সাদা গোলাপ টবের বা বাগানের চাশকৃত শোভাবর্ধনকারী জনপ্রিয় সুগন্ধি ফুল

ভূমিকা: সাদা গোলাপ বা শ্বেত গোলাপ (বৈজ্ঞানিক নাম: Rosa alba) (ইংরেজি:White Rose, Dog-rose) হচ্ছে রোজেসি পরিবারের রোজ গণের  একটি সপুষ্পক গুল্ম। এটিকে বাংলাদেশে আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবে বাগানে বা গৃহে চাষাবাদ করা হয়। এই বীরুৎটি বাড়ির টবে বা বাগানের শোভাবর্ধন করে।

বৈজ্ঞানিক নাম: Rosa alba L., Sp. PI.: 492 (1753). সমনাম: Rosa glandulifera Roxb. (1832). ইংরেজি নাম: White Rose, Dog-rose. স্থানীয় নাম:  শ্বেত গোলাপ। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Rosales. পরিবার: Rosaceae. গণ: Rosa. প্রজাতি: Rosa alba

সাদা গোলাপের বর্ণনা:

সাদা গোলাপ দেখতে ছড়ানো অর্ধারোহী গুল্ম আকৃতির। এটি কাঁটাযুক্ত ও বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়ায় ও অসম আকারের গুল্ম । পাতা বড় হয় ও গুচ্ছভাবে থাকে একসাথে ৫ থেকে ৭টি, দেখতে ডিম্বাকার, কোমল পালকে আবৃত এবং পাতার নিচেরভাগ ফ্যাকাশে।

সাদা গোলাপ ফুল বড় হয় এবং সাদা বা সুন্দর গোলাপী আভাযুক্ত বর্ণের। বৃতি খন্ডক প্রায় পক্ষবৎ খন্ডিত। পাপড়ি সাধারণত দ্বিগুণ। সাদা গোলাপের অনেকগুলো পুংকেশর  গোলাকৃতি আকার ধারন করে। গর্ভপত্র একাধিক ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। ফল গুচ্ছাকার যা রসালো বৃতি-নলে আবৃত থাকে। বীজ ছোট আকারের।[১]

বংশ বিস্তার ও চাষাবাদ:

বাংলাদেশের জলবায়ু অনুযায়ী শীতকাল থেকেই ফুল ধরা শুরু করে তবে সাদা গোলাপ গ্রীষ্মকাল মাঝামাঝি হয়ে থাকে। বাড়ির বা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বর্ধনে জন্য লাগানো হয়। এই উদ্ভিদ আংশিকভাবে আবাদী এবং ঝোপঝাড়ের আকারে হয় বলে বেড়ার জন্য উপযুক্ত।

সাদা গোলাপ বীজ বা শাখাকলম করে এর বংশ বিস্তার করা হয়। যেকোনো সময়ে চারার জন্য কলম করা যায় তবে অক্টোবর থেকে নভেন্বর মাস একাজের জন্য উপযোগী। কলম করার জন্য পরিপক্ক ডাল থেকে ২০-২৫ সেমি লম্বা ও পেন্সিলের মতো মোটা কান্ড নেওয়া উচিত।[২]

ক্রোমোসোম সংখ্যা:

2n = ২৮, ৪২.[৩]

বিস্তৃতি:

সাদা গোলাপ সম্ভবত কনকেসিয়ান অঞ্চলে স্বদেশী বা চীন থেকে উদ্ভূত), সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের বাগানে পাওয়া যায় এবং সম্ভবত আফগানিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে বনাঞ্চলে জন্মে (Brandis, 1874 )। বাংলাদেশের বাগানে সাধারণ পরিচর্যায় বেঁচে থাকতে পারে।

সাদা গোলাপের ভেষজ ব্যবহার:

সাদা গোলাপ গুল্মের ফুল জ্বরে শীতলকারক ঔষধ হিসেবে অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনে ব্যবহৃত হয় (Watt, 1892). পুষ্পের পাপড়ি রেচক হিসেবে কাজ করে (Chopra et al., 1956)। ইন্দোনেশিয়ায় শাখার অগ্রভাগ খাওয়া হয় (Kunkel, 1984).

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) শ্বেত গোলাপ প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে শ্বেত গোলাপ সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে বাগানে অধিক আবাদের উৎসাহ করা যেতে পারে এর সৌন্দর্যের কারণে।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এম কে মিঞা(আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৯ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩১৯-৩২০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. ড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ফুলের চাষ প্রথম সংস্করণ ২০০৩ ঢাকা, দিব্যপ্রকাশ, পৃষ্ঠা ১১৫। আইএসবিএন 984-483-108-3

৩. Kumar, V. and Subramaniam,, B. 1986 Chromosome Atlas of Flowering Plants of the Indian Subcontinent. Vol.1. Dicotyledons Botanical Survey of India, Calcutta. 464 pp.   

আরো পড়ুন:  দামেস্ক গোলাপ বাড়ির টব বা বাগানের শোভাবর্ধনকারী সুগন্ধি ফুল

Leave a Comment

error: Content is protected !!