সাদা শালপানি বা সাদা শালপর্ণী দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ উদ্ভিদ

ভেষজ উদ্ভিদ

সাদা শালপানি

বৈজ্ঞানিক নাম: Desmodium laxiflorum DC., Ann. Sci. Nat, Paris Ser 1, 4; 100 (1825), সমনাম: Desmodium diffusum DC. (1825), Meibomia laxiflora (DC.) O. Kuntze (1891). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: সাদা শালপানি
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Fabales. পরিবার: Fabaceae. গণ: Dalbergia প্রজাতির নাম: Desmodium laxiflorum

ভূমিকা: সাদা শালপানি বা সাদা শালপর্ণী (বৈজ্ঞানিক নাম: Desmodium laxiflorum) এক প্রকারের সপুষ্পক ভেষজ গুল্ম। এদেরকে শোভা বর্ধনের জন্য লাগানো হয়।

সাদা শালপানি-এর বর্ণনা:

সাদা শালপানি খাড়া ছোট গুল্ম, ৬০-১৫০ সেমি লম্বা, শাখা। অস্পষ্টভাবে কোণাকার, ছোট ঘন রোম দ্বারা আচ্ছাদিত। পত্রক ১০-১৫ সেমি লম্বা, ডিম্বাকার, উপবৃত্তাকার, প্রশস্ত বল্লমাকার অথবা আয়তাকার, সূক্ষ্মাগ্র বা অর্ধস্থুলাগ্র ঝিল্লিময় অথবা অর্ধ-চর্মবৎ, উপরিভাগ মসৃণ, নিম্নভাগ সূক্ষ্ম রোম দ্বারা আবৃত, পত্রবৃন্ত ২-৭ সেমি লম্বা, রেসিম ঘনভাবে সন্নিবেশিত, অক্ষীয় এবং প্রান্তীয়, শেষেরটি প্রায়শই যৌগিক, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৫ সেমি লম্বা।

পুষ্প অনেক, পুষ্পবৃত্তিকা ৫-১০ মিমি লম্বা, ছড়ানো, মঞ্জরীপত্র সূক্ষ্ম , রেখাকার, তুরপুনাকার। বৃতি ২-৪ মিমি লম্বা, ঘনভাবে রোমশ, দত্তক বল্লমাকার, নালিকা অপেক্ষা দীর্ঘ। দলমণ্ডল ৬-৮ মিমি লম্বা। ফল পড জাতীয়, ২-৪ সেমি লম্বা, ৬-১০টি সন্ধিযুক্ত, সূক্ষ্ম রোম দ্বারা আবৃত, উভয়পৃষ্ঠ আংশিক তরঙ্গিত।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২০ = ২২ (Kumar and Subramaniam, 1986)

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: পাহাড়ী এলাকা। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল আগস্ট-ডিসেম্বর।

বিস্তৃতি:

ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের চট্রগ্রাম, বাগেরহাট, ফরিদপুর এবং নোয়াখালী জেলায় পাওয়া যায়।

সাদা শালপানি-এর অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৮ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) এই শালপর্ণী প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি আশংকা মুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে সাদা শানপানি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটি বর্তমানে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন নাই।

আরো পড়ুন:  পাহাড়ি ভাঁট বা ঘেঁটু একটি ভেষজ দৃষ্টিনন্দন ফুল

তথ্যসূত্র:

১. এ টি এম নাদেরুজ্জামান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৮ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৭৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!