কালো গোল আলু অরণ্যে জন্মানো বিরুৎ

বিরুৎ

কালো গোল আলু

বৈজ্ঞানিক নাম: Dioscorea melanophyma Prain & Burkill, Proc. Asiat. Soc. Bengal 4: 452 (1908). সমনাম: Dioscorea tenii. ইংরেজি নাম: Black-Bulb Yam. স্থানীয় নাম: কালো গোল আলু।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Monocots. বর্গ: Dioscoreales. পরিবার: Dioscoreaceae. গণ: Dioscorea প্রজাতির নাম: Dioscorea melanophyma

ভূমিকা: কালো গোল আলু (বৈজ্ঞানিক নাম: Dioscorea melanophyma) এক প্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে।

কালো গোল আলু-এর বর্ণনা:

প্যাচানো বীরুৎ, গ্রন্থিক গোলাকার থেকে করতলাকার-খন্ডিত, কান্ড বাম দিকে বাকানো, রোমশ বিহীন, নিচের মূলীয় অংশ কন্টাকিত। পত্র কন্দ ক্ষুদ্র, আচিলযুক্ত, মটর আকৃতির। পত্র একান্তর, ৩-৫ ফলক যুক্ত, সর্বত্র সাদা রোমে আবৃত, প্রায়শই উপরের অংশ রোমশ বিহীন, মধ্যম পত্রক দৃঢ় মধ্য শিরাল, সরু, উপবৃত্তাকার, সাধারণত ক্ষুদ্রতর, ৫.০-৯.৫ x ২.০-৩.৫ সেমি, পার্শ্বীয় পত্রক ৩.০-৭.৫ x ১-২ সেমি, ২-শিরাল, বৃন্ত ২.৫-৫.০ সেমি।

পুংপুষ্পবিন্যাস প্যানিকুলেট বা রেসিমোস বা উভয়, একই বা ভিন্ন অক্ষে জন্মে। প্যানিকল প্রান্তীয় বা প্রতি অক্ষে ১-২, মঞ্জরী অক্ষ ১৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা, সাদা রোমশ, রেসিম ১.২-১.৬ সেমি লম্বা, ১০-২০ টি পুষ্প বিশিষ্ট, রোমশ বিহীন, মঞ্জরীপত্রিকা ১-২ x ০.৭ মিমি, রোমশ বিহীন, পুষ্পবৃন্ত ০.৩-০.৫ মিমি, রোমশ, পুষ্পপুটাংশ ঋজু কিন্তু শীর্ষভাগ সামান্য ঝুলন্ত, বহিস্থ রসালো, সাধারণত রোমশ বিহীন, অন্তস্থ পুষ্প পুটাংশ। ১.০-০.৮ মিমি, রোমশ বিহীন, পুংকেশর ২ টি, মুক্ত, পুংদন্ড ০.৬ মিমি, পরাগধানী ০.৩-০.৪ মিমি।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

গৌণ অরণ্য বিশেষ করে পাহাড়ী ঢাল। ফুল ও ফল ধারণ সময় অক্টোবর-ডিসেম্বর। গ্রন্থিকন্দ থেকে বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি:

ভারত (কাশ্মীর ও খাসিয়া পাহাড়), নেপাল, ভুটান ও চীন। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলা থেকে এটি রিপোর্ট করা হয় (Rahman et al., 199৪)।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১১ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) কালো গোল আলু প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি সংকটের সম্ভবনা নাই। বাংলাদেশে কালো গোল আলু সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটি রক্ষার জন্য স্বস্থানে ও স্বস্থানের বাইরে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন:  খেসারি এশিয়ায় জন্মানো সহজলভ্য ভেষজ উদ্ভিদ

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান ও এস সি দাস (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১১ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩১৪-৩১৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Nidhan Singh

Leave a Comment

error: Content is protected !!