বট এশিয়ার ঔষধি বৃক্ষ

বট, বটবৃক্ষ,
বৈজ্ঞানিক নাম: Ficus benghalensis L..

সমনাম: Ficus banyana Oken; Ficus benghalensis var. krishnae (C. D. C.) Corner; Ficus chauvieri G. Nicholson; Ficus cotoneifolia Vahl; Ficus cotonifolia Stokes; Ficus crassinervia Kunth & C. D. Bouché; Ficus karet Baill.; Ficus krishnae C. D. C.; Ficus lancifolia Moench; Ficus lasiophylla Link; Ficus procera Salisb.; Ficus pubescens B. Heyne ex Roth; Ficus umbrosa Salisb.; Perula benghalensis Raf.; Urostigma benghalense (L.) Gasp.; Urostigma crassirameum Miq.; Urostigma procerum Miq.; Urostigma pseudorubrum Miq.; Urostigma rubescens Miq.; Urostigma sundaicum Miq.; Urostigma tjiela Miq

সাধারণ নাম: banyan, banyan fig and Indian banyan
বাংলা নাম: বট, বটবৃক্ষ,
অন্যান্য নাম:
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Angiosperms
অবিন্যাসিত: Eudicots
অবিন্যাসিত: Rosids
বর্গ: Rosales
পরিবার: Moraceae
গণ: Ficus
প্রজাতি: Ficus benghalensis L.

বট বা বটবৃক্ষ বা বট গাছ (ইংরেজি: Indian banyan), (বৈজ্ঞানিক নাম: Ficus benghalensis) Moraceae পরিবারের ফাইকাস গণের একটি বৃহদাকার বৃক্ষ। এদের আদি নিবাস বঙ্গ অঞ্চল। বট বৃক্ষ খুব বড় এলাকা জুড়ে ভূমির সমান্তরাল শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে থাকে এবং এই শাখাপ্রসাখাগুলো স্তম্ভমূলের (Aerial roots) উপর ভর দিয়ে টিকে থাকে। এর শাখা-প্রশাখাগুলি বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, এক এক সময়ে বুঝা যায় না কোনটি পুরাতন অংশ।

সমস্ত বাংলা ও ভারতবর্ষে বট একটি সুপরিচিত নাম। আর সেজন্য এটির বিশেষ পরিচিতির কোন প্রয়োজন নাই।

বটের পাতা একান্তর, ডিম্বাকৃতি, মসৃণ ও উজ্জ্বল সবুজ বসন্ত ও গ্রীষ্মে এর ফুলে এবং বর্ষায় এর ফল হয়। ফুলগুলি গোলাকার, পাকলে রক্তবর্ণ হয়। এটি Moraceae পরিবারভুক্ত এবং এর বোটানিক্যাল নাম Ficus benghalensis Linn., একে ইংরেজীতে Banyan tree বলা হয়। হিন্দিতে একে বড়কল বলে থাকে।

বট হলো ভারতের জাতীয় গাছ। এই বৃক্ষকে ভারতে পবিত্র বলে মনে করা হয়, এবং মন্দিরগুলি সাধারণত প্রায়ই এই গাছের নিচে নির্মিত হয়। বৃক্ষের ছাদ বড় আকারের হবার কারণে এটি গরম আবহাওয়ায় দরকারী ছায়া দেয়।

আরো পড়ুন:  বন্দনা বট পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট বৃক্ষ

এর ছাল ও ঝুরিতে ১০% ট্যানিন, মোম ও রাবার পাওয়া যায়। ফলে তেল, অ্যালবমিনাইড, কাবোহাইড্রেট, সূত্র ও ভস্ম ৫ বা ৬ শতাংশ থাকে।

গুণ বিচারে এটি গুরু, রুক্ষ, শীতবীর্ষ, কষায় রসবিশিষ্ট, বিপাকে কটু। ইহা ধারক, সঙ্কোচক,দাহ শান্তিকারক, রক্তপিত্তহর, বর্ণকারক, যোনিদোষনাশক, মূত্র সংগ্রণীয়, রক্তশোধক ইত্যাদি।

ঔষধার্থে বট গাছের ছাল, দুধ অর্থাৎ ক্ষীর, শুঙ্গ অর্থাৎ অঙ্কুর, পাতা, ফল ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। বটের আঠা পা ফাটা সারায়।  বটের ছাল দেহের মেদ কমায়। হাড় মচকে গেলে এর ছাল বেটে গরম করে মালিস করলে আরাম পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন বট গাছের বিশদ ঔষধি গুণাগুণ

তথ্যসূত্র:
১ দ্বিজেন শর্মা লেখক; বাংলা একাডেমী; ফুলগুলি যেন কথা; মে, ১৯৮৮; পৃষ্ঠা-৩১, আইএসবিএন ৯৮৪-০৭-৪৪১২-৭
২ আঃ খালেক মোল্লা সম্পাদিত;লোকমান হেকিমের কবিরাজী চিকিৎসা; আক্টোবর ২০০৯; পৃষ্ঠা- ২৩৩-৩৪
৩. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য: ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা,৫১-৫৬।

Leave a Comment

error: Content is protected !!