আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বীরুৎ > পাহাড়ি পানিতিরা পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ

পাহাড়ি পানিতিরা পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ

উদ্ভিদ

পাহাড়ি পানিতিরা

বৈজ্ঞানিক নাম: Dicliptera bupleuroides Nees in Wall., Pl. As. Rar. 3: 111 (1832). সমনাম: Justicia chinensis auct. non L. (1830), Dicliptera roxburghiana auct. non Nees (1867). ইংরেজি নাম: Thorowax Foldwing. স্থানীয় নাম: পাহাড়ি পানিতিরা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Lamiales. পরিবার: Acanthaceae. গণ: Dicliptera প্রজাতির নাম: Dicliptera bupleuroides

ভূমিকা: পাহাড়ি পানিতিরা (বৈজ্ঞানিক নাম: Dicliptera bupleuroides) এক প্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে।

পাহাড়ি পানিতিরা-র বর্ণনা:

খাড়া, ৩০-৬০ সেমি লম্বা, রোমশ পল্লব যুক্ত, অনেক শাখাবিশিষ্ট বীরুৎ। পাতা ১.৫-৬.০ x ০.৬-১.০ সেমি, উপবৃত্তাকার, ডিম্বাকৃতি থেকে বল্লমাকার, সূক্ষ্মাগ্র, অখন্ড, নিম্নাংশ কীলকাকৃতি, পাতলা নরম রোমশ থেকে মসৃণ, পত্রবৃন্ত ৪-৭ মিমি লম্বা। পুষ্প ১.৩-১.৭ সেমি লম্বা, কাক্ষিক এবং প্রান্তীয় গুচ্ছ নিয়ত, অবৃন্তক বা অর্ধবৃন্তক কিঞ্চিৎ রক্তাভযুক্ত গোলাপি। মঞ্জরীপত্র ৫-১০ মিমি লম্বা, বিভিন্ন আকৃতির, বিডিম্বাকৃতি, উপবৃত্তাকার-দীর্ঘায়ত বা রৈখিক-বল্লমাকার, সামান্য রোমশ, ১ বা ৩ শিরাবিশিষ্ট, কীলকাকার, অখন্ড, লাগ্র থেকে সূক্ষ্মাগ্র, সুক্ষ্ম খবাগ্র বা সূক্ষ্ম খর্বাগ্র নয়, মঞ্জরীপত্রিকা রৈখিক-বল্লমাকার, বৃতির খন্ডের প্রায় সমান লম্বা।

বৃতি ৫-খন্ডিত, খন্ড গুলো সমান, রৈখিক-বল্লমাকার, সুক্ষ্মাগ্র, ৬-১০ মিমি লম্বা, রোমশ। দলমণ্ডল নল সরু, ৭-৮ মিমি লম্বা, দলফলক ৮-৯ মিমি লম্বা, গভীরভাবে ২-ওষ্ঠবিশিষ্ট, উপরের ওষ্ঠ অখন্ড, নিচের ওষ্ঠ ৩-খন্ডিত, ভিতরের দিক বাঁকানো, বাইরের দিক রোমশ। পুংকেশর ২টি, পরাগধানীর কোষগুলো ডিম্বাকৃতির, উপরিস্থাপিত, স্থলাগ্র। গর্ভাশয় ৪-ডিম্বকবাহী, গর্ভদণ্ড সূত্রাকার, সামান্য দ্বিখন্ডিত। ফল ক্যাপসিউল, ৭ মিমি লম্বা, মুষলাকৃতি, প্রায় ক্ষুদ্রদণ্ড বিশিষ্ট অণুরোমশ বা মসৃণ। বীজ ছোট, ১-২ x ১ মিমি, বাদামি সুস্পষ্টভাবে গুটিকাকার।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ২৬, ৫২ (Kumar and Subramaniam, 1986)

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: পাহাড়ী অঞ্চল। ফুল ও ফল ধারণ জুন-অক্টোবর মাস।

আরো পড়ুন:  ভুঁই আমলা গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বর্ষজীবী গুল্ম

পাহাড়ি পানিতিরা-র বিস্তৃতি:

দক্ষিণ এশিয়া থেকে ইন্দো-চীন এবং পশ্চিম চীন। বাংলাদেশে এই প্রজাতিটি বান্দরবান, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ব্যবহার: টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পাহাড়ি পানিতিরা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, উদ্ভিদের আবাসস্থান ধ্বংসের কারণ বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে পাহাড়ি পানিতিরা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটি রক্ষার জন্য আবাসস্থল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ বেগম (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২০-২১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Tabish

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
error: Content is protected !!