বন ভেণ্ডী বা স্বর্ণ ভিণ্ডী ভেষজ গুল্ম

ছোট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, জঙ্গলে কিংবা রাস্তার ধারে, পরিত্যক্ত স্থান সমূহে আপনা-আপনি জন্মে। বীজ থেকে গাছ হয়। গাছ নানা আকৃতির হয়ে থাকে । তবে সাধারণতঃ ৬ বা ৭ ফুটের অধিক উঁচু হয় না। শাখাপ্রশাখা অধিক, সামান্য রোমশ। পাতা হৃৎপিণ্ডাকৃতি, ১-২ ইঞ্চি চওড়া ও ২-৩ ইঞ্চি লম্বা, সাধারণতঃ ৫-৭টি ভাগে বিভক্ত, প্রতিটি ভাগ প্রায় সূচাগ্র বিশিষ্ট । পাতার কিনারা কাটা কাটা। পাতার কোলে ফুল ও ফল হয়। ফুলের গোড়ায় খুব ছোট ছোট দু’টি আয়তাকার পত্র থাকে, তারও কিনারা করাতের ন্যায় খাঁজ কাটা । ফুল উজ্জ্বল গোলাপী কিংবা ফ্যাকাশে লাল রঙের, তবে মধ্যভাগ হালকা কালো রঙের, গুচ্ছবদ্ধ। ফলে ছোট ছোট কাঁটা আছে, সেজন্য জামা-কাপড়ে যেমন আটকে যায়, তেমনি লোমশ জন্তু-জানোয়ারের গায়েও আটকায়। পাকলে ফল ফেটে পড়ে না । বীজ মসৃণ, স্বাদহীন । এই গাছের আঁশ পাটের পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য, কোথাও কোথাও সামান্য পরিমাণে চাষ হয়ে থাকে ।

হিন্দী ভাষাভাষী অঞ্চলে এটি বচিটা, বন ভেণ্ডা, বন ভেণ্ডী, স্বর্ণ ভিণ্ডী নামে পরিচিত। এর বোটানিক্যাল নাম Urena lobata Linn., ফ্যামিলী Malvaceae.

বন ভেণ্ডী-এর গুণপনা

মূল : মূত্রকারক, ঋতুস্রাবকারক বা গর্ভপাতকারক, সন্ধিবাতে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার্য, এর দ্বারা ব্যথা ও ফোলা দুই-ই কমে ।

মূল ও কাণ্ড : এর ক্বাথ বায়ুজনিত উদয়শূলে ব্যবহার্য ।

মূল ও পাতা : প্রলেপ বাতের ব্যথা ও ফোলা কমায়, এটি একটি স্নিগ্ধ প্রলেপ হিসেবে পরিচিত ।

ফুল : বক্ষরোগে ব্যবহার্য। শুকনো ও পুরাতন কাশিতে কফ নিঃসারক । ফুলের ক্বাথ দিয়ে গার্গল করলে মুখক্ষত নষ্ট হয় এবং মুখের বিস্বাদ ভাব থাকলে সেটাও চলে যায় ।

পাতা :  Crude protein ও বীজে কিছুটা তেল ও ইউরিয়েজ নামক উপক্ষার আছে ।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুন:  সাদা তুঁত গাছের নানাবিধ ভেষজ প্রয়োগের বিবরণ

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ২৯৯-৩০১।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি tropical.theferns.info থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Fagg, M

Leave a Comment

error: Content is protected !!