আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বৃক্ষ > কুরিলা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ ছোট বৃক্ষ

কুরিলা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ ছোট বৃক্ষ

বৃক্ষ

কুরিলা

বৈজ্ঞানিক নাম: Brassaiopsis glomerulata (Blume) Regel, Gartenfl. 12: 275, t. 411 (1863). সমনাম: Aralia glomerulata Blume (1826), Brassaiopsis speciosa Decne. & Planch. (1854). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: কুরিলা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Apiales. পরিবার: Araliaceae. গণ: Brassaiopsis  প্রজাতির নাম: Brassaiopsis glomerulata

ভূমিকা: কুরিলা (বৈজ্ঞানিক নাম: Brassaiopsis glomerulata) আরালিয়াসিস পরিবারের এক প্রকারের বৃক্ষ। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশে জন্মে।

কুরিলা-এর বর্ণনা:

ছোট বৃক্ষ, অনূর্ধ্ব ১০ মিটার লম্বা, কচি অংশ গাত্রকণ্টকী, মরিচবর্ণ তারকাকার-ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত। বাকল ধূসর বা ধূসর-বাদামি, গাত্রকন্টক স্থূলাগ্র।

পত্র আঙ্গুলাকৃতি, ৫-৮ পত্রক বিশিষ্ট, পত্রক উপবৃত্তাকার-বল্লমাকার বা আয়তাকার, ডিম্বাকার-বল্লমাকার, ১০-২০ X ৩-৮ সেমি, নিম্নাংশ গোলাকার বা সূক্ষ্মাগ্র, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র বা খর্ব দীর্ঘাগ্র; প্রান্ত অখন্ড বা অস্পষ্টভাবে ক্রক; উপরিভাগ তারকাকার-ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত, অঙ্কীয় পৃষ্ঠ রোমশ, অণুবৃন্ত অনূর্ধ্ব ৫ সেমি লম্বা।

পুষ্পবিন্যাস প্রান্তীয় বৃহৎ যৌগিক মঞ্জরী, অনূর্ধ্ব ১০ সেমি লম্বা, মরিচাবর্ণ-ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত, পুষ্পবৃন্তিকা ১.২-১.৭ সেমি লম্বা, নিম্নাংশে স্থায়ী, মরিচবর্ণ, তারকাকার রোমবিশিষ্ট নিবিড় গুচ্ছিত ক্ষুদ্র মঞ্জরীপত্রিকা বিশিষ্ট,

মঞ্জরীপত্র আয়তাকার-বল্লমাকার, স্থায়ী, যৌগিক ছত্রমঞ্জরী। পুষ্প ক্ষুদ্র, আড়াআড়িভাবে ৪-৫ মিমি, সাদা, ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত। চক্র (ফলক) সমতল, অস্পষ্টভাবে ৫-কোণাকৃতি।

ফল গোল বা উপ-গোলীয়, আড়াআড়িভাবে ০.৫-০.৮ সেমি, ফলক ও স্থায়ী গর্ভদন্ডীয় স্তম্ভ দ্বারা মুকুটিত, বীজ অসম কুপযুক্ত পৃষ্ঠবিশিষ্ট ১ বা ২টি, সস্য একই রকম বা তদুপ।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: চিরহরিৎ বন। ফুল ও ফল ধারণ হচ্ছে ফেব্রুয়ারি-ডিসেম্বর। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা

বিস্তৃতি:

ভারত এবং চীন থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া (Deb, 1981)। বাংলাদেশে ইহা চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগীয় অঞ্চল ও পাবর্ত্য চট্টগ্রামে পাওয়া যায়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) কুরিলা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

আরো পড়ুন:  চাকোয়া বাংলাদেশের পাহাড়ি চিরহরিৎ বনের ভেষজ বৃক্ষ

বাংলাদেশে কুরিলা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. এ বি এম রবিউল ইসলাম এবং এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২২২-২২৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page