স্বর্ণ ঝিন্টি গুল্ম-এর ছয়টি ভেষজ গুণাগুণ

স্বর্ণ ঝিন্টি (Barleria prionitis) গুল্ম-এর ফুল দেখতে সুন্দর তাই অনেকে বাড়ির বাগানের সৌন্দর্যের জন্য লাগিয়ে থাকে। এছাড়াও সীমানা নির্ধারনের জন্যও লাগাতে দেখা যায়। এছাড়া এই গুল্মে নানা ভেষজ গুণাগুণ আছে।

স্বর্ণ ঝিন্টি গুল্ম-এর ভেষজ প্রয়োগ

১. শ্লেষ্মজ্বরে: জ্বর-জ্বর ভাব, কখনো একটু বেশি, সঙ্গে সামান্য কাসি, বুকে আছে। শ্লেষ্মার চাপ, ঠিকমত উঠতেও চাইছে না, এক্ষেত্রে পীত ঝাঁটির পাতার রস ২ চা-চামচ নিয়ে একটু গরম করে, ঠাণ্ডা হলে, তাতে ১০/১৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে সকালের দিকে একবার এবং এভাবে বিকেলের দিকে একবার খেতে হবে। ২/৩ দিন খেলেই জ্বরটা থাকবে না, শ্লেষ্মার প্রকোপ থাকলে আরও ৩/৪ দিন খাওয়া দরকার। এটি বড়দের মাত্রা, বয়স অনুপাতে মাত্রা ঠিক করা প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ যোগটি ভাল কাজ করে।

২. সর্দিতে: হঠাৎ ঠাণ্ডা লেগেছে, নাক দিয়ে জল পড়ছে, এ ক্ষেত্রে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে পাতার রস দিনে ২ বার করে ২/৩ দিন খেলেই চলবে।

৩. দৌর্বল্য বা দুর্বলতা: বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়, তখন কিন্তু চুপচাপ থাকা ভাল নয়। যৌবনে উচ্ছৃঙ্খলতা শিকার হলে শরীর ক্লান্তিতে ভরে যেতে পারে। পরিণতিতে ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি, দুর্বলতা, কোষ্ঠবদ্ধতা, দাহ প্রভৃতি আসাটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পীত ঝাঁটির মূল ১০ গ্রাম (শুকনা) নিয়ে ছোট ছোট করে কেটে, অল্প একটু থেঁতো করার পর ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে, ১ কাপ জল থাকতে নামিয়ে, ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে, ঐ ক্বাথটিকে সমানভাগে সারাদিনে দু’বারে অথাৎ সকালে ১ কাপ ও সন্ধ্যায় ২ কাপ করে মাসখানিক ব্যবহার করলে কষ্টের লাঘব হবে।

৪. অগ্নিমান্দ্য: নানা কারণে এটি আসে, তবে যেক্ষেত্রে শরীরের ক্ষয়ের জন্য এটি এসে হাজির হয়, বার্ধক্যের জন্য দেখা যায়, সেসব ক্ষেত্রে এটির মূলের ক্বাথ উপরিউক্ত পদ্ধতিতে কিছুদিন খেলে চমৎকার কাজ হয়।

আরো পড়ুন:  কালমেঘ-এর ভেষজ গুণাগুণ ও ঘরোয়াভাবে প্রয়োগ পদ্ধতির বর্ণনা

৫. অভিঘাতজ বাতে/আঘাতজনিত ফোলায়: হঠাৎ পড়ে গিয়ে বা কোথাও ধাক্কা লেগে বা অন্য নানা কারণে আঘাত লাগার ফলে ফুলে গেলে অথবা এই ফোলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পর যদি আংশিক থেকে গিয়ে বাতে পরিণত হয়ে যায়, তখন স্বর্ণ ঝিন্টি বা পীত ঝাঁটির মূলের ক্বাথ পূর্ব বর্ণিত নিয়মে দিনে ২ বার খেতে হবে এবং মূল ও পাতা সমভাগে নিয়ে জলে বেটে হালকা গরম করে ব্যাধিত স্থানে দিনের বেলায় প্রলেপ দিতে হবে। সন্ধ্যার প্রাক্কালে প্রলেপটি ফেলে দেওয়া দরকার। সদ্য ফোলায় এটি ভাল কাজ করে, আর বাতে পরিণত হয়ে গেলে এই প্রলেপের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অন্য ঔষধও খাওয়া।

৬. দন্তশূলে: দাঁত নড়ে যন্ত্রণা হলে (অবশ্য বাল্যাবস্থার দাঁতের ক্ষেত্রে নয়, কারণ সেগুলি পড়ে গিয়ে নতুন করে বেরুবে) পীত ঝাঁটির পাতা ৩/৪টি নিয়ে চিবুতে হবে এবং ঐ দলটি মুখের মধ্যে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। সারাদিনে ২বার করে কয়েকদিন করলেই চলবে।

CHEMICAL COMPOSITION

Barleria prionitis Linn. Leaves contain: potassium, acidic and bitter substances.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ২৬০-২৬১।

Leave a Comment

error: Content is protected !!