দুপুরমনি বা বনঢুলি বাগানে চাষযোগ্য আলংকারিক বর্ষজীবী বীরুৎ

ভূমিকা: দুপুরমনি (বৈজ্ঞানিক নাম: Pentapetes phoenicea ইংরেজি: Noon Flower, Mid Day Flower, Scarlet Mallow, Copper Cup) ম্যালভাসি পরিবারের,  পেন্টাপেটিস গণের একটি এক প্রকারের বিরুৎ। এটি এশিয়ার দেশসমূহে ভালো জন্মে। ফুল ফোটার মৌসুমে গাছ লাল ফুলে ভরে যায়।

বৈজ্ঞানিক নাম: Pentapetes phoenicea L., Sp. Pl. 2: 698 (1753). সমনাম: Pentapetes angustifolia Blume (1825). ইংরেজি নামঃ Noon Flower, Mid Day Flower, Scarlet Mallow, Copper Cup. স্থানীয় নাম: দুপুরমনি, বনঢুলি। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Malvales. পরিবার: Malvaceae. গণ: Pentapetes প্রজাতির নাম: Pentapetes phoenicea

বর্ণনা:

দুপুরমনি বর্ষজীবী বীরুৎ। এর উচ্চতা ১-২ মিটার পর্যন্ত হয়। এই প্রজাতির বাকল মসৃণ, সবুজাভ-বাদামী, সামান্য ছড়ানো তারকাকার লোমযুক্ত। পাতা সরল, একান্তর, দৈর্ঘ্য ৩-১৪ সেমি ও প্রস্থ ০.৫-১.৫ সেমি। পাতা দেখতে রৈখিক-বল্লমাকার, শীর্ষ সূক্ষ্মা, গোড়া স্থুলাগ্র অথবা কীলকাকার, কিনারা করাত দন্তযুক্ত, উপরে মসৃণ, শিরার নিবতল তারকাকার লোমযুক্ত, পত্রবৃন্তক ১-১০ মিমি লম্বা, লোমযুক্ত, উপপত্রযুক্ত।

দুপুরমনির ফুল লাল, ১-৩ অক্ষীয় গুচ্ছে বিন্যস্ত। দুপুরের দিকে ফুল ফোটে এবং পরের দিন ভোরে বন্ধ হয় বা ঝরে পড়ে। এদের বৃত্যংশ ৫টি, মূলীয় অংশে সংযুক্ত, বাইরের দিকে সরল কুৰ্চের সাথে তারকাকার নোম মিশ্রিত থাকে। ফুলের পাপড়ি ৫টি, দেখতে বিডিম্বাকার, শীর্ষ গোলাকার অথবা কর্তিতাগ্র। ৩টি পুংকেশর ৫টি গ্রুপে ৫টি বন্ধ্যা পুংকেশরের সাথে একান্তর।

গর্ভাশয় ডিম্বাকার, ৫-প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, লোমযুক্ত, প্রতি প্রকোষ্ঠে ডিম্বক অসংখ্য, গর্ভদন্ড সরু, অবিভাজিত, গর্ভমুন্ড ৫টি। ফল একটি ক্যাপসিউল, উপগোলাকার, ৫-কপাটিকাবিশিষ্ট, বিদারণ কোষ্ঠীবিদারী। বীজ ৮-১২টি, উপবৃত্তীয়, পক্ষহীন।[১]

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ৭৬ [২]

দুপুরমনি গাছের বংশ বিস্তার ও চাষাবাদ:

বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে। আর্দ্র জায়গা, ধান ক্ষেত, নদীর তীরে নরম মাটিতে জন্মে। বাগানের শোভাবর্ধনের জন্য লাগানো হয়। দুপুরমনি মূলত বর্ষা মৌসুমি ফুল। সিঁদুরলাল রঙের গন্ধহীন ফুল বর্ষা ও শরতে ফোটে। দুপুরমনি গাছের জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন নেই। এই গাছের ফুল ও ফল ধারণ আগষ্ট থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

বিস্তৃতি:

শ্রীলঙ্কা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, আমেরিকা এবং কিউবা। বাংলাদেশে অনেক বাগানে আবাদ করা হয়।

দুপুরমনি গাছের ভেষজ গুণ:

ফলের নির্যাস শীতলকারক। মিউসিলেজিনাস ফল অন্ত্রের অসুস্থতায় ব্যবহার করা হয়। মূল রক্তরোধক, খিটখিটে মেজাজ প্রতিরোধক, বাতাস সৃষ্টি কমায়, জ্বরে প্রদান করা হয়। (Sinha, 1996)। ইহা আবার শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে জন্মে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  দুপুরমনির প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে দুপুরমনির প্রজাতিটি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে বাগানে চাষাবাদ করে এর বিস্তার ঘটানো দরকার।[১]  

তথ্যসূত্র:

১ এম আহসান হাবীব (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৪৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0 ২. Kumar, V. and Subramaniam,, B. 1986 Chromosome Atlas of Flowering Plants of the Indian Subcontinent. Vol.1. Dicotyledons Botanical Survey of India, Calcutta. 464 pp.

আরো পড়ুন:  কাঁটানটে বা কান্টানুটিয়া উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের ভেষজ বিরুৎ

Leave a Comment

error: Content is protected !!