তিসি তেল ও আঁশ উৎপাদনকারী উপকারি গুল্ম

গুল্ম

তিসি

বৈজ্ঞানিক নাম: Linum usitatissimum, সমনাম: Linum crepitans (Boenn.) Dumort., Linum humile Mill. Linum indehiscens (Neilr.) Vavilov & Elladi ইংরেজি নাম: common flax, linseed. স্থানীয় নাম: তিসি।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Magnoliophyta. বর্গ: Malpighiales. পরিবার: Linaceae. গণ: Linum. প্রজাতি: Linum usitatissimum

ভূমিকা: তিসি (বৈজ্ঞানিক নাম: Linum usitatissimum ইংরেজি নাম: common flaxlinseed) হচ্ছে লিনাসি পরিবারের লিনুম গণের সপুষ্পক গুল্ম উদ্ভিদ। তিসির চাষ করা হয় তেল ও সুতা তৈরির জন্য।

বিবরণ: তিসি গাছ ৩০ থেকে ৮০ সেঃ মিঃ পর্যন্ত উঁচু হয়। এই প্রজাতির ফুল নীল, সাদা বা হালকা গোলাপী বর্ণের হয়।  এটি অতি প্রাচীনকাল হতে ভারতবর্ষে ব্যবহৃত ও চাষ হয়ে আসছে। মনুসংহিতা আইন আকবরী প্রভৃতি গ্রন্থেও তিসির বর্ণনা দেখতে পাওয়া যায়। প্রাচীন কালে থেকে এটার চাহিদা আছে। বর্তমানে তিসি হতে তেল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিসির গাছ সংগ্রহের পরে গাছগুলো থেকে সুতা তৈরি করা হয়।

শ্বেত ও ধূসর বর্ণের তিসি দেখতে পাওয়া যায়। শ্বেত তিসি হতে তৈল বেশী পরিমাণ হয়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের জমিতে তিসির চাষ হয়। এরমধ্যে বাংলায়, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নোয়াখালী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ জেলায় তিসির চাষ হয়ে থাকে। দোয়াশ মাটিতে তিসি ভাল হয়। শুধু বেলে মাটিতে এর চাষ ভাল হয় না। চুনের ভাগ বেশী থাকলে ছোলা ও মসিনা একসঙ্গে বোনা ভালো।

চাষাবাদ: বর্ষা কমে গেলে ভাদ্রের শেষে আশ্বিনের প্রথমে ঘন ঘন চাষ দিয়ে বীজ বপন করতে হবে। জমি আর্দ্র থাকতে থাতে বীজ বপন করা উচিত। নীচু আমনের জমিতে ধান কেটে কাদার ভিতর ছিটিয়ে বুনলেও তিসি জন্মাবে। তিসির ফুলে বৃষ্টির পানি লাগলে বড় ক্ষতি হয়।

ফাল্গুন ও চৈত্রে এটি পাকে। যখন গাছের নীচের পাতা ঝরে যায় এবং গাছে ফুল থাকে না তখনই তিসি পেকেছে বুঝতে পারা যাবে। এক বিঘায় তিন চারি মণ পর্যন্ত তিসির ফলন পাওয়া যায়। গাছগুলি হতে সূতা হয়।

আরো পড়ুন:  রাজ ঢেকিয়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভেষজ ফার্ন

ব্যবহার: তিসির তেল ছাপার কালী, বার্ণিশ, নরম সাবান ইত্যাদি শিল্পে লাগে। চেয়ার, টেবেল, জানালা, দরজা ইত্যাদি রং করিয়ে এই তৈল ব্যবহার হয়। তিসির গাছ আশ সংগ্রহের করার জন্য উদ্ভিদের কান্ড পানির নিচে প্রায় ৭-২১ দিন রাখতে হয়। এরপরে আঁশ সংগ্রহ করা হয়। জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহ করার নিয়ম ঠিক পাট হতে আঁশ সংগ্রহের মতো।

তথ্যসূত্রঃ

১. ডা: শ্রীযামিণী রঞ্জন মজুমদার: খাদ্যশস্য, মি: বি ছত্তার, কলকাতা, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৫১, পৃষ্ঠা, ৮৭-৮৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!