আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বীরুৎ > বথুয়া শাক বাংলাদেশে জন্মানো সহজলভ্য ও ভেষজ প্রজাতি

বথুয়া শাক বাংলাদেশে জন্মানো সহজলভ্য ও ভেষজ প্রজাতি

বথুয়া
শাক

বথুয়া শাক

বৈজ্ঞানিক নাম: Chenopodium album L. SD. PL 1: 279 (177), ইংরেজি নাম: White Gooseinot. Pirweed Labs Quarters. স্থানীয় নাম: বথুয়া বটুয়াশাক, চনবিট।
জীববৈজ্ঞানিকশ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. অবিন্যাসিত: Rosids. বর্গ: Caryophyllales পরিবার:  Amaranthaceae. গণ: Chenopodium. প্রজাতি: Chenopodium album.

ভূমিকা: বথুয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Chenopodium album) শাক বাংলাদেশের সব জেলাতেই জন্মে। শাক হিসাবে যেমন খাওয়া হয় তেমনি এটি ঔষধি কাজেও লাগে।

বথুয়া শাক-এর বর্ণনা:

খাড়া নির্গদ্ধ বর্ষজীবী বীরুৎ, প্রায় ১ মিটার উঁচু। কান্ড সাদাটে সবুজ বা লাল, কোণাকার, খাজাযুক্ত। সরল, একান্তর, ডিম্বাকার হ্যেকে ভিমাকৃতি হীরককার১.৫-১৫.০ X ০.৫-১৪.০ সেমি, সাধারণত অসম সন্ত যুক্ত, নিচের পত্র বৃহৎ বৃন্তক, উপরের পত্র আসুপাতিক ছোট বৃন্তক।

পুষ্প বিন্যাস বৃহৎ অমীয় বা শীর্ষীয় অ্যাক্রিয়া। পুষ্প ক্ষুদ্র উভলিঙ্গ, খাটো বস্তক। পুষ্পপুটাংশ ৫টি, মুক্ত, মূলীয় অংশে যুক্ত, ডিম্বাকার, শীর্য সূত্র থেকে দীর্ঘ। পুংকেশর ৫টি অভ্যন্তরে সন্নিবিষ্ট। বীজ মণি, মসূরাকার, ১-২ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট, কৃষ্ণাভ বাদামী।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2 = ৩৬, ৫৪ (Kumar and Subramaniam, 1986).

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

শস্য ক্ষেত, নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে আগাছারূপে জন্মে। ফুল ও ফল ধারন সময় ডিসেম্বর-মার্চ। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি:

পৃথিবীর প্রায় সবদেশে জন্মে। বাংলাদেশে শীতকালে আগাছারুপে সর্বত্রই জন্মাতে দেখা যায়।

বথুয়া শাক-এর ব্যবহার:

পাতা যকৃতের গোলযোগে, প্লীহা বৃদ্ধি, আমাশয়, অর্শ, হিক্কা প্রতি রোগে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রেচক, কামোদ্দীপক, টনিক এবং কৃমি নাশক রূপেও পাতা উপকারী (Gliani 2003)

আহার্য ১০০ গ্রাম উদ্ভিদে আছে ২৮০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ৮১ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১১৩০০ আই ইউ ভিটামিন এ এবং ৯০ মিলিগ্রাম অ্যাসকরবিক এসিড।

জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহার:

বাংলাদেশে কোথাও এর চাষ হয়। বন্য অবস্থান থেকে এটি বাজারে বিক্রী করা হয়। তরুণ বিটপ ও পাতা উক্ত শাকসবজি রূপে আহার্য মাছের সাথে এই সবজি সুস্বাদু খাবার।

আরো পড়ুন:  হলুদ আমরুল শাক ভেষজ গুণ সম্পন্ন বাংলার উদ্ভিদ

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বথুয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে বথুয়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির ব্যাপক চাষাবাদ প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. এম এ হাসান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৩-২১৪। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page