কলকাসুন্দা ঔষধি গুল্মের দশটি গুণাগুণ ও প্রযোগ

কলকাসুন্দা ঔষধি গুল্ম। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Senna occidentalis Linn, পরিবার Leguminosae. এই গাছের পাতার শির, গাছের উপরের অংশটা একটু বেগুনি রঙের হয় বলেই একে বলে কালো কাসুন্দে। এদের ঔষধ হিসাবে ব্যবহার নিম্নে উল্লেখ করা হলো। কলকাসুন্দা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন

কলকাসুন্দা দক্ষিণ এশিয়ার ঔষধি গুল্ম

১. অরুচিতে: এ অরুচির ক্ষেত্রে থাকে পিত্ত শ্লেষ্মার দোষ, তার প্রধান লক্ষণ থাকবে জিভটা ফাটা ফাটা এবং জিভের ধারটা লাল; কিছু খেলেই জ্বালা করে আর মুখে কিছুতেই যেন রুচি হয় না; এক্ষেত্রে কালো বা সাদা কাসুন্দের পাতা অল্প লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে তবে জল ফেলার দরকার নেই; তা ঘিয়ে সাঁতলে ৮ থেকে ১০ গ্রাম আন্দাজ শাকের মতো ভাতের সঙ্গে খেলে ২ থেকে ৩ দিনেই অরুচিটা সেরে যাবে; কিন্তু বেশি খেলে পেটে বায়ু হওয়ার ভয় থাকে, সুতরাং অল্প খাওয়াই ভালো।

২. গলা ভাঙ্গায়: যে গলা ভাঙ্গায় মাঝে মাঝে ফাটা কাঁসির মতো সবার বেরোয়, আবার একদম বসে যায়, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে এটাতে কফের সঙ্গে পিত্তেরও যোগ আছে; এক্ষেত্রে এর পাতা ও ফুল দুটোয় মিলিয়ে ১০ গ্রাম আর শুষ্ক হলে ৩ গ্রাম ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে প্রত্যহ সকালে ও বিকালে অধোকটা করে দুইবারে সমস্তটা খেতে হবে। তবে এর সঙ্গে এক চা চামচ করে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো হয়।

৩. গলা বুক জ্বালায়: চোরা অম্বলরোগে কালোকাসুন্দের ফুলে চূর্ণ এক বা দেড় গ্রাম মাত্রায় সকালে ও বিকালে জলসহ খেলে সমস্যাটি সেরে যাবে।

৪. পাতলা দাস্ত: এদের দাস্ত বারে বারে হবে, গন্ধ বিশেষ নেই, রংও হলুদ, নোনতা জিনিস খাওয়ার ঝোঁক বেশি, এক্ষেত্রে কালো কাসুন্দের পাতার রস এক চা চামচ একটু গরম করে খেতে দিলে ওটা সেরে যাবে। তবে সাবধানে না থাকলে আবার আসবে।

আরো পড়ুন:  বচ বিরুৎ-এর নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি

৫. হুপিং কাসি: কালোকাসুন্দের পাতার মিহি চূর্ণ চিনির রসে পাক করে ৩ থেকে ৪ গ্রাম ওজনের লজেন্সের মতো পাকিয়ে রাখতে হবে। প্রতিদিন সকালে একটা ও বিকালে একটা চুষে খেতে হবে, এটা চুষে খেলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কাসির দমকটা কমে যাবে।

৬. মুর্ছা যাওয়া: হঠাৎ কোনো কারণে মুর্ছিত হয়ে পড়লে, সেক্ষেত্রে কালোকাসুন্দের পাতার রস এক চা চামচ খাইয়ে দিতে হবে আর ২ থেকে ১ ফোঁটা রস নাকে দিতে হয়। এর দ্বারা তখনই মুর্ছা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

৭. বিষম জ্বর: ঘুস ঘুসে জ্বর হলেও খাওয়ায় অরুচি নেই, আর জ্বর আসার এবং সময়েরও ঠিক নেই, আস্তে আস্তে হাত পা সরু হতে থাকে; পেটটাও বড় হয়, শিরা বেরোয়, গুঠলে মল, আয়না পেলেই তাঁরা দাঁতের ময়লা আর দাঁতের ফাঁক দেখে; এদের এই ঘুসঘুসে জ্বরে কালোকাসুন্দের শিকড়ের ছালকে বেটে, মটরের মতো বড়ি করে রাখতে হবে। প্রতিদিন পানি দিয়ে সকাল ও বিকাল খেতে হবে।

৮. হাঁপানি: কালোকাসুন্দের মূলের ছাল শুকিয়ে সুরাসারে ভিজিয়ে এ্যালকোহল একসট্রাক্ট করতে হবে। সেই টিঞ্চার ৫ ফোঁটা করে প্রতিদিন জলসহ সকালে ও সন্ধ্যায় দুই বার খেতে হবে; যাঁদের একজিমা আছে, তার সঙ্গে হাঁপানি, সেক্ষেত্রে এটি ভাল কাজ করে।

৯. গ্রীষ্মের ফসল: শরীরে লাল চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠে, এক্ষেত্রে কালোকাসুন্দের পাতার রস করে গায়ে মাখলে ওটা সেরে যায়, এমন কি ছোটখাটা দাদও সেরে যাবে।

১০. নালী ঘায়ে: নালী ঘায়ে অথবা পচা ঘায়ে বা এই জাতীয় দূষিত ঘায়ে কালোকসুন্দের মূলের ছাল যতটা তার ৩ গুণ পাতা নিতে হবে, আর গাওয়া ঘি এই দুইয়ের দ্বিগণ আর জল নিতে হবে ঘিয়ের দ্বিগুণ অর্থাৎ মূলের ছাল যদি এক তোলা হয়, পাতা নিতে হবে ৩ তোলা আর ঘি নিতে হবে ৮ তোলা এবং জল ১৬ তোলা। প্রথমে ঘি চড়িয়ে নিষ্ফেন হলে তারপর ঐ ঘি নামিয়ে, একটু ঠান্ডা হলে ঐ পাতা ও ছাল বাটা ঐ ঘিয়ে দিয়ে একটু নেড়েই ঐ জলটা দিয়ে পাক করতে হবে। (এখানে একটা বলে রাখি, পর্বে এই পাতা ও ছালটি শিলে মসল্লা বাটার মত বেটে রাখতে হবে।) তারপর মৃদু জ্বালে ওটাকে পাক করে জলটা মরে গেলে, নামিয়ে ঘি ছেঁকে নিতে হবে। এই ঘি তুলোয় করে লাগাতে হবে।

আরো পড়ুন:  বচ বাংলাদেশের জলাভূমিতে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

রাসায়নিক গঠন

(a) Emodin, oxymethyl anthraquinones, toxalbumin, mucilage, chrysarobin. (b) Tannic acid. (c) Fatty oil.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ      

১. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য: ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা,১৫৬-১৫৮।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: J.M.Garg

Leave a Comment

error: Content is protected !!