শিলারস এশিয়ার দেশসমূহে জন্মানো ভেষজ প্রজাতি

এই গাছটি হচ্ছে Altingia excelsa, বাংলায় এর নাম শিলারস, হিন্দীতে শিলারস, সংস্কৃতে তুরষ্ক, শিহলক, প্রভৃতি। এই গাছের আঠাই বর্তমানে শিলারস নামে বাজারে পাওয়া যায়।

শিলারস-এর পরিচয়

এটি মধ্যমাকৃতি বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বৃক্ষ। পাতা করতলাকৃতি, ফুল পীতবর্ণ ও গুচ্ছবদ্ধ। গাছের ছাল বাদামী রঙের। কাঠ লালচে বাদামী অথবা বাদামী, মসৃণ, ভারী এবং শক্ত। বীজ গোলাকার, কর্কশ ও শক্ত। বীজ থেকেই গাছ জন্মে। এই গণের একটি মাত্র প্রজাতি ভারতবর্ষে বিদ্যমান।

গাছের ছালের উপর আঘাত করলে ভেতরের ছালে এক প্রকার রস নির্যাস জমতে থাকে। সেই ছাল সংগ্রহ করে ছালের উপরিভাগ ফেলে দিয়ে ভেতরের অংশটিকে জলে সিদ্ধ করে নতুবা এলকোহলে ফেলে যে নির্যাস তৈরী করা হয়, তার নাম শিলারস। এটিই ভারতীয় অঞ্চলে তৈরি শিলারস।

অন্যান্য প্রজাতি

বহিরাগত যে বৃক্ষ থেকে সাধারণতঃ তৈরী হয়, তার নাম Liquidamber orientalis, এছাড়া আরও একটি গাছের (L. styraciflua) আঠাকেও শিলারস বলে। এই দু’টি বৃক্ষ ভারতবর্ষে জন্মে না। এ দু’টি বৃক্ষের ফ্যামিলী হচ্ছে Hamamelidaceae. এটি ভারতে আসে ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা প্রভৃতি দেশ থেকে ।

ভারতবর্ষে প্রাপ্ত শিলারস (Altingia excelsa গাছের নির্যাস) বহিভারতে তৈরী শিলারসের চেয়ে কম গুণসম্পন্ন হয়। সবগুলি গাছের আঠাকেই বলা হয় Storax. গাছ ৩ বা ৪ বছরের পুরাতন হলেই আঠা বের করানোর উপযুক্ত হয়। বর্তমানে আঠা বের করানোর জন্য নানা প্রকার পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। নতুন আঠা দুর্গন্ধযুক্ত, পুরাতন হলে তা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোয়।

শিলারস-এর ব্যবহৃত অংশ (Altingia excelsa)

এই গাছটি আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, ভুটান, বর্মা, চীন, জাভা, বাংলাদেশ প্রভৃতি স্থানে অল্প-বিস্তর পাওয়া যায়। শিলারস গাছের ফ্যামিলী Altingiaceae. ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ আঠা বা বৃক্ষনিস।

বৃক্ষের নির্যাস (আঠা)– কটু, তিক্ত, বায়ুনাশক, কফঘ্ন, বলকারক এবং চোখের ছানি, গলক্ষত, ফুসফুসের অসুবিধা, মস্তিষ্কের রোগ, প্লীহাবৃদ্ধি, কোমরের যন্ত্রণা, বৃক্করোগ, রক্তপ্রদর, খোস-পাঁচড়া ও শ্বেতীরোগে ব্যবহার্য। এছাড়া এটি জ্বরঘ্ন, হজমকারক, অশ্মরীনাশক এবং বিছার হুলের জ্বালায় ব্যবহার্য ।

আরো পড়ুন:  জালি ভাঙা ফার্ন দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ প্রজাতি

মূলের ছাল– সংকোচক, সিফিলিসে প্রযোজ্য।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ৭৬-৭৭।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি floradirgantara.site থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!