কোলাইটিসের রোগীকে কিংবা মাংসপেশীর আক্ষেপিক কোষ্ঠবদ্ধতায় (spastic constipation) সোনাপাতা বা সোনাফলের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যবহারও শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। নির্ধারিত মাত্রায় সর্বদা সেবন করতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ২২৭।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Sobhapati Samom

আরো পড়ুন:  কুকুরচিতা বা মেন্দা সুগন্ধি ও ভেষজ বৃক্ষ

1 thought on “সোনাপাতা বা কেতুরী হলদি-এর গুণাগুণ”

Leave a Comment

error: Content is protected !!