মিশ্রিদানা বা চিনিপাতা-এর উপকারিতা

মিশ্রিদানা বা চিনিপাতা বোটানিক্যাল পরিচিতি হলো—এটি Scrophulariaceae পরিবারের Scoparia গণের একটি প্রজাতি, সেটির নাম Scoparia dulcis Linn. ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ : মূল সমেত সমগ্র গাছ।

মিশ্রিদানা বা চিনিপাতা-এর গুণপনা

পাতা ভিজানো জল / পাতার রস জ্বর, কাসি ও ফুসফুসনলিকা প্রদাহে উপকারী। পাতা গরম জলে ভিজিয়ে খেলে সরলে প্রস্রাব হয়। সমগ্র গাছের ক্বাথ খেলে মূত্রথলির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথুরী ও বৃক্কের নানা রোগের উপশম হয়ে থাকে। এই ক্বাথ দিয়ে (হালকা গরম অবস্থায়) কুলি করলে দাঁতের যন্ত্রণা ও মুখক্ষত আরাম হয়। পাতা ও মূলের ক্বাথ জ্বরে উপকারী । গাছটির মূল, পাতা ও ডগার অংশ কুচি কুচি ক’রে কেটে রাত্রে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে ছেঁকে সেই জল পান করলে অভিসার ও আমাশা রোগ সারে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন এই যে, গাছটির সমগ্র অংশই বমনকারক গুণ-সম্পন্ন, সুতরাং মাত্রাতিরিক্ত হলেই বমি হতে পারে। বীজ সারা রাত জলে ভিজিয়ে পরদিন সকালে সেই বীজ সমেত জল সরবতের মত ক’রে খেলে শরীর শীতল হয়। মূল কষায়, পিচ্ছিল ও শীতল গুণধর্মী । এটি মাসিক ঋতুর আধিক্যে / রক্তপ্রদরে খাওয়ালে স্রাব কমে। পাতা ভিজানো জল পাকস্থলীর নানা প্রকার উপদ্রবে ব্যবহার্য। সমগ্র গাছের ক্বাথ খেলে এবং তা দিয়ে (গরম অবস্থায়) কুলি করলে নানা প্রকার মুখক্ষত সারে ।

উদ্ভিদটির কাণ্ড ও পাতাতে amellin (এমিলিন) নামক একপ্রকার যৌগ পাওয়া যায় এবং সেটি মধুমেহ রোগ-নিবারক। এমিলিন খেলে মূত্র-শর্করা (glycosuria) নষ্ট হয় এবং রক্তশর্করার (hyperglycaemia) বৃদ্ধি হ্রাস পায়। এছাড়া এটি যেহেতু রক্তকণিকা (RBC) বৃদ্ধির সহায়ক, সেহেতু রক্তাল্পতায় উপকারী । তাছাড়া প্রস্রাবে এলবুমিন, কিটোন প্রভৃতির উপস্থিতি ( albuminuria, ketonuria), অক্ষিপট প্রদাহ (retinitis) এবং মধুমেহের অন্যান্য উপদ্রবে এটি ব্যবহার্য । মধুমেহ রোগে alkali reserve নিম্নগামী হলে, সিরামে iron-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এবং রক্তে acetone bodics থাকলে amellin ব্যবহার হিতকর। এটি tissue wastage প্রতিরোধ করে এবং আমরা খাদ্যের সঙ্গে যে প্রোটিন খাই, সেটিকে শরীরের কাজে লাগাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি মোটা হওয়ার প্রবণতা/স্বভাব (fat in the adipose tissue) কমায় এবং ক্ষতনাশক ।

আরো পড়ুন:  জোড়া নারকেল-এর নানাবিধ গুণাগুণ

লোকায়তিক ব্যবহার

প্রথমতঃ ফুল ও ফলের সময় গাছটি সংগ্রহ এবং ছোট ছোট করে কেটে ছায়ায় সামান্য শুকিয়ে ব্যবহার করা ভাল। একেবারে শুকিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিনের হলে হীনবীর্য হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়তঃ ২।৩ মাসের মধ্যে গাছের ক্বাথ ক’রে ভালভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে সেটিকে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণতঃ প্রতি মাত্রায় শুকনো আধ শুকনো গাছ ২। ৩ গ্রামের অধিক ব্যবহার না করাই ভাল। দিনে কতটা ক’রে গাছের ক্বাথ ব্যবহার করা উচিত, তা নির্ভর করবে রোগের গুরুত্ব বিবেচনা করার উপর ।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ২৯০।

Leave a Comment

error: Content is protected !!