কুড়-এর নানাবিধ ঘরোয়া ও ভেষজ ব্যবহার

কুড় নামক ভেষজটি আজও ব্যবহৃত হয়, যেমনটি প্রাচীন কালে হতো। সমভাবে আজও ঘরোয়া বিভিন্ন কাজে বা আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটির বোটানিক্যাল নাম Saussurea lappa C. B. Clarke, ফ্যামিলী। Compositae.

কুড়-এর নানাবিধ গুণাগুণ

১. কাপড় সংরক্ষণে: পোকা-মাকড়ের হাত থেকে গরম জামা-কাপড়কে রক্ষার জন্য জামাকাপড়ের মধ্যে দু’চার টুকরো কুড় রেখে দেন কাশ্মীর, তিব্বত, সিকিম প্রভৃতি স্থানের জনসাধারণ। একথা কাশ্মীর থেকে আসা শাল-বিক্রেতাদের কাছ থেকে শোনা যায়।

২. ধুপ হিসাবে ব্যবহৃত: চীনের প্রসিদ্ধ সুগন্ধি ধূপের জন্য কুড় ব্যবহৃত হয়।

৩. মশার উপদ্রব কমাতে: মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে হলে ঘরের মধ্যে কুড়ের ধোঁয়া দিলে সমস্যার সমাধান হয়। কুড়ের পোড়া গন্ধটি খুবই মনোরম, অনেকক্ষণ থাকে, মশাও পালিয়ে যায়।

৪. অকালপক্কতা দূরীকরণে: কুড় বাটা মাথায় লাগিয়ে খানিকক্ষণ রাখার পর মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। বেশ কিছুদিন ব্যবহার করলে চুলপাকা বন্ধ হয়ে যায়।।

৫. দূষিত ক্ষতে/পচা ঘায়ে: কুড় বেটে প্রলেপ আক্রান্ত স্থানে দিলে কয়েকদিনের মধ্যে ঘা শুকিয়ে যায়।

৬. কুষ্ঠ: ধনে এবং কুড় এই দু’টি সমপরিমাণে নিয়ে সামান্য গরম করে প্রলেপ দেবার বিধান আছে চরক সংহিতাতে। এতে আরাম পাওয়া যায়।

৭. অর্শে:  যেকোন অর্শ হোক না কেন, কুড়ের তৈল বলিতে লাগিয়ে তার উপর হালকা গরম সেঁক কিছুদিন দিলে অর্শের বলি শুকিয়ে যায়। এটিও চরকীয় বিধান। তিল তৈলের সঙ্গে কুড়ের বাটা ও পরিমাণমত জল মিশিয়ে তৈলপাক পদ্ধতিতে পাক করে নিতে হবে। কোন বিশেষজ্ঞের দ্বারাই তৈরী করতে পারলে ভালো হয়।

৮. আপস্মার বা মৃগী রোগে: কুড় বেটে শরবত করে খেতে দিতেন প্রাচীন চিকিৎসকগণ, তাতে ফিট হওয়া বন্ধ হয়ে যেতো।

৯. যৌবন রক্ষার্থে: কুড়ের চূর্ণ খেতে দেবার রেওয়াজ সেই সংহিতা-পরবর্তী কাল থেকে। এটি ভেষজ জগতের টু-ইন-ওয়ান অর্থাৎ একাধারে রসায়ন ও বাজীকরণ ।

আরো পড়ুন:  পাহাড়ি জাতা কানশিরা দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ৬৪-৬৬।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!