খাড়া মুরালি ছোট আকৃতির ভেষজ বিরুৎ

খাড়া মুরালি

বৈজ্ঞানিক নাম: Eranthemum strictum Coleb. ex Roxb., FI. Ind. 1: 114 (1832).সমনাম: Daedalacanthus strictus T. Anders. (1867). ইংরেজি নাম: জানা নেই. স্থানীয় নাম: খাড়া মুরালি, নীল বাসক।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae, বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. অবিন্যাসিত: Asterids.বর্গ: Lamiales.পরিবার: Acanthaceae. গণ: Chromolaena প্রজাতি: Eranthemum strictum.

ভূমিকা: খাড়া মুরালি (বৈজ্ঞানিক নাম: Eranthemum strictum) অ্যাান্থেসিস গণের এ্যারান্থেমাম পরিবারের একটি গুল্ম। এই প্রজাতি পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে ও ভেষজ কাজে এর ব্যবহার বেশি হয়।

খাড়া মুরালি-এর বর্ণনা:

খাড়া মুরালি ছোট আকারের বিরুৎ। এদের গোড়ায় বড় পাতা যুক্ত থাকে। উপরের দিক সুবিন্যস্তভাবে পত্রময়। গোড়ার পাতাগুলি ১৪-১৯ X ৪.৫-৬.৭ সেমি, মূলের দিকে সরু, ছোট পত্রবৃন্তযুক্ত, ২-৩ মিমি লম্বা, অর্ধ-অখন্ড, র‍্যাফাইড অস্পষ্ট, উপরের অংশ প্রায় ৪.০-৪.৫ সেমি লম্বা, নিম্নাংশ কখনও গোলাকার।

স্পাইক ১৫-২৭ সেমি লম্বা, রৈখিক, বিভক্ত, যা রোমশ বৃহৎ যৌগিক মঞ্জরীতে পরিণত,। মঞ্জরীপত্র ২-৩ সেমি লম্বা, সরুভাবে উপবৃত্তাকার, স্থূলা, বীরুৎ সদৃশ, অধিকাংশই বৃতিকে অতিক্রম করে, সবুজ, মঞ্জরীপত্রিকা ২.৮-৪.০ সেমি লম্বা, রৈখিক-বল্লমাকার। বৃতি ৫-৭ সেমি লম্বা, আধা-আধিভাবে বিভক্ত, খন্ড বল্লমাকার। দলমণ্ডল ৯ থেকে ১২ সেমি লম্বা, কখনও রোমশ। পুংকেশর মসৃণ, পরাগধানী অন্তর্ভুক্ত। গর্ভাশয় ২ মিমি লম্বা, গর্ভদণ্ড ১.৯-২.০ মিমি লম্বা, রোমশ। ফল ক্যাপসিউল, ২.০-২.৫ সেমি লম্বা, গ্রন্থিযুক্ত-রোমশ। বীজ ৩-৫ X ৩ মিমি, চাপা, গাঢ় চকলেট থেকে কালো ও রোমশ।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ:

শুষ্ক স্থানে ভালভাবে জন্মে। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল জানুয়ারি থেকে মে মাস। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি:

ভারত ও বাংলাদেশে এই প্রজাতি জন্মে। বাংলাদেশের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, শরিয়তপুর, সিলেট এবং ঢাকা জেলা থেকে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) খাড়া মুরালি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে খাড়া মুরালি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। 

আরো পড়ুন:  মহাশতাবরী বা সফেদমুসলি এশিয়ায় জন্মানো উপকারী উদ্ভিদ

তথ্যসূত্র ও টীকা:

১. মমতাজ বেগম (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা ২৭-২৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Sobhapati Samom

Leave a Comment

error: Content is protected !!