নীল উষ্ণমণ্ডলীয় এশিয়া ও আফ্রিকার গুল্ম

নীল গাছ বাংলা নাম: নীল,

অন্যান্য স্থানীয় নাম: নিলিনী, রঞ্জনী, গ্রামিনিয়া, কালোকেশী, নীলপুষ্প, মধুপত্রিকা

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae

বিভাগ: Magnoliophyta

শ্রেণী: Magnoliopsida

বর্গ: Fabales

পরিবার: Fabaceae

উপপরিবার: Faboideae

গোত্র: Indigofereae

গণ: Indigofera

প্রজাতি: Indigofera tinctoria Linn.

পরিচিতি: নীল গুল্ম জাতীয় এক প্রকারের উদ্ভিদবহু বর্ষজীবি গাছ কিন্তু একসময় বর্ষজীবি হিসেবে চাষ করা হতো। প্রাচীনকালে মিশর, গ্রিস ও রোমের লোকেরাও নীলের কথা জানতোমিশরের ১৮তম রাজবংশের মমিগুলি নীল রং এর কাগজে মোড়া থাকতো

ভেষজ গুণ: এই গাছের ভেষজ গুনও বিদ্যমানপ্রাচীন ভারতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নীলের আছে প্রশস্তিআধুনিক কবিরাজি চিকিৎসায় নীলে শিকড় ও পাতার নানা অসুখে ব্যবহৃত হয়বৈদ্যরা গাছকে হুপিং কফ নিবারক, বক্ষ ও মূত্রাশয়ের রোগ, বুক ধড়ফড়ানি, প্লীহা ও যকৃতবৃদ্ধি রোগে ব্যবহার করতে নির্দেশ দেন। পাতার রস মৃগীরোগীর জন্য উপকারী

নীল রং তৈরির পদ্ধতি: গাছ কেটে বড় কড়াইতে পানির মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখলে তা থেকেসবুজ রং এর নির্যাস রের হয়এরপর এই নির্যাস নতুন পাত্রে ঢেলে এই দ্রবনকে কাঠি দিয়ে অনেক ক্ষণ নাড়তে হয় যাতে নীল বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে এর ফলে অদ্রাব্য নীলের তলানী নীচে জমা হয় এবং পরে তা পৃথক করে শুকিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়ইন্ডিগোটিন ছাড়া তাতে অন্যান্য পদার্থ থাকে তার মধ্যে ইন্ডিরুবাইনম, ইন্ডিগো গ্রীন ও ইন্ডিগো ব্রাউন

বিস্তৃতি: বর্তমানে রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় সবুজ সার ও ভূমিতে নাইট্রোজেন সরবরাহের জন্য এরকিছু চাষ হয়ে থাকে। এছাড়াও রংপুর জেলায় প্রাকৃতিক রঙ হিসেবে এর চাষ হচ্ছেএটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদ এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি অংশে প্রাকৃতিকৃত হয়ে উঠেছে, তবে তার আদি আবাসটি অজানা কারণ এটি বহু শতাব্দী ধরে বিশ্বব্যাপী চাষাবাদে পরিণত হয়েছে।

আরো পড়ুন:  বুটি ডুমুর বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ গুল্ম

বিবিধ: বাংলা ভূখন্ডে Indigofera গণে ১৫ প্রজাতির গাছ জন্মেতার মধ্যে indigofera tinctoria নীল রং এর চাষ করা হতো ভারতেপৃথিবীতে Indigofera গণে ৭০০ প্রজাতির গাছ আছে।

উপমহাদেশে নীলের ইতিহাস: এই উপমহাদেশের মাটি নীল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় বৃটিশ নীল করেরা বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করে নীল চাষেনদীয়া, যশোর, বগুড়া, রংপুর প্রভৃতি জেলায় নীলচাষ ব্যাপক ভাবেকরা হতোউনিশ শতকের শেষের দিকে নীলচাষ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় কৃষকরা ধান ও পাট চাষের দিকে ঝুকে পড়েবৃটিশ নীলকরেরা অত্যাচার আর নিপীড়নের মাধ্যমে নীল চাষে বাধ্য করলে ১৮৫৯-৬০ সালে নীল চাষীরা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে এর পরে বাংলায় নীল চাষ ক্রমে বিলুপ্ত হয়এছাড়া ১৮৮০ সালে অ্যানিলিন আবিষ্কৃত হওয়ায় এর চাহিদা কমে যায়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!