আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > গুল্ম > টক পেয়ারা সারা দুনিয়ায় চাষকৃত একটি ফল

টক পেয়ারা সারা দুনিয়ায় চাষকৃত একটি ফল

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]বৈজ্ঞানিক নাম: Psidium guineense Sw. সমনাম: Psidium araca Raddi, Eugenia hauthalii (Kuntze) K.Schum. সাধারণ নাম: Sour Guava. বাংলা নাম: টক পেয়ারা। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms বর্গ: Myrtales পরিবার: Myrtaceae গণ: Psidium প্রজাতি: Psidium guineense.[/otw_shortcode_info_box]

পরিচিতি: টক পেয়ারা মিরটাসি পরিবারের সিডিয়াম গণের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এরা বৃহদাকার গুল্ম এবং বৈশিষ্ট্যময় ডোরাকাটা দাগযুক্ত, মসৃণ এবং তামাটে বাকলবিশিষ্ট যাহা পাতলা এবং ছোট ছোট টুকরা আকারে উঠে যায়। কচি পল্লব চতুষ্কোণী, রোমশ, সবুজ। পাতা বৃন্তক, বৃন্ত ৫-৮ মিমি লম্বা, গোলাকৃতি, রোমশ, উপরের পৃষ্ঠ খাঁজকাটা, কচি পাতা বিপরীত তির্যকপন্ন কিন্তু পরিণত পাতা বিপরীত উপরিপন্ন, ৬-১২ x ৩-৬ সেমি, দীর্ঘায়ত-ভল্লাকার থেকে উপবৃত্তাকার, অখন্ড, শীর্ষ সুক্ষ্ম খর্বাগ্রবিশিষ্ট থেকে তীক্ষ, সচরাচর খর্ব দীর্ঘাগ্র, পাদদেশ স্থূলাগ্র, উপরের পৃষ্ঠ অর্ধ মসৃণ, নিম্নপৃষ্ঠ রোমশ এবং সুস্পষ্ট শিরাবিশিষ্ট, পার্শ্বশিরা ৫-৯ জোড়া, উপসমান্তরাল, ঢেউখেলানো অন্ত:কিনারীয় শিরার সহিত মিলিত হয়, মধ্যশিরা নিম্নপৃষ্ঠে দৃঢ়ভাবে সুস্পষ্ট এবং উপরের পৃষ্ঠে মাঝ বরাবর খাঁজবিশিষ্ট এবং উত্তোলিত।

পুষ্পমঞ্জরী কাক্ষিক, ২-৩টি পুষ্পবিশিষ্ট, কখনও পুষ্পগুলো একক, মঞ্জরীদন্ড ১-২ সেমি লম্বা। পুষ্প সাদা, ২-৭ সেমি ব্যাসবিশিষ্ট এবং ১.৮ সেমি (প্রায়) লম্বা। বৃতি কলস আকার, সবুজ, নিচের অংশ গর্ভাশয়লগ্ন, উপরের অংশ মুক্ত এবং পুষ্পেদগমকালে অনিয়তভাবে খন্ডিত। পাপড়ি ৫টি, ১.৫ x ০.৫-০.৭ সেমি, মুক্ত, সাদা। পুংকেশর অসংখ্য, ৩-৯ মিমি লম্বা, পরাগধানী ১.০-১.৫ মিমি লম্বা, দীর্ঘায়ত থেকে ভল্লাকার, পাদদেশের কাছাকাছি সংলগ্ন, অনুদৈর্ঘ্য বরাবর বিদারিত হয়। গর্ভপত্র ৩টি, গর্ভাশয়ের সহিত যুক্ত, গর্ভাশয় ৩-প্রকোষ্ঠীয়, ডিম্বক প্রতি প্রকোষ্ঠে অসংখ্য, গর্ভদন্ড সূত্রবৎ, গর্ভমুণ্ড মুণ্ডাকার। ফল গোলকাকার বা ডিম্বাকার বেরী, ১.০-২.৫ সেমি ব্যাসবিশিষ্ট, বৃতির অগ্রভাগ মুকুট গঠন করে, পরিপক্ক অবস্থায় হলুদাভ সবুজ। বীজ অনেক, ক্ষুদ্র, প্রায় বৃক্কাকার, শক্ত। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে প্রধানত গ্রীষ্ম মৌসুমে তবে বর্ষা মৌসুমেও ফুল ও ফল ধরতে দেখা যায়।

ক্রোমোসোম সংখ্যা জানা নেই।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ: বাগানে চাষ করা হয়, পার্বত্য এলাকায় বনজ প্রজাতি হিসেবেও পাওয়া যায়। বংশ বিস্তার হয় বীজ এবং জোড় কলমের সাহায্যে।

বিস্তৃতি: এটি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার আদি নিবাসী। এটিকে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে চাষাবাদ করা হয় এবং ভারত ও বাংলাদেশে প্রাকৃতিকৃত। বাংলাদেশে ইহা কুমিল্লা জেলার লালমাই অঞ্চলে পাওয়া যায়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: ইহার ফল টক স্বাদবিশিষ্ট এবং খাওয়ার উপযোগী। ইহা ফলের জন্য এবং শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে চাষ করা হয়।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) টক পেয়ারা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায় এটির সম্পর্কে তথ্য সংগৃহীত হয়নি, তবে বিরল প্রতীয়মান। বাংলাদেশে টক পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে বাগানে অধিক আবাদের উৎসাহ করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র:

১. এম এ কাইয়ুম (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ৯ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৯১ । আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  কালো জাম দক্ষিণ এশিয়ার ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষ
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
error: Content is protected !!