ডুলিচাঁপা বা দুলিচাঁপা বনাঞ্চলে অযত্নে জন্মানো সাদা ফুল বিশিষ্ট্য সুগন্ধি বৃক্ষ

ভূমিকা:  দুলিচাঁপা, ডুলিচাঁপা (বৈজ্ঞানিক নাম: Magnolia pterocarpa ইংরেজি : Wild Magnolia) ম্যাগনোলিয়াসি পরিবারের ম্যাগনোলিয়া গণের বক্ষ। বাড়িতে, উদ্যানে বা বাগানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হয়।

বৈজ্ঞানিক নাম:Magnolia pterocarpa Roxb., Pl. Corm. 3: 62, t. 266 (1820). সমনাম:  Liriodendron grandiflorum Roxb. (1832), Magnolia sphenocarpa Hook. f. & Thomson (1855). ইংরেজি নাম: Wild Magnolia. স্থানীয় নাম: দুলিচাপা। জীববৈজ্ঞানিকশ্রেণীবিন্যাসজগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Tracheophyta. অবিন্যাসিত: Edicots. শ্রেণী: Magnoliopsida. বর্গ: Magnoliales. পরিবার: Magnoliaceae. গণ: Magnolia.প্রজাতি: Magnolia pterocarpa.     

ডুলিচাঁপা গাছের বর্ণনা:

ডুলিচাঁপা  চিরহরিৎ বৃক্ষ। উচ্চতায় ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বৃক্ষের উপশাখাগুলো কচি অবস্থায় রোমশ থাকে।  পাতার আকৃতি উপবৃত্তাকার থেকে বিডিম্বাকার, দৈর্ঘ্য ১৮-৩৫  সেমি ও প্রস্থ ৯-১৮ সেমি। পাতার গোড়ার দিকটা সরু, শীর্ষ স্থূলাগ্র অথবা সুক্ষ্মাগ্র, চর্মবৎ, উপরিভাগ মসৃণ এবং উজ্জ্বল, নিম্নপৃষ্ঠ কচি অবস্থায় তাম্র বর্ণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত, পার্শ্বীয় শিরা ১৬-২০ জোড়া, পত্রবৃন্ত ২-৫ সেমি লম্বা, মসৃণ, উপপত্র ১০.০-১২.৫ সেমি লম্বা, সবুজাভ সাদা, আশুপাতী, স্টিপিউলার স্কার্স পত্রবৃন্তের সমান লম্বা।

ফুলের রং সাদা, ও বেশ সুগন্ধ। ফুলের আকার আড়াআড়িভাবে ১২.৫-১৫.০ সেমি। পুষ্পপুটাংশ ৯টি, বহিঃস্থ ৩টি বৃত্যংশ সদৃশ, ৫.০-৭.৫ সেমি লম্বা, বাহিরের দিকটা সবুজ, ভেতরের দিক সবুজাভ সাদা, চর্মবৎ, অন্তঃস্থ ৫টি দলসদৃশ, অনুজ্জ্বল সাদা, পাতলা। পুংকেশর অসংখ্য, পুংদন্ড খাটো, পরাগধানী প্রায় ২ সেমি লম্বা ও সেটা অন্তঃমুখী। তবে ফলোৎপাদী পুষ্পধার উপবৃত্তীয়, প্রায় ১৫ x ৭ সেমি, পরিণত গর্ভপত্র দীর্ঘায়ত, ২.৫-৪.০ x ১.৩ সেমি, সামনের অংশ সরু হয়ে ৩.৫ x ১.০ মিমি চ্যাপ্টা ও ভল্লাকার একটি বীজ এর রূপ ধারণ করে। ফলের ভিতরে ২টি কমলা রঙের বীজ থাকে।[১]

ক্রোমোসোম সংখ্যা:

2n = ১৮, ৩৮ (Fedorov, 1969).

বংশ বিস্তার ও চাষাবাদ:

‘বাংলাদেশেম্যাগনোলিয়া গণে ডুলিচাঁপাএকমাত্র বুনো বৃক্ষ। সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ে জন্মে’।[২] বংশ বিস্তার বীজ দ্বারা হয়। উষ্ণ ও অর্ধ-উষ্ণ দেশের বন্য অঞ্চলে জন্মে। ফুল ও ফল এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসে মধ্যে ধরে।

ডুলিচাঁপা গাছের বিস্তৃতি:

ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, আমেরিকার পূর্বাঞ্চল, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, সেন্ট্রাল আমেরিকা এবং ব্রাজিলের পূর্বাঞ্চল। বাংলাদেশে ইহা সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলার বনভূমিতে জন্মায়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্বের দিক:

ইহার কাঠ সাধারণ অবকাঠামো নির্মান, দরজার অভ্যন্তরভাগ এবং জানালার কাঠামো, আসবাবপত্র, খেলনা সামগ্রী, সংগীতের সাজসরঞ্জাম ও হস্তশিল্পে ব্যবহৃত হয়।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার:

কচি উপপত্র দাঁত ও দাঁতের মাড়ি কালো করতে চিবানো হয়। প্রজাতিটির সংকটের কারণ ও দুর্লভ প্রজনন।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  দুলি চাঁপা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের তথ্য সংগৃহিত হয়নি কিন্তু এই প্রজাতি দুর্লভ প্রতীয়মান। বাংলাদেশে দুলি চাঁপা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে স্ব-স্থানে সংরক্ষণের উদ্যেগ গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. এস কে দত্ত (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৯ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. দ্বিজেন শর্মা লেখক; বাংলা একাডেমী ; ফুলগুলি যেন কথা; মে ১৯৮৮; পৃষ্ঠা- ২৫, আইএসবিএন ৯৮৪-০৭-৪৪১২-৭

বি.দ্র: ছবিটি নেওয়া হয়েছে উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে। আলোকচিত্রী: Jahir Miraz

আরো পড়ুন:  পাহাড়ি জাতা কানশিরা দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ

Leave a Comment

error: Content is protected !!