কালা বাটনা বাংলাদেশের বিপন্ন বৃক্ষ

কালা বাটনা

বৈজ্ঞানিক নাম: Lithocarpus acuminatus (Roxb.) Rehder.

সমনাম: Synaedrys acuminata (Roxb.) Koidz.; Quercus glabra Buch.-Ham. ex Wall.;Quercus fenestrata var. acuminata; Quercus acuminata Roxb.; Pasania acuminata (Roxb.) Oerst..

বাংলা ও স্থানীয় নাম: কালা বাটনা (চট্টগ্রাম), লতা বাটনা, লেটা বাটনা, কালি বাটনা, দুবা বাটনা, বাদানা (চাকমা) ইত্যাদি।

ইংরেজি নাম:

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants

 শ্রেণী: Eudicots

উপশ্রেণি: Rosids

বর্গ:  Fagales

পরিবার: Fagaceae

গণ: Lithocarpus

প্রজাতি: Lithocarpus acuminatus (Roxb.) Rehder.

বিবরণ: কালা বাটনা বড় আকৃতির ও ডালপালা বিশিষ্ট চিরসবুজ বৃক্ষ, উচ্চতায় ৩০-৩৫ মিটার পর্যন্ত হয়। গুঁড়ি কাণ্ড সরল, সোজা এবং গোলাকার। বাকল কালো ধূসর বর্ণের এবং বহিরাবরণ লম্বালম্বি ফাটলযুক্ত। এদের পাতা সরল, আয়তাকার, লম্বায় ১৫-৩০ সেন্টিমিটার, কিনারা মসৃণ এবং আগা সূচালো। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে স্পাইক ধরনের পুষ্পবিন্যাসে ফুল ধরে। একই গাছে পুংফুলের স্পাইক খাড়াভাবে এবং স্ত্রীফুলের স্পাইক একাকীভাবে বিন্যস্ত থাকে। এদের ফল নাট ধরনের ডিম্বাকার, লম্বায় ১.২-১.৮ সেন্টিমিটারও চওড়ায় ১.৫-১.৭ সেন্টিমিটার এবং মসৃণ। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পরিপক্ক ফল বাদামি বর্ণের হয়। প্রতি ফলে ১টি করে বীজ থাকে। বীজগুলো কালো ও লাল বর্ণের এবং ১.৩ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট।

প্রজনন ও বংশবিস্তার: সাধারণত বনাঞ্চলে বীজ থেকে কালা বাটনার চারা জন্মায় ও বংশ বিস্তার হয়। নার্সারিতে সংগৃহীত বীজ পলিব্যাগ বা ট্রেতে বপন করতে হয়। চারা গজানো বা অঙ্কুরোদগমের হার শতকরা প্রায় ৪০-৫০ ভাগ। চারা গজাতে সময় লাগে ৯০-১২০ দিন। কালা বাটনা গাছ কপিচিং (coppicing) ক্ষমতা সম্পন্ন। অর্থাৎ কর্তণকৃত গাছের গোড়া বা মুথা থেকে প্রাকৃতিকভাবে একাধিক চারা বা কুশি জন্মায় এবং পর্যায়ক্রমে বড় গাছে পরিণত হয়।

ভৌগোলিক বিস্তৃতি: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস ও দক্ষিণ চীন

বাংলাদেশে বিস্তৃতি ও প্রাপ্তিস্থান: চট্টগ্রাম (আন্দারমানিক, দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য), পার্বত্য চট্টগ্রাম (মাতামহূরি সংরক্ষিত বন) ও কক্সবাজারের চির সবুজ বনে বিক্ষিপ্তভাবে জন্মানো কালা বাটনার গাছ কদাচিৎ দেখা যায়।

আরো পড়ুন:  মনিরাজ বাংলাদেশের পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো সংকটাপন্ন বৃক্ষ

গুরুত্ব ও ব্যবহার: কাঠ বাদামি বর্ণ, মধ্যম শক্ত, মজবুত ও টেকসই। কৃষি সরঞ্জামাদি তৈরিতে কাঠ ব্যবহার করা হয়।

সংরক্ষণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ: আরণ্যক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে কালা বাটনার চারা লাগিয়ে সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!