কসমস বাংলাদেশের শীত মৌসুমের কষ্টসহিষ্ণু আলঙ্কারিক ফুল

ভূমিকা: কসমস (বৈজ্ঞানিক নামCosmos bipinnatus ইংরেজি: Garden Cosmos, Mexican Aster, Winter Cosmos) এ্যাস্টারেসি পরিবারের,  কসমস গণের একটি এক প্রকারের বিরুৎ। এটি মেক্সিকার প্রজাতি। সরু ডাঁটার বিশিষ্ট গাছে নানা রঙের ফুল ফোটে।

বৈজ্ঞানিক নাম: Cosmos bipinnatus Cav., Ic. 1: 10, t. 14 (1791). সমনাম: Bidens bipinnata Baill. 1882 not L. 1753  Bidens formosa (Bonato) Sch.Bip. Bidens lindleyi Sch.Bip. Coreopsis formosa Bonato Coreopsis formosa Bonato ex Pritz. Cosmea tenifolia (Lindl.) Lindl. ex Heynhold Cosmos formosa Bonato Cosmos hybridus Goldring Cosmos ইংরেজি নাম: Garden Cosmos, Mexican Aster, Winter Cosmos. স্থানীয় নাম: কসমস। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Asterales. পরিবার: Asteraceae. গণ: Cosmos  প্রজাতির নাম: Cosmos bipinnatus

কসমস ফুলের বর্ণনা:

কসমস লম্বাভাবে বেড়ে ওঠা রোমশযুক্ত বর্ষজীবী বিরুৎ। উচ্চতায় ৯০ সেমি বা অধিক লম্বা হয়। এদের পাতা অতি মাত্রায় ছিন্ন। পুষ্পবিন্যাস শিরমঞ্জরী, অসম জননকোষী, ব্যাস ৭ সেমি, দীর্ঘ পুষ্পদন্ডবিশিষ্ট, একল, শিথিল সমভুমঞ্জরী, রে-বিশিষ্ট, মঞ্জরী পত্রাবরণ অর্ধগোলাকার। মঞ্জরীপত্র ২-স্তরে সজ্জিত, নিম্নাংশে যমক, ঝিল্লিময়, সরেখ, বহির্দেশীয় গুলি সরু, উপবীরুৎ সদৃশ, পুষ্পধার সমতল, শঙ্কৰ্মীয়, শল্কবর্ম সরু।

প্রান্ত পুষ্পিকা ১-স্তরে সজ্জিত, ক্লীব। মধ্য পুষ্পিকা উভলিঙ্গ, প্রজননক্ষম। প্রান্ত পুষ্পিকার দলগুলি জিহ্বাকৃতি, দলমণ্ডল সমূহে যমক, সাদা গাঢ় রক্তিম লাল, গোলাপি বা রোজী, পরিব্যাপ্ত, ৩-৪টি দস্তুর দলফলক বিশিষ্ট, মধ্য পুষ্পিকার দলগুলি সমাঙ্গ, নলাকার, দলসমূহে যমক, সাদা, হলুদাভ বা রোজী, খর্বভাবে ৫-খন্ডিত দলফলক বিশিষ্ট। পরাগধানী উপাঙ্গ বিশিষ্ট, নিম্নাংশ সূক্ষ্মভাবে ২-দম্ভর, পুংদন্ড রোমশ। উভলিঙ্গ পুষ্পিকার গর্ভদন্ডীয় বাহু সরু, উপরের দিকে পুরু, রোমাবৃত, খর্ব, সূক্ষ্মাগ্র উপাঙ্গ বিশিষ্ট। ফল সিপসেলা ও সরু। দৈর্ঘ্য ৭.০ ও প্রস্থ ১.৫ মিমি। ফল কিছুটা ৫-কোণী, কম বেশী চণুযুক্ত, বৃতি রোম অনুপস্থিত। ফুল ও ফল ধারণ ও ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি।

আরো পড়ুন:  মাকড়শা হুড়হুড়ি উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে আলংকারিক বিরুৎ

ক্রোমোসোম সংখ্যা:

২n = ২৪ (Fedorov, 1969) ।

কসমস ফুলের বংশ বিস্তার ও চাষাবাদ:

কসমসের বীজ লম্বা হয়। বীজের দুই দিক ধারালো হয়। ২৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হয়। সাধারণত নরম মাটিতে গাছ জন্মে। প্রস্তুত করা বীজতলায় জুন মাসের মাঝামাঝি এবং টবে চাষ করতে চাইলে অক্টোবর মাসে বীজ বপনের ব্যবস্থা নিতে হবে। বীজ বপনের পর সামান্য পানির ছিটা দিয়ে মাটি হালকাভাবে চাপ দিয়ে সমান করে দিতে হবে।

গাছ লাগানোর সময় থেকেই পরিচর্যার ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা ভালো ফুল পাওয়া যাবেনা। পানি জমে যাওয়া বা পানি শূন্য হয়ে যাওয়া কোনোটাই কসমস সহ্য করতে পারেনা বিধায় ফুল আহরণ পর্যন্ত প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। গাছ সামান্য বড় হলেই ছোট ছোট চিকন খুটির সাথে গাছগুলিকে বেঁধে দিলে ভালো হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ডাল ছেটে দিতে হবে।[২]

বিস্তৃতি:

উত্তর আমেরিকা ও মেক্সিকোর স্থানীয়। বাংলাদেশে এটি ব্যাপকভাবে বাগানে আবাদ করা হয়।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

বাগানের শীতকালীন শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে চাষ করা হয়। এছাড়াও বাণিজ্যিক ভাবে বাজারজাত করার জন্যও চাষ করা হয়।  

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  কসমস প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে কসমস সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে বাগানে চাষাবাদ করে এর বিস্তার ঘটানো দরকার।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩২২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  কমলা ঢাক লতা ব্রাজিলসহ গোটা দুনিয়ার এক আলংকারিক লতা

২. সিরাজুল করিম আধুনিক পদ্ধতিতে ফুলের চাষ প্রথম প্রকাশ ২০০১ ঢাকা, গতিধারা, পৃষ্ঠা ১০৮-১১০। আইএসবিএন 984-461-128-7

Leave a Comment

error: Content is protected !!