গন্ধরাজ রুবিয়াসি পরিবারের গার্ডেনিয়া গণের উষ্ণাঞ্চলের একটি সুগন্ধি ফুল

ভূমিকা: গন্ধরাজ (বৈজ্ঞানিক নাম: Gardenia jasminoides ইংরেজি: gardenia, cape jasmine, cape jessamine, danh-danh, বা jasmin) হচ্ছে রুবিয়াসি পরিবারের গার্ডেনিয়া গণের বৃহৎ আকারের একটি সপুষ্পক গুল্ম। এর মিষ্টি গন্ধের কারণে মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয়।

বৈজ্ঞানিক নাম: Gardenia jasminoides. সমনাম: Gardenia angustifolia Lodd. Gardenia augusta Merr. nom. illeg. Gardenia florida L. nom. illeg. Gardenia grandiflora Lour. Gardenia grandiflora Siebold ex Zucc. nom. illeg. Gardenia longisepala (Masam.) Masam. Gardenia maruba Siebold ex Blume Gardenia pictorum Hassk. Gardenia radicans Thunb. Gardenia schlechteri H.Lév. nom. illeg. Genipa florida (L.) Baill. Genipa grandiflora (Lour.) Baill. Genipa radicans (Thunb.) Baill. Jasminum capense Mill. Warneria augusta L. nom. inval. ইংরেজি নাম: gardenia, cape jasmine, cape jessamine, danh-danh, বা jasmin. স্থানীয় নাম: গন্ধরাজ। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Gentianales পরিবার: Rubiaceae গণ: Gardenia প্রজাতি: Gardenia jasminoides

গন্ধরাজ গুল্মের বর্ণনা:

গন্ধরাজ সুগন্ধি ফুল বিশিষ্ট্য ও বৃহৎ গুল্ম আকৃতির উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে এটাতে ফুল ফোটে।এটাকে ছাটায় না করে বাড়তে দিলে প্রায় ২ থেকে ৩ মিটার উঁচু হয়। পাতা তির্যক ও উপরের ত্বক চকচকে,  উপরের পত্রবৃন্তের সন্নিবেশের উপরিভাগে পাতলা আবরণ দ্বারা আবৃত, পত্রবৃন্ত দেড় সেমি লম্বা। এদের ফুল বোঁটায় একটি করে ধরে, ফুলে পাপড়ি ৬ থেকে ৯টি থাকে। সুগন্ধি এই ফুল উভলিঙ্গ হতে পারে বা বন্ধ্যাও হতে পারে।

বৃতি খন্ডক ৬ থেকে ৯টি, দেখতে আয়তাকার থেকে বল্লমাকার। পাপড়ি সাদা বর্ণের হয়, বাহিরের দিক থেকে ৬-৯টি অংশে ভাগ করা, ভিতরের বিভক্তি ছোট। পুংকেশর ৫টি হলেও পরাগধানী প্রায় বৃন্তহীন থাকে। বোঁটার নল থেকে সামান্য বহির্মুখী হয়। গর্ভাশয় ১-প্রকোষ্ঠী, গর্ভদন্ড মুষলাকার গর্ভমুন্ডবিশিষ্ট, আংশিক বহির্মুখী। এদের পরাগধানী হলুদ বর্ণের হয়।

ফল স্থায়ী বৃতি দ্বারা আবৃত থাকে। ফল দেখতে ডিম্বাকার হলেও বেশি বড় নয় বাহিরের দিকটা কিছুটা খাঁজযুক্ত। ফল ছোট হয় এবং সেটা দৃশ্যমান উজ্জ্বল কমলা-লাল বর্ণের।  বীজ অসংখ্য হয় ও সেটা রসালো এবং আঁশযুক্ত অংশে নিহিত। স্ত্রীকেশর দ্বিগুণপুষ্পক দ্বারা গঠনের কারণে সামান্য স্থায়ী, তবে যেটা দুর্বল ফল সেটা বীজবিহীন হয়।[১]

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২২ [৪]

গন্ধরাজ গুল্মের বংশ বিস্তার ও চাষবাস:

সমভূমিতে এই বৃহৎ গুল্ম জন্মে। গন্ধরাজ কষ্টসহ্য করতে পারে। ছায়াযুক্ত স্থানে এই গাছ ভালভাবে টিকে থাকতে পারে। জুলাই মাসে চারা রোপণ করা হয়। কাটিং বা শাখা-কলম, দাবা-কলম অথবা মাতৃউদ্ভিদ থেকে শিকড়সহ চারা বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হয়। বর্ষাকালে পানি দেওয়ার তেমন দরকার নেই তবে আগাছা পরিষ্কার, গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে।

জানুয়ারি মাসে গাছের ডালের ছাটায় করতে হয়। নরম কান্ড ও শাখায় ফুল আসে বলে সার প্রয়োগ করতে হয়। জানুয়ারি মাসে ডাল ছাটায়ের পরে একবার ও জুলাই মাসে আরো একবার সার দিতে হয়। গাছের কান্ডের শাখার কলম করে সহজেই নতুন চারা হয়।[২][৩] গন্ধরাজ গাছে মার্চ থেকে জুলাই মাসে ফুল ধরে। সন্ধ্যা বেলা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ফুলের সুগন্ধের তিব্রতা থাকে।[১] বসন্তকালের শুরু থেকেই ফুল ফুটতে শুরু করে বর্ষাকাল পর্যন্ত ফুটে থাকে।[৩]

বিস্তৃতি:

চীন এবং জাপানে স্বদেশী উদ্ভিদ এটি। সমগ্র উষ্ণমন্ডলে আবাদ বা লাগানো হয়। বাংলাদেশে প্রায় সর্বত্র বাগানে আবাদ করা হয়।[১]

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্বের দিক:

গন্ধরাজ উদ্ভিদ পর্যায়বৃত্তরোধী, রেচক-ঔষধ এবং অণুজীবরোধী। মূল পেটের অসুখ, স্নায়বিক গোলযোগ এবং মৃগীরোগে প্রয়োগ করা হয় (Yusuf and Begum, 2003). বাগানের উদ্ভিদ হিসেবে ব্যাপকভাবে আবাদী। ফলের কোমল রসালো আঁশযুক্ত অংশ হলুদ রঙ উৎপন্ন করে। পুষ্প থেকে উদ্বায়ী তৈল উৎপন্ন হয় [৫]

গন্ধরাজ গুল্মের অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) গন্ধরাজ প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে গন্ধরাজ সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান এবং এস সি দাস (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. ড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ফুলের চাষ প্রথম সংস্করণ ২০০৩ ঢাকা, দিব্যপ্রকাশ, পৃষ্ঠা ১০৬। আইএসবিএন 984-483-108-3

৩. সিরাজুল করিম আধুনিক পদ্ধতিতে ফুলের চাষ প্রথম প্রকাশ ২০০১ ঢাকা, গতিধারা, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৯। আইএসবিএন 984-461-128-7

৪. Kumar, V. and Subramaniam,, B. 1986 Chromosome Atlas of Flowering Plants of the Indian Subcontinent. Vol.1. Dicotyledons Botanical Survey of India, Calcutta. 464 pp.  

৫. Deb, D.B. 1983. The Flora Of Tripura State, Vol. 2. Today and Tomorrow’s Printers and Publishers, New Delhi. 601 pp.

আরো পড়ুন:  বাংলাদেশের তেরোটি জনপ্রিয় আবাদি দৃষ্টিনন্দন আলংকারিক বর্ষার সুগন্ধি ফুল

Leave a Comment

error: Content is protected !!