হাসনাহেনা মিষ্টি গন্ধযুক্ত শোভাবর্ধক উদ্ভিদ

উদ্ভিদ

হাসনাহেনা

বৈজ্ঞানিক নাম: Cestrum nocturnum L., Sp. Pl.: 191 (1753). ইংরেজি নাম: Night Jasmine. স্থানীয় নাম: হাসনাহেনা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Solanales পরিবার: Solanaceae গণ: Cestrum প্রজাতি: Cestrum nocturnum

ভূমিকা: হাসনাহেনা বা হাছনাহেনা  (বৈজ্ঞানিক নাম: Cestrum nocturnum, ইংরেজি নাম: Night Jasmine) হচ্ছে সোলানাসি পরিবারের কেস্ট্রাম গণের একটি সপুষ্পক গুল্ম। এটিকে বাংলাদেশে সুগন্ধি আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবে বাগানে বা গৃহে চাষাবাদ করা হয়। এই গুল্মটি বাড়ির টবে বা বাগানের শোভাবর্ধন করে।

বর্ণনা: হাছনাহেনা ঘনভাবে শাখান্বিত গুল্ম। এর উচ্চতা ২.৭ মিটার পর্যন্ত উঁচু। শাখা গোলাকার, খুব সরু, মসৃণ অথবা প্রায় মসৃণ হয়ে থাকে।

পাতার দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ সেমি এবং প্রস্থ ৩ থেকে ৫ সেমি। উপবৃত্তাকার, অখন্ড, দীর্ঘা, মসৃণ, পত্রবৃন্ত প্রায় ১ সেমি লম্বা।

পুষ্পবিন্যাস সরু বৃন্তযুক্ত রেসিম অথবা প্যানিকল। পুষ্প ১.৫-২.০ সেমি লম্বা, নলাকার, সবুজাভ-সাদা। হাছনাহেনার ফুল রাতে ফুটে। খুব সুগন্ধযুক্ত, পুষ্পবৃন্তিকা ০.২-০.৩ সেমি লম্বা। বৃতি প্রায় ০.৩ সেমি লম্বা, খন্ডক স্থূলাগ্র, অতি সূক্ষ্মভাবে লোমযুক্ত। দলমন্ডলের নালি প্রায় ১.৫ সেমি লম্বা, খন্ডক ০.২-০.৩ সেমি লম্বা।

গর্ভাশয় ২ কোষবিশিষ্ট, মসৃণ, গর্ভদন্ড প্রায় ১.৫ সেমি লম্বা, গর্ভমুন্ড মুন্ডাকার। ফল একটি স্পঞ্জি বেরী, ০.৫-১.০ x ০.৫-০.৭ সেমি, ডিম্বাকার-আয়তাকার, পরিপক্কতার সময় মাখনের মতো সাদা। বীজ সামান্য অথবা একটিতে হ্রাস পায়, প্রায় ০.৫ সেমি লম্বা, নৌকাকৃতি, কাল। ফুল ও ফল ধারণ: জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাসে এর ফুল ও ফল ধরে। ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ১৬ (Fedorov, 1969)।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ: সর্বজনীনভাবে বাগানে এবং বসতবাড়ির কাছে আবাদ করা হয়। কান্ডের শাখা কলম করে নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি: ওয়েষ্ট ইন্ডিজের স্থানীয়। বাংলাদেশে সর্বত্র আবাদ করা হয়। অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্বের দিক থেকে এর খুব মিষ্টি গন্ধযুক্ত ফুলের জন্য শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসাবে বেশ চাহিদা আছে।

আরো পড়ুন:  কামিনী দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সাদা সুগন্ধি ফুল বিশিষ্ট ছোট দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষ

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  হাছনাহেনা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের সংকটের কারণ উচ্চ প্রজাতি দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে হাছনাহেনা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে বাগানে অধিক আবাদের উৎসাহ করা যেতে পারে এর সৌন্দর্যের কারণে।[১]

তথ্যসূত্র:                             

১.  এম মতিয়ুর রহমান  (আগস্ট ২০১০)”অ্যা নজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  , জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৯৮ । আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Vinayaraj

Leave a Comment

error: Content is protected !!