আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > গুল্ম > নয়নতারা উদ্ভিদের ছয়টি কার্যকরী ভেষজ গুণাগুণ

নয়নতারা উদ্ভিদের ছয়টি কার্যকরী ভেষজ গুণাগুণ

নয়নতারা আসলে একটি বর্ষজীবী সোজা কাণ্ডযুক্ত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর ধরে নানা প্রতিকূল অবস্থায়র মধ্যে বেঁচে থাকে। নয়নতারা গাছ লম্বায় খুব একটা বড় হয় না। সাধারণভাবে দেড় থেকে দু’ফুটের মতো লম্বা হয়।

রোগ নিরাময়ে নয়নতারার ব্যবহার:

১. ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ প্রতিদিন সকালে নয়নতারার সাদা ফুল ও গাছের দু’টি পাতা খালিপেটে চিবিয়ে খেলে রোগ মোটেই বাড়তে পারে না। যাদের দাঁত নেই তারা পাতাকে সামান্য পানি দিয়ে বেটে এক চামচ পরিমান রস খাবেন। এ রোগটি সম্পর্কে মনে রাখা দরকার, বহুমূত্র রোগে একবার আক্রান্ত হলে সারা জীবনের নানা রকম চিকিৎসাও রোগী সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। কেবলমাত্র খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ঔষধ খেলে রোগ আংশিক নিরাময় হতে পারে। এক্ষেত্রে নয়নতারা পাতা নিয়মিত খেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২. ব্লাড প্রেসার বা রক্তের চাপ বাড়লে নয়নতারা গাছের টাটকা মূলের রস মাত্র পাঁচ মি. লি. সকালে খালিপেটে একবার করে খেতে হবে। রস তিন থেকে চারদিন খেলেই কিছুটা উপকার নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। তবে চার-পাঁচ দিন বাদে চিকিৎসকের কাছে রক্তের চাপ পরীক্ষা করে অবশ্যই দেখা দরকার।

৩. বিষাক্ত ঘা কিংবা পুরাতন ঘায়ে নয়নতারা গাছের রস উভয় রোগে প্রয়োগ করলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়।

৪. রোজ একবার করে কচি ডাল ও পাতাকে বেটে তার রস দিয়ে শরীরের ক্ষত, ঘা ধুয়ে বেধে রাখতে হবে। সাতদিন ব্যবহার করলে বিষদোষ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ঘা শুকিয়ে যাবে।

৫. কোন কিছুর আঘাতে কেটে গেলে একইভাবে কাটা জায়গায় রস প্রয়োগ করে বেঁধে রাখতে হবে। ৩-৪ দিনের মধ্যেই কাটা জায়গা জুড়ে যাবে।

আরো পড়ুন: নয়নতারা এপোসিনাসি পরিবারের একটি আলংকারিক ফুল

আরো পড়ুন:  পলাশ ক্রান্তীয় ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের দৃষ্টিনন্দন আলংকারিক ফুল

৬. ব্লাড ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। এ রোগটি আজও মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে আছে। এ রোগে আক্রান্ত রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা উল্লেযোগ্যভাবে কমে যায়। নয়নতারা গাছের কচি ডালের রস সকালে ও বিকালে ১০ মিলিমিটার পরিমাণ খেলে রোগের কিছুটা উপশম হয়।

বর্তমানে পৃথিবীর বহু দেশে এ ব্যাপারে নয়নতারা গাছ সম্পর্কে পরীক্ষা চলছে। কারণ , বিজ্ঞানীরা নয়নতারা গাছের পাতা ও ডালের রস থেকে প্রায় ৭০টি ঔষধ ইতিমধ্যেই আবিষ্কার কররেছে।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী: ‘গাছ-গাছড়ায় হাজার গুণ ও লতাপাতায় রোগ মুক্তি, সত্যকথা প্রকাশ, বাংলাবাজার, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ২০০৯, পৃষ্ঠা, ১৪৭-১৪৮।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Biswarup Ganguly

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page