রুটি পাতা নিটাম চিরহরিৎগুল্ম

রুটি পাতা নিটাম

বৈজ্ঞানিক নাম: Gnetum latifolium Bl. var. funiculare (Bl.) Mgf., Bull. Jard. Bot. Buitenz. ser. 3. 10: 463 (1930). সমনাম: Gnetum funiculare Bl. (1834). ইংরেজি নাম: ব্রড-লীফ নিটাম । স্থানীয় নাম: রুটি পাতা নিটাম ।

ভূমিকা: রুটি পাতা নিটাম (Gnetum latifolium) হচ্ছে নিতেসিয়া (Gnetaceae) পরিবারের নিটম গণের সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটা পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মে।

রুটি পাতা নিটাম-এর বর্ণনা:

একটি চিরহরিৎ ও মসৃণ রোমশূন্য গুল্ম। তবে বৃহৎ আকারের গুল্ম। এদের কান্ড আড়াআড়ি ৮ সেমি পর্যন্ত লম্বা ও শাখা স্ফীত পর্বযুক্ত। পাতা সবৃন্তক, বৃন্ত ১ সেমি পর্যন্ত লম্বা, ফলকের দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি ও প্রস্থ ১২ সেমি, উপবৃত্তিক-ডিম্বাকার, আয়তাকার, বিডিম্বাকার- আয়তাকৃতি অথবা আয়তাকার-বল্লমাকৃতি, স্বল্প সূক্ষ্মাগ্রী হতে অ্যাপিকুলযুক্ত, অখন্ড, চিরহরিৎ, গাঢ় সবুজ, উপরের পৃষ্ঠে চকচকে, শুষ্ক অবস্থায় বাদামী বর্ণে পরিণত, পুরু চর্মবৎ, শিরাবিন্যাস জালিকাকৃতি, নিচের পৃষ্ঠে সুস্পষ্ট জালবিশিষ্ট।

পুষ্পবিন্যাস দোলকমঞ্জরীয় (ক্যাটকিন), পার্শ্বীয় অথবা অগ্রস্থ, অল্প শাখাযুক্ত, ১৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা, কলার (Collar) গুলি উন্মুক্ত এবং ৩ মিমি এ বিস্তৃত, সন্ধিস্থলে ২-ফাটলে বিভক্ত নৌকাকৃতি মঞ্জরীপত্রাবরণ (ইনভলিউক্র) বিশিষ্ট। ফুল প্রচুর পিঙ্গল অথবা মরচে বর্ণের রোম দ্বারা বেষ্টিত, প্রায়শঃ মঞ্জুরীপত্রাবরণ (ইনভলিউকর্) ভেদ করে উদ্ধৃত। ফল ২.৫ × ১.৫ সেমি পর্যন্ত, উপবৃত্তিক, অ্যাপিকুলযুক্ত, বৃন্ত (পেডিসেল) পাতলা, ১৩ মিমি পর্যন্ত লম্বা, বাইরের স্তর সরস, চকচকে তন্তুময়। বীজ চওড়া-আয়তাকার।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

এই প্রজাতিটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় মৌসুমী অরণ্যে ১৫০০ মি. উচ্চতার নিচে জন্মে। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল মার্চ থেকে জুন মাস। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে।

বিস্তৃতি :

ভারত (দক্ষিণ আন্দামান), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে এই প্রজাতি জন্মে ।

গুণাগুণ:

এই উদ্ভিদের তন্তু দড়ি তৈরীতে ব্যবহৃত হয় এবং পরিপক্ক ফল রান্না করে অথবা ঝলসিয়ে খাওয়া হয় । কান্ডে পানিপূর্ণ রস থাকে, যা পান করার যোগ্য (Smitinand and Larsen, 1975)।

আরো পড়ুন:  ভারতীয় শিয়াল বুকা চিরহরিৎ ভেষজ গুল্ম

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ০৫ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) রুটি পাতা নিটাম প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে রুটি পাতা নিটাম সংরক্ষণের জন্য ভ্রুণ চাষের মাধ্যমে দেহ-বহির্ভূত বংশবৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে স্বস্থানে সংরক্ষণ জরুরী প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. এম. মতিয়ূর রহমান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ০৫, পৃষ্ঠা ৪০০-৪০১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

[বি.দ্র: প্রবন্ধে ব্যবহৃত ছবিটি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে ব্যবহৃত হয়েছে। আলোকচিত্রী: Vinayaraj

Leave a Comment

error: Content is protected !!