জলধুনিয়া গুল্মের নানাবিধ গুণাগুণের বর্ণনা

এটি একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ। টাটকা গাছ ও গাছের রস অতিশয় বিষাক্ত। রস খেলে বিষময় ফল ঘটে, শরীরের কোন স্থানে লাগলে সেই স্থান লাল বর্ণ হয় এবং ফোস্কা পড়ে। গাছটি শুকিয়ে নিলে বা সিদ্ধ করলে বিষাক্ততা নষ্ট হয়।

জলধুনিয়া-এর পরিচিতি

এটি এক বষায়ু বা বহুবর্ষায়ু। সরল, ও হলদে রঙের গাছ। কাণ্ড খুবই নরম ও ফাঁপা। সাধারণতঃ ফুটখানিক লম্বা হয়, তবে কখনো কখনো ৩ ফুট পর্যন্তও উঁচু হতে দেখা যায়। এর ডাঁটা ও পাতায় রাই-এর শাখা ও পাতার মত তীক্ষ্ণ গন্ধ থাকে। পাতা তিন ভাগে বিভক্ত, ডগাটি কাটা। প্রধান পাতাটি ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পত্রদণ্ড লম্বা। ফুলের পাপড়ি ছোট ও ফিকে হলুদ রঙের। পিপুলের মত, কিন্তু আকারে ছোট, কালো রঙের নরমলোমযুক্ত এবং সামনের লম্বাটে গোলাকার।

প্রকারভেদ ও অন্যান্য নাম:

গাছটির সংস্কৃত ও বাংলা নাম- কাণ্ডীর, হিন্দী- জলধনিয়া, দেবকার, লটুকরী, প্লেগ কী বুঢ়ী এবং আরবীতে কবীকজজ, কবিকাজ প্রভৃতি নামে পরিচিত।

সারা বিশ্ব জুড়ে এই গণের ৩০০টি প্রজাতি ছড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে মাত্র ২৬টি ভারতে পাওয়া যায়। এর বোটানিক্যাল নাম Ranunculus sceleratu Linn., ফ্যামিলী— Ranunculaceae.

ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ:-সমগ্র গাছ। শুকনো গাছের চূর্ণ দেড় থেকে এক গ্রাম মাত্রায় রোগীর অবস্থা সাপেক্ষে ব্যবহার্য।

অবস্থান:

আমাদের দেশে নদী, ঝিল বা অন্য জলাশয়ের ধারে প্রধানতঃ শীতকালে জন্মে। উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চল, পঃ বঙ্গ, মাউন্ট আবু ও হিমালয়ের উষ্ণপ্রধান উপত্যকায়, কাশ্মীর থেকে আসাম পর্যন্ত ১৫০০ মিটার উঁচু পর্যন্ত এলাকায় এ গাছটি পাওয়া যায়। গাছটি দেখতে অনেকটা ধনে গাছের মত। জলাশয়ের ধারে জন্মে এবং দেখতে ধনে গাছা মতো ব’লে হিন্দীতে জলধনিয়া বলে থাকে।

জলধুনিয়া-এর ঔষুধ হিসাবে ব্যবহার

সমগ্র গাছ :—উত্তেজক, মূত্রকারক, ক্রিমি ও বেদনানাশক, কটু ও তীক্ষ্ণ, অগ্নিদ্দীপক, পাচক, ভেদক, রক্তশোধক, বায়ু ও কফ নাশক, ঋতুস্রাবকারক, স্তন্যবর্ধক। মূত্রকৃচ্ছ্র, শ্বাস, উদরশূলে ব্যবহার্য। জলধুনিয়া গাছের রস প্রলেপ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় ধ্বজভঙ্গে, রসগ্রন্থির শোথে, প্লেগরোগের গ্রন্থিস্ফীতিতে, চর্মরোগে, গৃধ্রুসী ও আমবাতে। সমগ্র গাছের এলকোহলিক টিংচার স্নায়ুমণ্ডলের রোগে ও জ্বরহীন ফুসফুসাবরণ শােথ ও প্রদাহে (Pleurisy) ব্যবহার্য ।

আরো পড়ুন:  ভোলাটুকি গাছের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ

বীজ: বীজ বলকারক ও পাচক। ফোঁড়ার (ব্রণের) ফোলা কমায় এবং মুখদৌর্গন্ধ নাশ করে। বৃক্কের (Kidney) রোগ সারাতে এর ব্যবহার দেখা যায়।

বীজ ছাড়া গাছটির অন্য সব অংশে Protoanemonin নামক একটি বীর্যবান সত্ত্ব পাওয়া যায়, এটি জীবাণুনাশক এবং রোগ-প্রতিরোধক গুণযুক্ত। বিশেষতঃ এটি E. Coli, Staphylococcus aureus, Candida albicans প্রভৃতি রোগজীবাণুর বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে।

CHEMICAL COMPOSITION

Ranunculus sceleratus Linn.

Plant contains: anemonin, protoanemonin 2.5%, anemonic acid, ranunculin, glucose, seratonine, 5-hydroxytryptamine and six other tryptamine derivatives and other two unidentified anti-5. hydroxytryptamine derivatives. Seed contains: protein 18%, fatty oil 26% and an alkaloid.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ৮২-৮৪।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Enrico Blasutto

Leave a Comment

error: Content is protected !!