আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > গুল্ম > বরথুরথুরি দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ ও বাণিজ্যিক গুল্ম

বরথুরথুরি দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ ও বাণিজ্যিক গুল্ম

গুল্ম

বরথুরথুরি

বৈজ্ঞানিক নাম: Boehmeria glomerulifera Miq. in Zoll., Syst. Verz. Ind, Archip. 101, 104 (1854). সমনাম: Urtica malabarica Wall. (1831), Boehmeria malabarica Wedd. (1856), Boehmeria glomerulifera Miq. var. leioclada W. T. Wang (1981). ইংরেজি নাম: Malabar Tree Nettle স্থানীয় নাম: বরথুরথুরি।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Rosales. পরিবার: Urticaceae. গণ: Boehmeria প্রজাতির নাম: Boehmeria glomerulifera

ভূমিকা: বরথুরথুরি (বৈজ্ঞানিক নাম: Boehmeria glomerulifera, ইংরেজি: Malabar Tree Nettle) Urticaceae পরিবারের এক প্রকারের ছোট বৃক্ষ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশে জন্মে।

বরথুরথুরি-এর বর্ণনা:

গুল্ম বা ছোট বৃক্ষ, ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু, শাখাপ্রশাখা বেলনাকার, রোমশ বা রোমহীন। পত্র একান্তর, উপপত্র বল্লমাকার, ৪-৮ মিমি লম্বা, আশুপাতী,

পত্রবৃন্ত ২-৬ সেমি লম্বা, রোমশ বা রোমহীন, পত্রফলক ডিম্বাকার, উপবৃত্তাকার-আয়তাকার বা অর্ধ-উপবৃত্তাকার, ৫-২০ x ৩১০ সেমি,

গোড়া গোলাকার বা স্থূলা, শীর্ষ লম্বা-দীর্ঘাগ্র, গোড়ার নিকট সামান্য অংশ ছাড়া প্রান্ত গোলাকার দন্তর করাত দপ্তর, ঝিল্লিময়, রোমহীন এবং কখনো উপরিভাগ চৌখুপী কুঞ্চিত, নিম্নভাগ কোমল রোমশ, পার্শ্বীয় শিরা ২৩ জোড়া, মূলীয়টি লম্বা, শক্ত।

পুষ্প ভিন্নবাসী, ক্ষুদ্র, সবুজাভ-সাদা, ছোট কাক্ষিক, প্রধান শাখায় বৃন্তহীন গুচ্ছ। পুংপুষ্প: পাপড়ি ৪-খন্ডিত, খন্ডক প্রান্ত আচ্ছাদী, সিংসদৃশ উপবৃদ্ধিযুক্ত,

পুংকেশর খন্ডকের সমান সংখ্যক, বন্ধ্যা। পুংকেশর ক্ষুদ্র। স্ত্রীপুষ্পঃ পাপড়ি নলাকার, মুখ যুক্ত, ৪দপ্তর, বন্ধ্যা পুংকেশর অনুপস্থিত, গর্ভাশয় পাপড়ির অন্তর্ভূক্ত, গর্ভমুন্ড সূত্রাকার, স্থায়ী।

ফল ডিম্বাকার একিন, উপবৃত্তাকার, সূক্ষ্মাগ্র, রোমশ পাপড়ি দ্বারা ঘন অধিষ্ঠিত।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

সমগ্র চিরহরিৎ এবং মিশ্র চিরহরিৎ বনের ছায়াময় এলাকা। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল জানুয়ারি-মার্চ। বীজ এবং কান্ডের শাখাকলম দ্বারা।

বিস্তৃতি:

ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয় পেনিনসুলা, ইন্দো-চীন এবং থাইল্যান্ড। বাংলাদেশের সিলেট (Alam, 1988) এবং কক্সবাজার (Uddin and Rahman, 1999) জেলার বনে পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন:  নীল উষ্ণমণ্ডলীয় এশিয়া ও আফ্রিকার গুল্ম

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: বাষ্ট ফাইবার থেকে দড়ি তৈরী করা হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বরথুরথুরি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে বরথুরথুরি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এম আমান উল্লাহ (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪২০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Prashant Awale

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page