করমচা এশিয়ার অপ্রচলিত টক ফল

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]বৈজ্ঞানিক নাম: Carissa carandas L., Mant. 1: 52 (1767). সমনাম: Arduina carandas (L.) Baill.; Arduina carandas (L.) K. Schum.; Capparis carandas (L.) Burm.f.; Carissa salicina Lam.; Echites spinosus Burm.f.; Jasminonerium carandas (L.) Kuntze; Jasminonerium salicinum (Lam.) Kuntze ইংরেজি নাম: Bengal currant, Christ’s thorn, carandas plum and karanda. স্থানীয় নাম: করমচা। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants শ্রেণী: Eudicots উপশ্রেণি: Asterids বর্গ: Gentianales পরিবার: Apocynaceae গণ: Carissa প্রজাতি: : Carissa carandas L.)[/otw_shortcode_info_box]

বিবরণ: করমচা (বৈজ্ঞানিক নাম: Carissa carandas) এপোসিনাসি পরিবারের কেরিসা গণের একটি কন্টকযুক্ত, ঝোপালো গুল্ম বা ছোট বৃক্ষ। এরা দুগ্ধবত তরুক্ষীর বিশিষ্ট, কাঁটা সাধারণত সরল, ১.০-২.৫ সেমি লম্বা। পত্র অর্ধ-বৃন্তক, পত্রফলক ৩.৫-৬.৫ x ২.৫-৩.০ সেমি, বিডিম্বাকার, উপবৃত্তাকার বা আয়তাকার, অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপরে প্রশস্ততম, নিম্নাংশে কীলকাকার, শীর্ষ স্থূলাগ্র।

এদের পুষ্পদণ্ড ১.৫-২.০ সেমি লম্বা। পুষ্পবৃন্তিকা দৈর্ঘ্যে প্রায় বৃতির সমান বা কিঞ্চিৎ দীর্ঘতর। পুষ্প সাদা, গন্ধবিহীন। বৃতি খন্ড ২-৩ মিমি লম্বা, বহির্দেশ অণুরোমশ। দলমণ্ডল নল অনূর্ধ্ব ১.৮ সেমি লম্বা। ফল প্রায় ২ সেমি লম্বা, পরিপক্ক অবস্থায় লালাভ-রক্তিম। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে মার্চ থেকে নভেম্বর মাসে।

করমচার ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ২২ (Kumar and Subramaniam, 1986)।

চাষাবাদ ও আবাসস্থল: বাগানে চাষাবাদ করা হয়। বীজ এবং কাণ্ডের কাটিং দ্বারা এদের বংশবিস্তার করা যায়।

বিস্তৃতি: ভারত, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও শ্রীলংকা। বাংলাদেশে ইহা দেশের বেশীরভাগ অঞ্চলে জন্মানো হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: করমচার ফল কোষ্ঠবর্ধক, মূল হৃদযন্ত্রের বলকারক ঔষধ বিশেষ, শীতাদরোগ প্রতিষেধক, পাকস্থলীর শক্তি যোগানকারক (অগ্নিবর্ধক) এবং ক্রিমিনাশক। মূল চারটি সক্রিয় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াকারক যৌগ ধারণ করে- ক্যারিসন, পি-সাইটোষ্টিরল, ট্রাইটারপিন এবং ক্যারিনডন (Ghani, 2003). করমচার কাঁচা ফল খাওয়া হয় এবং আচার তৈরীর জন্য ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন:  অন্তমূল গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় এশিয়ার লম্বা প্যাচানো গুল্ম

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) করমচা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে করমচা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে শীঘ্র সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৯২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!