মহাশতাবরী বা সফেদমুসলি এশিয়ায় জন্মানো উপকারী উদ্ভিদ

মহাশতাবরী বা সহস্রবীর্যা ‘সফেদমুসলি’ নামেও পরিচিত। কারণ মহাশতাবরীর শুকনা মূলই সফেদ মুসলি। যদিও-বা সফেদমুসলি নামে আরও কয়েকটি গাছের মূল বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যায়, তথাপি অধিকাংশ উদ্ভিদবিদ্‌গণের মতে মহাশতাবরীর অর্থাৎ Asparagus adscendens Roxb.-এর মূলই আসল সফেদমুসলি।

পরিচিতি:

কাঁটা-যুক্ত খানিকটা সোজা কাণ্ডবিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণতঃ পশ্চিম হিমালয়ের বিভিন্ন স্থানে এবং পাঞ্জাব ও কুমায়ুন অঞ্চলে ৫০০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত স্থানে এটি জন্মে। কাণ্ড লম্বা ও শক্ত, মসৃণ, সাদা, প্রচুর ডালপালা বিশিষ্ট, কাঁটা শক্ত ও লম্বা, বেশ বড় বড়, থেকে ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা। পুষ্পদণ্ডের তলার দিকের ফুল আগে ফোটে এবং ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে ফুটতে থাকে। পুষ্পদণ্ডের গোড়ায় অতি ক্ষুদ্র শল্কপাতা থাকে। ফলে একটি মাত্র বীজ থাকে। মূল সাদা ও কন্দাল। সাধারণতঃ শুকনো মূল ইঞ্চি লম্বা ও ইঞ্চি মোটা হয়। হাতির দাঁতের মতো সাদাটে রং, প্রায়ই পাকানো, চঙ্গুর, শুকনো মূল জলে ফেললে ফুলে গিয়ে মাকুর মত দেখায়। মহাশতাবরী বা সহস্রবীর্যা বা সফেদ মুসলি হলো Asparagus adscendens Roxb. গাছের মূল। এটি Liliaceae পরিবারের গাছ।

মহাশতাবরী বা সফেদমুসলি-এর অন্যান্য নাম:

দক্ষিণ ভারতে সফেদ মুসলি নামে, যেটি পাওয়া যায়, সেটি Asparagus গণের অন্য একটি প্রজাতির গাছের মূল, সেটির নাম A. sarmentosus Linn. আবার উত্তর ভারতের কোন কোন অঞ্চলে Chlorophytum arundinaccum Baker নামক গাছের গুচ্ছাকার মূলকে সফেদ মুসলি বলে। সবগুলি অবশ্য Liliaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ভুলক্রমে একে শতাবরী/ সফেদ মুসলি বলা হয়।

মহাশতাবরীর কন্দাল মূল কামোদ্দীপক গুণ-সম্পন্ন । মূলে Saponin নামক যে দ্রব্যটি পাওয়া যায়, তা শরীরের অনেক রকম অপ্রয়োজনীয় জীবাণু নাশ করে। উত্তর প্রদেশের কুমায়ুন অঞ্চলে এই গাছের মূল দিয়ে আচার তৈরী করে থাকে। গাছ তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। এটি অনেক গুণ-সম্পন্ন।

গুণপনা:

মূল পিচ্ছিল, স্নিগ্ধ, বলকর, স্তন্যবর্ধক, পুষ্টিকর, শরীর ও মনের স্ফূর্তিকারক ; উদরাময়, আমাশা ও সাধারণ দুর্বলতা নাশক। মূলের মধ্যে ফ্যাট, প্রোটিন, কার্বহাইড্রেটস্‌ স্যাপোনিন্‌স প্রভৃতি আছে। এছাড়া এটি কামোদ্দীপক ও জীবাণুনাশক গুণ-সম্পন্ন।

আরো পড়ুন:  খয়ের গাছ-এর নানাবিধ ভেষজ প্রয়োগ ও গুণাগুণ

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ২৪৫-২৪৬।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Seema Bin Zeenat

Leave a Comment

error: Content is protected !!