দাকুম দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো পত্রঝরা বৃক্ষ

দাকুম

বৈজ্ঞানিক নাম: Haldina cordifolia (Roxb.) Ridsdale, Blumea 24: 361 (1978). সমনাম: Nauclea cordifolia Roxb. (1795), Adina cordifolia Hook. f. ex Brandis (1874). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: বঙ্কা, দাকুম, দাকরুম, ধাকাদাম, হালদু, কাইকা, কালাকদম, কেলিকদম, মালা, পেটপুরিয়া, রাংকাত, লেক-ফুবাক (মুগ)।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Gentianales. পরিবার: Rubiaceae. গণ: Haldina প্রজাতির নাম: Haldina cordifolia

ভূমিকা: দাকুম (বৈজ্ঞানিক নাম: Haldina cordifolia ) হচ্ছে রুবিয়াসি পরিবারের হালদিনা গণের এক প্রকারের বৃক্ষ। এই প্রজাতিটি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মায়।

দাকুম-এর বর্ণনা :

এটি বৃহৎ পত্রঝরা বৃক্ষ। উচ্চতায় ৩৫ মিটার পর্যন্ত হয়। পাতা উপপত্রযুক্ত এবং বৃন্তক, উপপত্র গভীর খাঁজবিশিষ্ট, ৬-২০ × ৫-১০ মিমি, ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমশ, পত্রবৃন্ত ১২ সেমি পর্যন্ত লম্বা, ঘন রোমশ, পত্রফলক প্রশস্ত ডিম্বাকার, ৮-২২ × ৫-১৮ সেমি, উপরিভাগ হালকা রোমাবৃত, নিম্নভাগ ঘন রোমশ, শীর্ষ সামান্য সূক্ষ্মাগ্র, গোড়া হৃৎপিন্ডাকার।

পুষ্পবিন্যাস হেড, হলুদাভ, মঞ্জরীদন্ড প্রায় ১০ সেমি লম্বা, আন্ত: পুষ্পক মঞ্জরীপত্রিকা ২ মিমি লম্বা। হাইপ্যানথিয়াম ১- ২ মিমি লম্বা, ঘন রোমশ। বৃতি ২ মিমি পর্যন্ত লম্বা, বৃত্যংশ গোড়ায় ডিম্বাকার, শীর্ষীয় অংশ রেখাকার-আয়তাকার থেকে মুষলাকার।

পাপড়ি ৭-৯ মিমি লম্বা, বহির্ভাগ ঘন রোমাবৃত, অভ্যন্তরে কোমল দীর্ঘ রোমশ, নল ৫-৬ মিমি লম্বা, খন্ডক আয়তাকার, ২ মিমি পর্যন্ত লম্বা। পরাগধানী ২ মিমি পর্যন্ত লম্বা। গর্ভদন্ড বহির্মুখী, ৫-৭ মিমি লম্বা, গর্ভমুন্ড ডিম্বাকার থেকে অর্ধগোলাকার। ফল বহনকারী হেড ১০- ১৫ মিমি চওড়া, ফল ধারণকারী শাখা ৪-৫ মিমি লম্বা, রোমশ। বীজ ডিম্বাকার, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে চ্যাপ্টা, গোড়া ক্ষুদ্র উপাঙ্গযুক্ত।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

পত্রঝরা বনাঞ্চল। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি :

শ্রীলংকা, ভারত, দক্ষিণ চীন, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম জেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বিস্তৃত।[১]

আরো পড়ুন:  খুসকা ডুমুর দক্ষিণ এশিয়ার অরণ্যে জন্মানো বৃক্ষ

দাকুম-এর উপকারিতা:

গাছের ছাল জীবাণুনাশক এবং জ্বরনাশক। ঘা-এর ক্ষত সারানোর জন্য গাছের রস বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। শিকড় ডায়রিয়া এবং আমাশয়ের চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়।[২]

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) দাকুম প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এটি আশঙ্কামুক্ত নয়। বাংলাদেশে দাকুম সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু উভয় পদ্ধতিতেই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান এবং এস সি দাস (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ১০ম, পৃষ্ঠা ৬০-৬১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২.  Ken Fern (2014), “Haldina cordifolia”, tropical.theferns.info, ইউআরএলঃ https://tropical.theferns.info/viewtropical.php?id=Haldina+cordifolia

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Nidhan Singh

Leave a Comment

error: Content is protected !!