রেউচিনি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উদ্ভিদ

অন্যান্য নাম

ভেষজটির সংস্কৃত নাম- পীতমূলা, অপর্ণী; বাংলায নাম- রেউচিনি, হিন্দিতে- রেবন্দচীনী, রেউচিনি প্রভৃতি বিভিন্ন নামে পরিচিত। এর বোটানিক্যাল নাম Rheum australe, Rheum emodi Wall., ফ্যামিলী-Polygonaceae. সমগ্র বিশ্বে এই গণের প্রজাতির সংখ্যা ২০টি। এদের মধ্যে ভারতে হিমালয় প্রদেশে পটি পাওয়া যায়। ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ—– কন্দমূল।

বিবরণ:

রেউচিনি হল এমন একটি উদ্ভিদ। গাছ ৪ থেকে ৫ ফুট লম্বা, শক্ত, দেখতে অনেকটা এদেশের মানকচু গাছের মত। লম্বা ডাঁটার সঙ্গে যুক্ত হৃৎপিণ্ডাকৃতি পাতা, গোড়ার দিকের পাতা অপেক্ষাকৃত বেশ বড়, নিচের দিকটা রোমশ। যার ফুল গাঢ় লালচে-বেগুনি রঙের, ঘন শাখা-প্রশাখাযুক্ত, লম্বা পুষ্পমঞ্জরীতে যা ১ ফুট লম্বা হতে পারে। পুষ্পমঞ্জরীতে ফলের পরিমাণ অনেক বেশি। উদ্ভিদটির ডালপালা মোটা, ডোরাকাটা সবুজ এবং বাদামী, ১.৫-২ মিটার উঁচু। পাতাগুলি গোলাকার এবং হৃদয় আকৃতির ভিত্তি। বেসাল পাতাগুলি বেশ বড় হতে পারে, ৬০ সেমি পর্যন্ত প্রশস্ত।

বিস্তৃতি:

রেউচিনি হিমালয়ে, লাহৌল থেকে নেপাল, ভুটান, দক্ষিণ তিব্বত পর্যন্ত, ৩২০০-৪২০০ উচ্চতায় পাওয়া যায়। জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে এর ফুল ও ফল হয়।

ব্যবহার:

গাছের কাঁচা ডাঁটা চিরে শুকিয়ে বিনুনির মত পাকানো অবস্থায় ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে। এছাড়াও শিশুদের সর্দি, জ্বর সারাতে প্রয়োগ হয়। অজীর্ণ, অতিসার, অগ্নিমান্দ্য, অরুচি, মলবদ্ধতা ও শীতপিত্ত রোগে ব্যবহার্য। দুষ্টক্ষতে চূর্ণ লাগালে উপকার হয়।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ৮৭-৯০।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Vinayaraj

Leave a Comment

error: Content is protected !!