ছোট পঙ্খীরাজ বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মানো পরাশ্রয়ী প্রজাতি

ফার্ন

ছোট পঙ্খীরাজ

বৈজ্ঞানিক নাম: Drynaria quercifolia (L.) J. Sm. in Hook. J. Bot. 3: 398 (1841). সমনাম: Polypodium quercifolia L. (1753). ইংরেজি নাম: বার্ড-নেস্ট ফার্ন, হলি ফান। স্থানীয় নাম: ছোট পঙ্খীরাজ, পঙ্খীরাজ।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Polypodiophyta. অবিন্যাসিত: Polypodiopsida. বর্গ: Polypodiales. পরিবার: Polypodiaceae. গণ: Drynaria প্রজাতির নাম: Drynaria quercifolia.

ভূমিকা: ছোট পঙ্খীরাজ (বৈজ্ঞানিক নাম: Drynaria quercifolia) এক প্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে সর্বত্রে জন্মে এই ভেষজ প্রজাতিটি।

ছোট পঙ্খীরাজ-এর বর্ণনা:

একটি পরাশ্রয়ী, দ্বিরূপী ফার্ন। গ্রন্থিক ১.৫ সেমি পুরু, সরস, তরুণ অংশ ঘনভাবে শল্কযুক্ত, শল্ক খুব গাঢ় বাদামী, প্রায় ১.৫-২.০ সেমি লম্বা, ক্রমাগত সরু, গোড়া ঢালাকৃতি, শীর্ষ অত্যন্ত সরু, শক্ত নয়, প্রান্ত হালকা বর্ণের এবং কাছাকাছি সূক্ষ্ম দস্তুর। পাতা দুই প্রকার, ফলিয়েজ (foliage) এবং নেস্ট (nest), নেস্ট পাতা ৪০ সেমি লম্বা, ৩০ সেমি চওড়া, ২-৫ সেমি গভীরে খন্ডিত, গোলাকার এবং বিভিন্ন আকারের। ফলিয়েজ পাতার পত্রদন্ড প্রায় ৩০ সেমি লম্বা। পত্রফলক প্রায় ১০০ সেমি লম্বা এবং ৪০ সেমি। চওড়া মধ্যশিরা হতে ১ সেমি এর কমে খন্ডিত, খন্ড তীর্যক, ২৫ সেমি লম্বা, এবং ৪-৫ সেমি চওড়া, সামান্য দীর্ঘাগ্রী, সরু সাইনাস দ্বারা পৃথকীকৃত, পাতলা কিন্তু শক্ত, বয়ণ চর্মবৎ। প্রধান শিরা তীর্যক, সাধারণতঃ ৬-৮ মিমি দূরে দূরে, সামান্য আঁকাবাঁকা, আড়াআড়ি শিরা সুস্পষ্ট, অনেক ছোট এরিওল এবং অল্প মুক্ত শিরা বিশিষ্ট। সোরাসগুলি প্রধান শিরার সংযোগস্হলে, গোলাকার আকৃতির, পূর্ণতায় আয়তাকার ।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ৩৬ (Hennipman et al., 1990)

আবাসস্থল ও বংশবিস্তার: বৃক্ষে পরাশ্রয়ী। গ্রন্থিক এবং রেণু দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি: শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া হতে পলিনেশিয়া, গ্রীষ্মমন্ডলীয় অস্ট্রেলিয়া। সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত (Mirza and Rahman, 1997)

ছোট পঙ্খীরাজ-এর অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৫ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ছোট পঙ্খীরাজ প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি আশংকামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ছোট পঙ্খীরাজ সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটি বাগানে চাষ করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন:  খুশি ফুল ভারতে জন্মানো উপকারী বিরুৎ

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ মহল মির্জা (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৫ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩২৭ আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Obsidian Soul

Leave a Comment

error: Content is protected !!