রাং চিতা বাংলাদেশ এবং ভারতের বাগানে চাষযোগ্য ঔষধি ও আলংকারিক গুল্ম

ভূমিকা:  রাং চিতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Pedilanthus tithymaloides,  ইংরেজি নাম: Jew’s Slipper) হচ্ছে Phyllanthaceae পরিবারের,  Pedilanthus গণের আলংকারিক গুল্ম। এই গুল বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের বাগানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হয়।

বৈজ্ঞানিক নাম: Pedilanthus tithymaloides Poit. সমনাম নাম: Euphorbia tithymaloides L. (1753). ইংরেজি নাম: Jew’s Slipper. স্থানীয় নাম: বেলটিসিজ, বেরাচিতা, রাং চিতা। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. অবিন্যাসিত: Rosids. বর্গ: Rosales. পরিবার: Phyllanthaceae. গণ: Pedilanthus. প্রজাতি: Pedilanthus tithymaloides Poit.

বর্ণনা:

রাং চিতা রসালো গুল্ম, আকারে প্রায় আড়ায় মিটার লম্বা হয়। তরুণ বিটপ। এটি কচি অবস্থায় অণুরোমশ, পরিণত অবস্থায় রোমশ বিহীন পত্র সোপপত্রিক, উপপত্র, গাঢ় বাদামী, বৃন্ত ৪-১০ মিমি লম্বা। পত্রফলক ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকৃতি-ডিম্বাকার। পাতার দৈর্ঘ্য ৩-১৪ ও প্রস্থ ১-৮ সেমি। শীর্ষ বা স্থলাগ্র, মূলীয় অংশ কর্তিকাগ্র বা কীলকাকার। মঞ্জরীনল ৮-১২ মিমি পর্যন্ত লম্বা, বহির্ভাগ রোমশ বিহীন, অভ্যন্তর রোমশ, সূক্ষাগ্র মূলীয় অংশ সবুজাভ হলুদ এবং উপর লাল। প্রধান খন্ড ৩-৪ মিমি, দীর্ঘায়ত, স্থলাগ্র, প্রান্ত সিলিয়াযুক্ত, পার্শ্বীয় খন্ড প্রধান খন্ড অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর, মধ্য খন্ড পাশ্বীয় খন্ড অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর দলপুট লাল।

পুরুষ ফুল ২০-৩৪টি, বৃন্ত ৮-১২ মিমি লম্বা, বৃত্যংশ ও পাপড়ি অনুপস্থিত, পুংকেশর ১টি, পুংদন্ড ৩ মিমি লম্বা, স্ত্রী ফুল সবৃন্তক বৃন্ত ৭-১১ মিমি লম্বা, গর্ভাশয় ৩ প্রকোষ্ঠী ১-৬ মিমি লম্বা, দীর্ঘায়ত, ত্রিকোণাকৃতি, প্রতিকোষ্ঠে ডিম্বক ১টি, গর্ভদন্ড খাটো, যুক্ত, গর্ভমুন্ড ৩টি, ২ খন্ডিত। ফল ক্যাপসিউল, ৫ মিমি ব্যাসযুক্ত, অর্ধচতুষ্কোণাকৃতি, গভীরভাবে ৩ খন্ডিত। বীজ ডিম্বাকার বা অর্ধগোলাকার, শীর্ষ । সূক্ষ্মাগ্র পাদদেশ কর্তিতা, দৈর্ঘ্য ৪ ও প্রস্থ ৩ মিমি, ধূসর থেকে গাঢ়  বাদামী।

ক্রোমোসোম সংখ্যা:

2n = ৩৬ (Dressler, 1957).

বংশ বিস্তার ও চাষাবাদ:

পতিত জমি ও অরণ্যে এই গুল্মটি জন্মে।  বিশেষ যত্নের প্রযোজন নেই। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে। মার্চ-জুন মাসে এই গাছে ফুল ফোটে।

বিস্তৃতি:

ভারত, বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও ঢাকা জেলায় জন্মে। (Heinig, 1925; Datta and Mitra, 1953)।

ভেষজ গুণ:

দুগ্ধবৎ তরুক্ষীর আঁচিল ও বৃশ্চিকের কামড়ের স্থানে প্রয়ােগ করে ভাল ফল পাওয়া যায়। মূল শক্তিশালী বমনোদ্রককারী।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ট খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  রাং চিতা  প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে রাং চিতা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. রহমান, এম অলিউর (আগস্ট ২০১০)। অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  মান্দার বা পারিজাত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার রক্ত রাঙা আলংকারিক দৃষ্টিনন্দন ফুল

Leave a Comment

error: Content is protected !!