আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > গুল্ম > আফ্রিকান গাঁদা বাগান ও টবে চাষযোগ্য বাণিজ্যিক ও আলংকারিক ফুল

আফ্রিকান গাঁদা বাগান ও টবে চাষযোগ্য বাণিজ্যিক ও আলংকারিক ফুল

গাঁদা
গাঁদা

আফ্রিকান গাঁদা

বৈজ্ঞানিক নাম: Tagetes erecta L., Sp. Pl: 887 (1753). সমনাম: জানা নেই। ইংরেজি নাম: African Marigold. স্থানীয় নাম: গেন্দা, গাঁদা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Asterales পরিবার: Asteraceae গণ: Tagetes প্রজাতি: Tagetes erecta

ভূমিকা: গাঁদা একটি শীতকালীন মৌসুমি ফুল। গাছ থেকে উঠানোর পরেও এই ফুল দীর্ঘ সময় ধরে সজীব থাকে। তাই ব্যবসায়ীভাবে গাঁদার অনেক চাহিদা। এ ফুলের অনেক ভেষজ গুণাবলী রয়েছে। শরীরের কাটা ছিড়ায় পাতার রস রক্ত বন্ধ করে এবং ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। গাঁদার আদি নিবাস হলো মেক্সিকোতে। ইউরোপ হয়ে এটি আমাদের দেশে এসেছে।

বাংলাদেশে দুই ধরনের গাঁদা বেশ জনপ্রিয়। তাদের মধ্যে একটি আফ্রিকান গাঁদা (বৈজ্ঞানিক নাম: Tagetes erecta, ইংরেজি: African Marigold), অন্যটি ফ্রান্স গাঁদা (বৈজ্ঞানিক নাম: Tagetes patula, ইংরেজি: French Marigold)। এই দুই ধরনের গাঁদা এস্তারেসি পরিবারের টাগেটেস গণের গুল্ম।  এটি  অনেকে প্রতিষ্ঠানে বা গৃহের শোভাবর্ধনের জন্য লাগিয়ে থাকে।   

বিবরণ: আফ্রিকান গাঁদা গুল্মটির উচ্চতা ৬০ সেমি বা ততোধিক। সভঙ্গ, রোমশ, বর্ষজীবী বীরুৎ। পাতা পক্ষলভাবে বিভক্ত, পত্রক ও সূক্ষ্ম দস্তুর। এদের পুষ্পবিন্যাস শিরমঞ্জরী, অসম জননকোষী। ফুলের আকার বড়, ব্যাস ১০ সেমি, রে-বিশিষ্ট, দীর্ঘ পুষ্পদন্ডবিশিষ্ট, প্রশাখায় একল, মঞ্জরী পত্রাবরণ বেলনাকার। মঞ্জরীপত্র এককস্তরে বিন্যস্ত, নিচে যমক, বীরুৎ সদৃশ, পুষ্পধার উত্তল, উন্মুক্ত, কূপযুক্ত। প্রান্ত পুষ্পিকা বহু-স্তরে বিন্যস্ত, জিহ্বাআকৃতি, স্ত্রী। মধ্য পুষ্পিকা জিহ্বা-আকৃতি, উভলিঙ্গ। প্রান্ত পুষ্পিকার দলমণ্ডল কমলা বা ক্যানারি হলুদ, পরিব্যাপ্ত দলফলক বিশিষ্ট।

পুংকেশর ৩টি, পরাগধানীর নিম্নাংশ স্থূলা, শীর্ষ উপাঙ্গবিশিষ্ট। স্ত্রী পুষ্পিকার গর্ভদন্ডীয় বাহু। সূচ্যগ্র, মধ্য পুষ্পিকার গর্ভদন্ডীয় বাহু কর্তিতা, রোমশ। এই গাদার ফল সিপসেলা, রৈখিক,  দৈর্ঘ্য ৯.৪ ও প্রস্থ  ১.০ মিমি, সভঙ্গ, নিম্নাংশ সরু, সুস্পষ্ট মূলীয় ক্যালাস বিশিষ্ট। বৃতিরোম স্বল্প সংখ্যক, ৪-৫টি, শুকযুক্ত শল্ক বিশিষ্ট, ২টি আয়তাকার ও লোমশ।

আরো পড়ুন:  ফরাসি গাঁদা বাগান ও টবে চাষযোগ্য বাণিজ্যিক ও আলংকারিক ফুল

বংশ বিস্তার ও চাষাবাদপুরো শীতকাল জুড়ে ফুল ফোটে। বাগান এবং নার্সারীর জন্য এই ফুল চাষ করা হয়। বাগানের জন্য এই গাছ বেশি লাগানো হয়। নরম মাটিতে ও সামান্য যত্ন নিলে গাছ ও ফুল দুটোই ভালো হয়। বীজ এবং কাণ্ড কাটিং দ্বারা নতুন চারা জন্মে। বীজ বা শাখা কলম থেকে নতুন চারা করতে হলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের মধ্যে চারা করে নিতে হবে।

সব ধরণের জমিতে গাঁদা চাষ করা সম্ভব। তবে পানি নিষ্কাশন সুবিধা দো-আঁশ মাটি গাঁদা ফুল চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত। সূর্যালোকযুক্ত  জমিতে গাছের বৃদ্ধি ও ফুল উভয়ই ভালো হয়। জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমির রস বুঝে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। এতে ফুলের রং ও উজ্জ্বলতা উভয় বৃদ্ধি পাবে।  জানুয়ারি মাস থেকে গাঁদা গাছে ফুল ফোটা শুরু করে।[২]

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ২৪ (Fedorov, 1969)।

বিস্তৃতি: মেক্সিকোতে স্থানীয়, এই প্রজাতি পৃথিবীর সব দেশে ব্যাপকভাবে আবাদ করা হয়। বাংলাদেশে উদ্ভিদটি বাগানে ও আবাসভূমিতে ব্যাপকভাবে আবাদ করা হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: উদ্ভিদটির পুষ্পে হলুদ রঙের কুয়ারসেটাগেটিন এবং বীজে তেল থাকে। পাতার রস রক্ত জমাটকারী এবং সদ্য কাটা স্থান কার্যকর ভাবে প্রতিহত করে। আফ্রিকার ম্যারি গোল্ড পুষ্প প্রধানত ফুলের মালা তৈরী, পুষ্প সজ্জা এবং ভোজ্য উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: তাজা পাতার পেষ্ট কাটা স্থানের রক্তক্ষরণ বন্ধে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) আফ্রিকান গাঁদা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে আফ্রিকান গাঁদা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন এক্স-সিটু পদ্ধতি, বিশেষত ইহার ব্যাপক পরিমাণ আবাদের জন্য মাইক্রো-প্রপাগেশন পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।[১]

আরো পড়ুন:  টাগেটেস হচ্ছে এ্যাসটারাসি পরিবারের একটি সপুষ্পক বিরুৎ

তথ্যসূত্র:

১. এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৭২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

 ২. সিরাজুল করিম আধুনিক পদ্ধতিতে ফুলের চাষ প্রথম প্রকাশ ২০০১ ঢাকা, গতিধারা, পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭। আইএসবিএন 984-461-128-7

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page