সিনামোমান গণের প্রজাতিগুলোর বৈশিষ্ট্য

Litsea গণের দু’টি প্রজাতি আমাদের কাছে অতি পরিচিত। সে দু’টি হলো—(১) Litsea glutinosa (Lour.) Robinson, (২) Litsea monopetala (Roxb.) Pers. এবং এ দু’টি গাছের বাংলা নাম যথাক্রমে কুকুর চিতা ও বড় কুকুর চিতা। উভয় গাছের ছালই মেদা লকড়ী নামে বাজারে পাওয়া গেলেও প্রথমটির ছালকেই সাধারণতঃ মেদা পকড়ী বলা হয়। এ ছালটি বড়ই পিচ্ছিল এবং নালুকার মতো এর বাহ্যপ্রয়োগ হয়ে থাকে। কেবল রং, গন্ধ, আকারে অমিল। তবে মেদা লকড়ী ও নালুকা কাছাকাছি রাখলে গুণের দিকটি ছাড়া অন্য কোন প্রকারে দু’টিতে মিল পাওয়া যায় না। Litsea monopetala গাছের ছাল এবং এই গণের আরও কয়েকটি গাছের ছাল বর্ণের দিক থেকে অনেকটা লালচে হলেও গন্ধে অমিল।

সিনামোমান-এর তিনটি প্রজাতি

এই লেখাতে Cinnamomum গণের গাছের নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। তবে উপরের গণের সাথে কিছুটা মিল আছে বলে সামান্য বিবরণ দেওয়া হল। এই গণের কয়েকটি প্রজাতি; প্রজাতিগুলি হলো—

1. Cinnamomum iners Reinw.

2. C. obtusifolium Nees

3. C. tamala Nees & Eberm.

প্রথমটির ছালকে জংলী দারুচিনি বা ত্বজ বলা হয়। দ্বিতীয়টিকে রাম তেজপাতা ও তৃতীয়টিকে তেজপাতার গাছ বলে। যদিও তৃতীয়টির (C. tamala) ছালকে Indian Cassia Lignea বলা হয়, তথাপি উপরিউক্ত তিনটির ছালই Cassia lignea, সংক্ষেপে Cassia এবং বাংলায় ত্বজ নামেই পরিচিত। তৃতীয় গাছটি সমতলভূমিতে অধিক জন্মে, সেজন্য ছালের রঙ ধূসর-লালচে বা লালের আভাযুক্ত ধূসর, কিন্তু ভারতের উত্তর ভাগের গাছের ছাল অধিক লালবর্ণ। দক্ষিণ ভারতের ছাল অধিক মোটা। তবে তেজপাতার গাছের ছাল দারুচিনির গন্ধবিশিষ্ট এবং পিচ্ছিল। পূর্বে Chinese Cassia Lignea নামে এক প্রকার দ্রব্য এদেশে আসতো, যেগুলি বাঁশের সরু লাঠির সঙ্গে বাঁধা হয়ে থাকতো, লম্বায় ফুট খানিক, দেখতে নলাকৃতি, ভেতরটা ফাঁপা। কাঁচা ছালকে জড়িয়ে বাঁধার জন্য গোলাকার হয়ে যেতো। এই Cassia-র ছাল নানা বর্ণ, আকার ও গন্ধের হওয়ার কারণ এই যে, উপরিউক্ত/ পূর্বোক্ত তিন প্রকার Cinnamomum গাছের ছাল স্থান হিসেবে পার্থক্য হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন:  বনওকড়া এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বিরুৎ

প্রজাতিগুলোর বৈশিষ্ট্য

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর জানা গেছে যে, সাধারণতঃ C. iners-র ছাল আসল দারুচিনির সঙ্গে ভেজাল হিসেবে মেশানো হলেও অন্য প্রজাতির ছালও মেশানো হয়ে থাকে। এই ছালগুলি থেকে যতটা সম্ভব পাতলা ও অধিক গন্ধযুক্ত ছাল বেছে নিয়ে ত্বজ নামে বাজারে আসে এবং দারুচিনির সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রয় করা হয়। মোটা ছালগুলি সুগন্ধযুক্ত হলেও দারুচিনির সঙ্গে ভেজাল হয় না, অল্প গন্ধযুক্ত পাতলা ছালগুলি বাজারে আসে নালুকা হিসেবেই। তাই নানা আকারের, বর্ণের ও গন্ধের নালুকা দেখতে পাওয়া যায়। তাহলেও সবগুলি একই গণের গাছ। বিশেষতঃ C. iners, যার পূর্ব নাম ছিল C. cassia, এর ছাল স্থান হিসেবে পাতলা ও মোটা অধিক হয় এবং যতই মোটা হয়, ততই পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এদিকে C obtusifolium-এর ছাল ইঞ্চি পর্যন্ত পুরু, লালচে-ধূসর এবং সুগন্ধযুক্ত হলেও পরিমাণে কম পাওয়া যায় । আবার C. tamala-এর ছাল ওগুলির মতো ততটা সুগন্ধ নয়। সবদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, নালুকা Cinnamomum গণের গাছের ছাল এবং C iners-এর মোটা ছালগুলি এবং C. tamalaC. obtusifolium-এর পাতলা ও মোটা ছালগুলি নালুকা (বিভিন্ন প্রকারের) নামেই বাজারে আসে। শেষোক্ত দু’টি প্রজাতির পাতলা ছালগুলি খুব কম মাত্রায়ই দারুচিনির সঙ্গে মেশানো হয়। কোন একটি প্রজাতির গাছের ছাল নালুকা হিসেবে বাজারে আসে না। বরং এ তিনটি ছাড়া এই গণের আরও দু’একটি প্রজাতির গাছরে ছাল মিশ্রিত হয়েও আসতে পারে। বাজারে প্রাপ্ত মোটা আকারের সুগন্ধযুক্ত গোলাকৃতি বা নলিকাকৃতি নালুকা বা তেজপাতা (প্রজাতি) ঔষধার্থে ব্যবহার করতে পারলে উপকার অধিক হয়। যদিও এটাকে মসলা হিসাবে খাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ১৯৫-১৯৬।

Leave a Comment

error: Content is protected !!