কলকাসুন্দা দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ঔষধি গুল্ম

গুল্ম

কলকাসুন্দা

বৈজ্ঞানিক নাম: Senna occidentalisসমনাম: Cassia caroliniana, C. ciliata Raf, C. falcata L, C. foetida Pers, C. laevigata sensu auct. non Prain non Willd, C. macradenia, C. obliquifolia, C. occidentalis, C. occidentalis L. var. arista sensu Hassk, C. occidentalis L. var. aristata Collad, C. planisiliqua, C. torosa Cav, Ditrimexa occidentalis (L.) Britt.& Rose. সাধারণ নাম: coffee senna, coffeeweed, Mogdad coffee, negro-coffee, senna coffee, Stephanie coffee, stinkingweed বা styptic weed. বাংলা নাম: কলকাসুন্দা 
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots অবিন্যাসিত: Rosids বর্গ: Fabales পরিবার: Fabaceae উপপরিবার: Caesalpinioideae গোত্র: Caesalpinioideae গণ: Senna  প্রজাতি: S. occidentalis.

পরিচিতি: অযত্নে বেড়ে ওঠা এই ক্ষুপ বা গুল্ম জাতীয় গাছটি খুব ছোট নয়। এটি এক ধরণের ঝাড়দার গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Senna occidentalis Linn, পরিবার Leguminosae -এর অন্তর্গত।

এই গাছের পাতার শির, গাছের উপরের অংশটা একটু বেগুনি রঙের হয় বলেই একে বলে কালোকাসুন্দে।

কলকাসুন্দা-গুল্মের বিবরণ:

একটি প্রাপ্ত বয়স্ক কলকাসুন্দা গাছ ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে এদের উচ্চতা গড়ে ভাঁট ফুলের থেকে সামান্য বেশি হতে পারে। সাধারণত উচ্চতা ৫ ফুটের মতো হয়।

কলকাসুন্দার কাণ্ডের রং গাঢ় সবুজ ও এদের কাণ্ড বেশ শক্ত। বড় কলকাসুন্দার কাণ্ডের বেড় ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। কাণ্ডের নিচের দিক থেকেই অজস্র ডালপালা বের হতে দেখা যায়।

এদের পাতার রং গাঢ় সবুজ। কঁচি পাতা সাদটে সবুজ। পাতাগুলো যৌগিক, বহপত্রক। একটা বোঁটায় ৫-১০ জোড়া পাতা থাকে। বোঁটার দৈর্ঘ্য ১০-১২ ইঞ্চি। এদের পাতার দৈর্ঘ্য ১.৫-২ ইঞ্চি।

কলকাসুন্দার ফুল সোনালি-হলুদ রঙের, মঞ্জরী ও বোঁটা হলদেটে সবুজ। মঞ্জরী বহুপুষ্কক। একটা মঞ্জরীতে ৫-১০ টা ফুল থাকতে পারে। ফুলের ব্যাস ১ ইঞ্চি। একটা ফুলে ৫ টা পাঁপড়ি থাকে। সাধারণত ফাগুনের শুরতেই ফুল ফুটতে শুরু করে।

আরো পড়ুন:  কাঁটানটে বা কান্টানুটিয়া উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলের ভেষজ বিরুৎ

বর্ষার শুরুতে এই গাছের বীজ থেকে চারা বের হয়। যদিও এই গাছ বর্ষজীবী, তা হলেও পুরনো গাছ ২ থেকে ৪টি তো দেখা যায়। এর পাতা ১ থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা হয়।

পাতা চটকালে তীব্র কটুগন্ধ বের হয়। এর লম্বা বোঁটায় ২ থেকে ৬ জোড়া পাতা থাকে। ফল হয় ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে। ফলের রং লালি হলুদ হয়, তারপরে হয় চ্যাপ্টা শুঁটি,

বীজ একসঙ্গে থাকে ৪ থেকে ৫টি, প্রতি শুঁটিতে ২০ থেকে ২৫টি বীজ থাকে, ফাল্গুন ও চৈত্রে বীজ পেকে আবার মাটিতে পড়ে যায়। আরো পড়ুন

কলকাসুন্দার ঔষধি দশটি গুণাগুণ

কলকাসুন্দা উদ্ভিদকে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আরম্ভ করে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত ভারতের সব প্রদেশেই পাওয়া যায়।

এর আর একটি প্রজাতি যত্রতত্র আমরা দেখতে পাই সেটির পাতাগুলি একটু ছোট এবং পাতার ডাঁটা বেগুনি রং নয়, আর তার ফল বা শুঁটিগুলি হয় গোল। সেটির বৈজ্ঞানিক নাম Cassia sophera Linn.

কলকাসুন্দা-এর বিস্তৃতি:

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে জন্মে এই গাছ।

চাষ পদ্ধতি:

এই গাছ অযত্নে হয়। আগাছা হিসাবে অনেকে গাছটি চেনে। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এর বীজ পেকে মাটিতে পড়ে যায়। তারপরে নতুন চারা গজে ওঠে।

ব্যবহৃত অংশ: ঔষধার্থে ব্যবহার করা হয় পাতা, ফুল অথবা মূল সমেত সমগ্র গাছ।[১]

তথ্যসূত্রঃ  

১. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা, ১৫৬।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: J.M.Garg

Leave a Comment

error: Content is protected !!