আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বীরুৎ > দুব্বিশাক বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

দুব্বিশাক বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

বিরুৎ

দুব্বিশাক

বৈজ্ঞানিক নাম: Crassocephalum crepidioides (Benth.) S. Moore, J. Bot. 1: 211 (1921). সমনাম: Gynura crepidioides Benth. (1849). ইংরেজি নাম: Redflower Ragleaf. স্থানীয় নাম: দুব্বিশাক, বুড়োর চুল/টেওলাং (চাকমা)
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Tracheophytes. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Asterales পরিবার: Asteraceae. গণ: Crassocephalum. প্রজাতি: Crassocephalum crepidioides.

ভূমিকা: দুব্বিশাক (বৈজ্ঞানিক নাম: Crassocephalum crepidioides) বাংলাদেশের সব জেলাতেই জন্মে। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে।

দুব্বিশাক-এর বর্ণনা:

লম্বভাবে অবস্থিত বীরুৎ, কাণ্ড সরেখ বা মাকড়সার জালসদৃশ, সরল বা শাখা বিন্যাসিত, ৭০-৭৫ সেমি এর অধিক লম্বা। পত্র উপবৃত্তাকার-বিবল্লমাকার, সবৃন্তক বা অর্ধবৃন্তক;

পত্রফলক ২-১৪ x ০.৫-৫.৫ সেমি, নিম্নাংশে ক্রমান্বয়ে সরু, ১-২ জোড়া, তুরপুন আকার বা আয়তাকার সূক্ষ্মাগ্র পার্শ্ব খন্ড বিশিষ্ট মূলক পত্রাকারে খন্ডিত, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র বা খর্বভাবে দীর্ঘাগ্র, প্রান্ত স্থূলাগ্রভাবে বা অসমভাবে ক্রকচ-দম্ভর, মসৃণ।

পুষ্পবিন্যাস শিরমঞ্জরী, অনূর্ধ্ব ৮ সেমি লম্বা, পুষ্পদন্ড বিশিষ্ট পত্রময় অনিয়তাকার পুষ্পবিন্যাসে অবস্থিত, মঞ্জরী পত্রাবরণ বেলনাকার বা কলসাকৃতি, ব্যাস অনুর্ধ্ব ১ সেমি ও দৈর্ঘ্য ১.২ সেমি লম্বা।

মঞ্জরীপত্র রৈখিক থেকে বল্লমাকার, ১-৪ মিমি লম্বা, বৃতি সদৃশ, মঞ্জরীপত্র মুক্ত, ফ্যাকাশে সবুজ, অধিকতর অন্তর্বর্তী গুলি স্বতন্ত্র, শুষ্ক ঝিল্লিসদৃশ প্রান্ত বিশিষ্ট, অণুরোমশ।

পুষ্প গাঢ় কমলা, মাঝে মধ্যে গোলাপি থেকে কমলা-হলুদ। দলমণ্ডল পিড়কা। আকুতি খন্ডবিশিষ্ট ০.৮ সেমি লম্বা, অনুর্ধ্ব ৯ মিমি লম্বা। গর্ভদণ্ড গর্ভদন্ডীয় বাহু বিশিষ্ট।

ফল সিপসেলা, আয়তাকার ৩-৪ মিমি লম্বা, হালকা অণুরোমশ, বৃতিরোম রোমশ, অনুর্ধ্ব ৯ মিমি লম্বা।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ৩৬ (Fedorov, 1969)।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

শুষ্ক মাটি, বালিময় মাটি, ক্ষুদ্র নদীর কূল, পাহাড়ের আর্দ্র ঢালু, বনাঞ্চলের বালুময় ভূমি, বনাঞ্চলীয় পাহাড়ের পাদদেশ এবং রাস্তার ধারে জন্মে। ফুল ও ফল ধরে সেপ্টেম্বর থেকে মে মাস (সম্ভবত সারা বৎসর জুড়ে)।

আরো পড়ুন:  লাল পাথরকুচি গাছের বহুবিধ ভেষজ ব্যবহার, গুণাগুণ ও উপকারিতা

দুব্বিশাক-এর বিস্তৃতি:

গ্রীষ্মমন্ডলীয় আফ্রিকার স্থানীয়। বর্তমানে পৃথিবীর গ্রীষ্মমন্ডলীয় সীমানাভুক্ত অঞ্চলসমূহে আগাছা হিসেবে জন্মে। বাংলাদেশে এটি সারা দেশ জুড়ে পাওয়া গেছে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) দুব্বিশাক প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে দুব্বিশাক সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির চাষাবাদ প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩২৪-৩২৫ আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Gió Đông (thảo luận)

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page