বিট শীতকালীন সবজি হিসাবে খুব জনপ্রিয় ও ভেষজ গুণসম্পন্ন

সবজি

বিট

বৈজ্ঞানিক নাম: Beta vulgaris L., Sp. Pl. 1: 222 (1753). ইংরেজি নাম: Garden Beet, Common Beet. স্থানীয় নাম: বিট, পলক।

ভূমিকা: বিট (বৈজ্ঞানিক নাম: Beta vulgaris, ইংরেজি নাম: Garden Beet, Common Beet.) হচ্ছে বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার জনপ্রিয় সবজি। এটি অনেকে বাড়ির বাগান বা ছাদে লাগিয়ে থাকে।

বিট-এর বর্ণনা:

রসালো, রোমশ বিহীন বীরুৎ। প্রধান মূল ভূনিম্নস্থ স্ফীত কন্দে রূপান্তরিত। কান্ড অতিশয় ছোট। পত্র রোজেট আকৃতি বিশিষ্ট, লম্বা বৃন্তযুক্ত, সরল, একান্তর বা সর্পিলাকার, কখনও ডিম্বাকার, ২০-৪০ সেমি লম্বা, মূলীয় অংশ সরু শীর্ষ প্রশস্ত স্থূলাগ্র।

আরো পড়ুন: বিট লোহা আর ফসফরাস সমৃদ্ধ ভেষজ গুণ সম্পন্ন সবজি

পুষ্প বিন্যাস প্যানিকল, বহু শাখা যুক্ত স্পাইক দ্বারা গঠিত। পুষ্প অবৃন্তক, উভলিঙ্গ, সবুজাভ, পুষ্প পুট ৫ খন্ডিত। পুংকেশর ৫টি, গর্ভকটি, পুংদন্ড তুরপুন আকার, পরাগধানী দীর্ঘায়ত ২-কোষী। গর্ভাশয় ১ কোষী, গর্ভদন্ড ১টি, গর্ভমুন্ড ২-৩ টি, ফল নাট। বীজ বৃক্কাকার, বাদামী, ১.৫-৩.০ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ১৮ (Kumal and Subramaniam, 1986).

বিট-এর চাষাবাদ:

উর্বর, স্যাতসেঁতে মাটি বিট চাষের জন্য উপযুক্ত। বর্তমানে বিটকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। তবে এটা চাষের জন্য খুব বড় জায়গার দরকার হয় না। বাড়ির বাগানে বা ছাদে টবে এটা চাষ করা যায়।  ফুল ও ফল ধারণের সময়কাল মার্চ থেকে এপ্রিল মাস। বংশ বিস্তার হয় বীজ থেকে।  

বিস্তৃতি: বিশ্বব্যাপী বিট পাওয়া যায়। এই সবজিটি সারা দুনিয়ায় খুব জনপ্রিয়। বাংলাদেশের শীতকালীন সবজিরূপে চাষ করা হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব:

এর মূল সালাদরূপে এবং সবজি রূপেও আহার্য। মূল থেকে প্রাপ্ত রঙ্গীন পদার্থ ভিটামিন বাণিজ্যিক ভাবে টমেটো সস, জ্যাম, জেলি, ভোজের শেষে সরবরাহকৃত ফল, মিষ্টান্ন ইত্যাদি বস্তু রঙ করতে ব্যবহার করা হয়। বিটের রঙ্গীন পদার্থ পানিতে দ্রবনীয়।

আরো পড়ুন:  ওল কচু দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষজীবী ভেষজ কন্দজাতীয় গুল্ম

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: সালাদের উপাদান রূপে ব্যবহৃত। তরুণ পত্র কখনও শাক সবজি রূপে আহার্য।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বিট প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বিট সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই তবে যবের ব্যাপক চাষাবাদ প্রয়োজন। 

তথ্যসূত্র:

১. এম এ হাসান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ২১২-২১৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Susan Slater

Leave a Comment

error: Content is protected !!