ছাতিদণ্ডী উপকারী ভেষজ গুল্ম

ছাতিদণ্ডী

বৈজ্ঞানিক নাম: Ceropegia angustifolia Wight. Contr. Bot. Ind: 31 ( 1834). সমনাম : Ceropegia longifolia sensu Huber (1957). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: ছাতিদণ্ড। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Gentianales  পরিবার: Apocynaceae গণ: Ceropegia  প্রজাতি: Ceropegia angustifolia.

ভূমিকা: ছাতিদণ্ডী (বৈজ্ঞানিক নাম: Ceropegia angustifolia) হচ্ছে অ্যাপোনিয়াস পরিবারের কেরোপেজিয় গণের একটি সপুষ্পক গুল্ম। এটিকে পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে। অনেকে শোভাবর্ধনের জন্য লাগায়।

ছাতিদণ্ডী-এর বর্ণনা:

বৃহৎ প্যাচানো গুল্ম। কাণ্ড ও শাখা সরু, পাতলাভাবে রোমশ। পত্র সংকীর্ণভাবে দীর্ঘায়িত, বল্লমাকার, দীর্ঘাগ্র, পত্রফলক ৭-৯ x ০.৮-১০ সেমি, উপরিভাগ রোমশ, মধ্যশিরা ও প্রান্ত ব্যতীত অঙ্কীয় পৃষ্ঠ মসৃণ। পুষ্পবিন্যাস স্বল্প-পুষ্পী সাইম, পাতলাভাবে রোমশ, পুষ্পদন্ড ২-৩ সেমি লম্বা, পুষ্পবৃত্তিকা ০.৮-১.২ সেমি লম্বা। বৃতি খন্ড ৫-৭ মিমি লম্বা, রৈখিক-বল্লমাকার, সূক্ষ্মাগ্র, কচি অবস্থায় মসৃণ বা পাতলাভাবে রোমশ।

দলমণ্ডল অনূর্ধ্ব ৪ সেমি লম্বা, নল ১.৫-২.০ সেমি লম্বা, নিম্নাংশ স্ফীত, খন্ড ৭-১০ মিমি লম্বা, উপবৃত্তাকার-আয়তাকার, মসৃণ। বহির্দেশীয় কিরীট খন্ড ১০টি, প্রায় ২ মিমি লম্বা, পুংকেশরীয় স্তম্ভকে অতিক্রম করে, রোমশ, অধিকতর অন্তর্বর্তী কিরীট খন্ড ৫টি, প্রায় ৪ মিমি লম্বা, রৈখিক, সোজা, মসৃণ। ফলিক্যাল দেখা যায় না। ফুল ও ফল ধারণ: আগষ্ট-ডিসেম্বর। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই ।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ:

এই প্রজাতিটি উন্মুক্ত তৃণভূমি এবং ঝোপে জন্মে। পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে। ফুল বাগানের, বাড়ির শোভা বাড়ায় বলে অনেকে বেলকনিতে টবে লাগায়। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে।

ছাতিদণ্ডী-এর বিস্তৃতি:

বাংলাদেশ ও ভারতে সীমাবদ্ধ (Rahman and Wilcock, 1995)। বাংলাদেশে ইহা সর্বপ্রথম ১৮৩০ সালে Wallich দ্বারা সিলেট জেলা হতে বর্ণনাকৃত হয়েছে এবং তখন হতে এখন পর্যন্ত আর কোন সংগ্রহের কথা বর্ণিত হয়নি।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ছাতিদণ্ডী প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের আবাসস্থল সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ছাতিদণ্ডী সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির স্থান চিহ্নিত করে সংরক্ষণ প্রয়োজন ।

আরো পড়ুন:  লাল পাথরকুচি গাছের বহুবিধ ভেষজ ব্যবহার, গুণাগুণ ও উপকারিতা

তথ্যসূত্র ও টীকা:

১. এম আতিকুর রহমান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা ২৩৯-২৪০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি researchgate.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম:  Dr. K. Prasad

Leave a Comment

error: Content is protected !!