হিজল গাছ হচ্ছে প্রাচ্যের হাওর ও জলাভুমির মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ বৃক্ষ

ভূমিকা:  হিজল (বৈজ্ঞানিক নাম: Vachellia nilotica ইংরেজি: Indian Gum Arabic Tree, Prickly Acacia, The Babul Tree) হচ্ছে লিসাইথিডাসি পরিবারের ব্যারিংটোনিয়া গণের দীর্ঘজীবী প্রাচ্যের হাওর ও জলাভুমির মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ বৃক্ষ।

বৈজ্ঞানিক নাম: Barringtonia acutangula (L.) Gaertn., Fruct. 2: 97, t. 101 (1791). সমনাম: Eugenia acutangula L. (1753), Stravadium acutangulum (L.) Miers. (1875), Michelia acutangula (L.) O. Kuntze (1891). ইংরেজি নাম: Indian Oak. স্থানীয় নাম: হিজল, কুমিয়া।

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants অবিন্যাসিত: Angiosperms অবিন্যাসিত: Eudicots অবিন্যাসিত: Asterids বর্গ: Ericales পরিবার: Lecythidaceae (Brazilnut family) গণ: Barringtonia প্রজাতি: Barringtonia acutangula (L.) Gaertn.

হিজল গাছের বিবরণ

হিজল ছোট থেকে মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ বৃক্ষ। এই গাছের চূড়া ছড়ানো। পাতা সরল, একান্তর, সচরাচর উপশাখার শীর্ষে সমাকীর্ণ, পত্রবৃন্ত খাটো, শীর্ষ তীক্ষাগ্র থেকে গোলাকার। পাতার কিনারা কিঞ্চিৎ কচ ও নিচের দিক মসৃণ অথবা নিম্নপৃষ্ঠ কিছুটা রোমশ।

পুষ্পমঞ্জরী সরু ও ঝুলন্ত মসৃণ রেসিম, রেসিম ৪০ সেমি পর্যন্ত লম্বা। ফুল খাটো বৃন্তবিশিষ্ট, লাল, উভলিঙ্গ। বৃতি ৩-৫টি বৃত্যংশ নিয়ে গঠিত, প্রান্ত-আচ্ছাদী, নিম্নাংশ যুক্ত হয়ে একটি খাটো নল গঠন করে। দলমণ্ডল ৪টি পাপড়ি নিয়ে গঠিত, প্রান্ত-আচ্ছাদী। পুংকেশর অসংখ্য, পুংদন্ডগুলোর নিম্নাংশ যুক্ত, বহির্গামী। গর্ভপত্র ২-৪টি, যুক্ত, গর্ভাশয় অধোগর্ভ, ২-৪ প্রকোষ্ঠী। ফল তন্তুময় বেরী, স্থায়ী বৃতি কর্তৃক মুকুটাকার, আয়তাকার, সম্পূর্ণ ফল চতুষ্কোণী।

চাষাবাদ ও বংশ বিস্তার: পানিসহিষ্ণু হওয়ায় হাওরের বর্ষায় পানিতে ডুবেও বেঁচে থাকে। হিজলগাছের প্রাণশক্তি খুব বেশি। বন্যার ভাসা পানি কিংবা তীব্র খরাতেও এই গাছ টিকে থাকতে পারে। এমনকি পানির নিচে কয়েক মাস নিমজ্জিত থাকলেও হিজলগাছ বেঁচে থাকে তার শক্তিবলে। এই গাছ ধীরে ধীরে বাড়ে। বাংলাদেশের হাওর ও প্রকৃতি বাঁচাতে হলে এই গাছটি বৃদ্ধি ও রক্ষা করা জরুরি। বীজ থেকে বংশ বিস্তার হয়।  ফুল ও ফল মে-সেপ্টেম্বর।

আরো পড়ুন:  পুঁইশাক পৃথিবীর বাণিজ্যিক সুস্বাদু ঔষধি শাক

ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ২৬ (Kumar and Subramaniam, 1986)

বিস্তৃতি: সমগ্র ভারত, হিমালয় থেকে শ্রীলংকা, মালয় এবং উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে ইহা একটি সাধারণ উদ্ভিদ।

হিজল গাছের উপকারিতা:

হিজলের শিকড়ের নির্যাস রক্তে সুগারের পরিমাণ কমায়, রেচক এবং কফ নির্গতকারী। পাতার রস ডায়রিয়ায় উপকারী। বীজ পাকস্থলীর বায়ু নির্গতকারক এবং বমনকারক। [১] এই উদ্ভিদের কচি পাতা খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয়, যেমন ভিয়েতনামে এটিকে তাজা অবস্থায় অন্যান্য সবজি, মাংস এবং চিংড়ির সঙ্গে খাওয়া হয়। এই গাছের কাঠ মাছের বিষ হিসেবে কাজে লাগে। যখন শিশুরা বুকের ঠাণ্ডা লাগায় ভুগে তখন বীজ থেতলে বুকের হাড়ের উপরে লাগানো হয়। এটি টিউমার প্রতিরোধ করে, অ্যান্টিবায়োটিক গুণসম্পন্ন এবং ছত্রাক প্রতিরোধী।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৮ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  হিজল  প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে হিজল  সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে অঞ্চল ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি অধিক বনায়নের সুপারিশ ও আবাসস্থান নিশ্চিত করা।[১] 

তথ্যসূত্র:

১. এম এ হাসান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৮ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৬৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!