লালপাতা পৃথিবীর উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে চাষাবাদকৃত শোভাবর্ধক উদ্ভিদ

ভূমিকা:  লালপাতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Euphorbia pulcherrima ইংরেজি: Hiptage) এটি ইউফরবিয়াসি পরিবারের ইউফরবিয়া  গণের কাঁটাযুক্ত গুল্ম। বাড়িতে বা বাগানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হয়।

বৈজ্ঞানিক নাম: Euphorbia pulcherrima Willd. ex Klotz., Neue Allg. Deutsche Garten-Blumenzeit. 2: 27 (1834). সমনাম: Poinsettia pulcherrima (Willd. ex Klotz.) Grah. (1836). ইংরেজি নাম: Flaming Sphere, Poinsettia. স্থানীয় নাম: লালপাতা।

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Magnoliophyta. বর্গ: Malpighiales. পরিবার: Euphorbiaceae. গণ: Euphorbia.প্রজাতি:Euphorbia pulcherrima.   

বর্ণনা:

নরম কাষ্ঠল গুল্ম, সাধারণত ২ মিটার উঁচু, চারা অবস্থায় সঞ্চয়ী রসালো মূল বিদ্যমান, কান্ড ঋজু, শাখান্বিত। পত্র একান্তর, বৃন্ত ২.৫-৫.০ সেমি লম্বা, পত্রফলক উপবৃত্তাকার ডিম্বাকার, দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ১৪ ও প্রস্থ ৩ থেকে ৭ সেমি, শীর্ষ স্থূল দীর্ঘা, মূলীয় অংশ কীলকাকার, অখন্ড বা তরঙ্গিতদপ্তর, পার্শ্বীয় শিরা ২০ জোড়া, উপরের পৃষ্ঠ অর্ধ-রোমশ এবং গাঢ় সবুজ এবং নিচের পৃষ্ঠ সামান্য রোমশ ও ফ্যাকাশে।

উপপত্র অবৃন্তক, গ্রন্থিল, পত্র সবৃন্তক, বৃন্ত ১-৩ সেমি লম্বা, পত্রফলক উপবৃত্তাকার-বিভল্লাকার, দৈর্ঘ্য ৫ থেকে ১৩ ও প্রস্থ ১ থেকে ৩ সেমি, শীর্ষ দীর্ঘা, মূলীয় অশ সরু অখন্ড, পার্শ্বশিরা ১২ জোড়া। সায়াথিয়া প্রান্তে গুচ্ছবদ্ধ, শীর্ষ দীর্ঘাগ্র, পুনরাবৃত্তি ত্রিছটাকার, সিওডো-প্লিকেসিয়া ৭-৯ x ৬-৮ মিমি, হলুদাভ। গর্ভদন্ড মূলীয় অংশে যুক্ত, ৫ মিমি লম্বা, ২খন্ডিত। ফল গোলাকৃতি-ত্রিকোণাকার, আকার ১.৫ x ১.৫ সেমি, মসৃণ, রোমশ বিহীন। বীজ ডিম্বাকার, ১০ x ১০ মিমি, মসৃণ, কেরাঙ্কল যুক্ত।

ক্রোমোসোম সংখ্যা:

2n = ২৮, ৫৬ (Fedorov, 1969).

বংশ বিস্তার ও চাষাবাদ:  

বংশ বিস্তার হয় বীজের মাধ্যমে। ফুল ও ফল ধারণ ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস। উদ্যানের আলংকারিক ফুল হিসেবে খুব জনপ্রিয়। বেড়া দেয়ার জন্য ও বাহারি উদ্ভিদ রূপে ব্যবহার করা হয়।

বিস্তৃতি:

আদিনিবাস মেস্কিকো, পৃথিবীর উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে চাষাবাদ হয়। বাংলাদেশের সর্বত্র চাষাবাদ করা হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  লালপাতা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে লালপাতা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. বুশরা খান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪৩৯-৪৪০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি.দ্র: ছবিটি নেওয়া হয়েছে উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে। আলোকচিত্রী: Dimple Bheemani

আরো পড়ুন:  বরথুরথুরি দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ ও বাণিজ্যিক গুল্ম

Leave a Comment

error: Content is protected !!