রাম বাসক চিরহরিৎ ঔষধি গুল্ম

ঔষধি গুল্ম

রাম বাসক

বৈজ্ঞানিক নাম: Phlogacanthus thyrsiformis ইংরেজি নাম: সমনাম: বাংলা নাম: রাম বাসক বা রামবাসক
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Eudicots অবিন্যাসিত: Asterids বর্গ: Lamiales পরিবার: Acanthaceae গণ: Phlogacanthus প্রজাতি: Phlogacanthus thyrsiformis

রাম বাসক বা রামবাসক বা তিতাফুল (নেপালি: चुवा) (বোটানিক্যাল নাম Phlogacanthus thyrsiformis) হচ্ছে একান্থাসি (ফ্যামিলি: Acanthaceae) পরিবারের একটি সপুষ্পক গুল্ম। এরা হিমালয়স্থ গাড়োয়াল থেকে ভুটান পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত উষ্ণভাবাঞ্চল এবং অসাম ও খাসিয়া পর্বতে প্রচুর পাওয়া যায়, তবে এটা অঞ্চলে বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনেই এর চাষ বা রোপণ করা হয়।

বাসকের এক নাম ‘সিংহাস্য’—আস্য অর্থে মুখ; এই গাছের তাম্রবর্ণ ফুলের গঠন দেখতে কতকটা সিংহের হাঁ করা মুখের মতো, অনেকক্ষেত্রে অনেককিছু উপমা নিয়ে ফুলের নামকরণ হয়ে থাকে। অবশ্য Acanthaceae ফ্যামিলির সব গাছেরই ফুলের গঠন বিন্যাস এই ধরণের। তা ছাড়া তাম্রপুষ্প বাসকের আর একটি বিশিষ্ট নাম “সিংহপুচ্ছ” বলা হয়েছে, এখানেও নামকরণের উপমাটা তার ফুলের দণ্ডের বিন্যাসটিকে দেখেই; সিংহের পুচ্ছের (লেজ) মতো, এবং সেই পুচ্ছে থাকে সুক্ষ্ম তন্তুগুলির সঙ্গে গুচ্ছ গুচ্ছ স্তবকিত ফুল। হয়তো এই কারণেই সার্থক এই নামকরণ। তবে এই বাসকের সঙ্গে রাম শব্দটির সংযোগ কেবল বাংলাতেই দেখা যায়। এই রাম শব্দটি শ্রেষ্ঠত্বের ও বহত্ত্বের নির্দেশক। সেইজন্যই সম্ভবতঃ এই নামে তাকে ভূষিত করা হয়েছে। এই গাছগুলি বেশিরভাগ গাড়োয়াল অঞ্চলেই ৬ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত উচু হয়, দ্বিতীয়তঃ স্বাদে অত্যন্ত তিক্ত।

ঔষধ হিসাবে ব্যবহার:

১. মেনোরিজিয়া (Menorrhoegia): এই রামবাসকটি ফলদায়ক হয় স্ত্রীরোগের অতিরজঃ ব্যাধির ক্ষেত্রে। আয়ুর্বেদে একে রক্তপ্রদরে ব্যবহারের জন্য উপদেশ দেওয়া হয়। পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে মেনোরিজিয়া (Menorrhoegia) বলা হয়। এই রোগ সম্পর্কে আয়ুর্বেদের নিজস্ব চিন্তাধারার চিকিৎসা পদ্ধতিও ভেষজগুণের সমন্বয় সাধনেই এই নোগোপশম সম্ভব হয়ে থাকে। এই রোগ সম্পর্কে আয়ুর্বেদের সংহিতাকারগণ বলেছেন ‘এই রোগ অধোগত রক্তপিত্তের ন্যায় চিকিৎসা করার বিধি’।  

আরো পড়ুন:  দাদমর্দন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে জন্মানো ভেষজ গুল্ম

বাসকের ১১টি ঔষধি ব্যবহার

অর্থাৎ বাসক বিদ্যমান থাকতে রক্তপিত্ত, ক্ষয় ও কাস রোগী কেন মুষড়ে পড়বেন? এইভাবে এর প্রশস্তির উল্লেখে ভেষজটির বিশেষ গুণের অভিব্যক্তিই প্রকাশ পায়। মেনোরিজিয়া রোগে রামবাসক প্রয়োগের এই সুত্র ধরেই করা হয়। এই রোগ সম্পর্কে পাশ্চাত্য চিকিৎসকগণের অভিমত হচ্ছে যে, নারীদেহে অবস্থিত ডিম্বকোষ (overy) থেকে দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যাদের Estrogen ও Progesterone বলা হয়। এই Estrogen এর মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণ এবং Progesterone- এর স্বল্প ক্ষরণই অতিস্রাবের মুখ্য কারণ। এখন দেখা দরকার বনৌষধিটির এই দুটি হরমোনর উপর কোনো প্রভাব আছে কিনা, অথবা (রক্ত তাড়াতাড়ি জমাট বেধে যাওয়ার শক্তি) (coagulation) বুদ্ধি করে রক্তস্রাব রোধ করে কিনা?

হপিং কাসিতে: এই রামবাসকের সিরাপ দুরারোগ্য হপিং কাসিকে নিরাময় করে। এটা ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে উপলদ্ধি করা যায়।

রাসায়নিক গঠন:

(a) B-sitosterol Sito. (b) Lupeol. (c) Betulin. (d) One diterpene lactone. (e) A number of other terpene type compounds have also been isolated.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৪০-১৪২।

Leave a Comment

error: Content is protected !!