তুঁত পৃথিবীর নাতিশীতোষ্ণ এবং উষ্ণমণ্ডলের দেশসমূহের বৃক্ষ

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]বৈজ্ঞানিক নাম: Morus alba L., Sp. Pl. 2: 986 (1753). সমনাম: Morus indica L. (1753), Morus atropurpurea Roxb. (1832), Morus morettiana Jacq. ex Burr. (1873). ইংরেজি নাম: Mulberry, White Mulberry. স্থানীয় নাম: তুঁত, তুত। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots অবিন্যাসিত: Rosids বর্গ: Rosales পরিবার: Moraceae গণ: Morus প্রজাতি: Morus alba.[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: তুঁত (Morus alba) হচ্ছে মোরাসি (তুঁত) পরিবারের মোরুস গণের একটি ছোট থেকে মাঝারি আকারের সপুষ্পক বৃক্ষ। এদের ফল ভক্ষণযোগ্য এবং উত্তর ভারতে খুব জনপ্রিয়, বাজারেও বিক্রি হয়।

বিবরণ: তুঁত ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়, গুঁড়ি ৭০ সেমি পর্যন্ত ব্যাসবিশিষ্ট হতে পারে এবং তুঁত দুগ্ধবৎ তরুক্ষীর নি:সরণ করে। এদের পাতা সরল, একান্তর, ফলক বৃন্তক, পত্রফলক ডিম্বাকার, ৫-১৬ x ৪-১২ সেমি, পাদদেশ গোলাকার থেকে অগভীর হৃৎপিণ্ডাকার, শীর্ষ তীক্ষ্ণ থেকে দীর্ঘাগ্র, কিনারা ধারালো ক্রকচ, কচি পাতা রোমশ, তরুন পাতা অধিকাংশক্ষেত্রে খন্ডিত, শীতে পাতা ঝরে যায়।

তুঁতের পুষ্প ক্যাটকিন মঞ্জরীতে, একলিঙ্গী। পুং ক্যাটকিন ১.০-১.৫ সেমি লম্বা, পুং পুষ্প ৪টি বহির্গামী পুংকেশর এবং ১টি মোচাকৃতি বন্ধ্যা গর্ভকেশরবিশিষ্ট। স্ত্রী ক্যাটকিন নিরেট ডিম্বাকার, ০.৫-১.৩ সেমি লম্বা, স্ত্রী পুষ্পের পুষ্পপুট বৃদ্ধিশীল এবং ফলের সহিত স্থায়ী, গর্ভাশয় অন্তর্গামী, একটি একক ডিম্বকবিশিষ্ট, গর্ভদন্ড দ্বি-চিমটা আকৃতি।

তুঁতের ফল নিরেট ডিম্বাকার সিনকার্প, ১.৫-২.৫ সেমি ব্যাসবিশিষ্ট, পরিপক্ক অবস্থায় গোলাপী থেকে গাঢ় বেগুনি। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে মে থেকে জুলাই মাসে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৮ (Fedorov, 1969).

চাষাবাদ ও আবাসস্থল: পাহাড়ের স্যাতসেঁতে স্থান এবং নদীতীরবর্তী ঝোপ-ঝাড়ে ভাল জন্মায়। বীজ, শাখা কলম, চোখ কলম এবং দাবা কলমের সাহায্যে বংশস্তিার করতে পারে। বীজ বপনের ৯-১৪ দিনের মধ্যে অংকুরোদগম করে। ৩-৪টি কুঁড়িবিশিষ্ট কাটিং ব্যবহৃত হয়।

বিস্তৃতি: আদিনিবাস চীন, বর্তমানে নাতিশীতোষ্ণ এবং উষ্ণমণ্ডলে ব্যাপক চাষ হয়। বাংলাদেশে ইহা দেশের সর্বত্র চাষ করা হয় বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে।

আরো পড়ুন:  কাউফল বাংলাদেশের অপ্রচলিত এবং এশিয়ার চিরসবুজ ফলদায়ী বৃক্ষ

তুঁতের অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব:

তুঁত বৃক্ষ সাধারণত ইহার পাতার জন্য চাষ করা হয় যা গুটিপোকা (Bombyx mori) পালনে ব্যবহৃত হয়। ইহার সুস্বাদু ফল খুবই মূল্যবান এবং ইহা দিয়ে জুস, মদ, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করা হয়। শিকড়, পল্লব এবং ফল বলবর্ধক, বক্ষরোগের ঔষধ, মূত্রবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং কাশি, হাঁপানী, যক্ষা এবং বাতরোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। পাতা ভেজাল মুক্তকারক, শীতলীকারক এবং দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। (de Padua et al., 1999). টাটকা ফল থেকে প্রস্তুত সিরাপ জ্বরে শীতলীকারক হিসেবে এবং কাশি ও গলার ঘায়ে শ্লেষাবেরকারী ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতার ক্বাথ রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে, জ্বরের ঔষধ হিসেবে, মূত্রবর্ধক এবং প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি কারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সমস্ত অংশ ডায়াবেটিক প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিকড়ের বাকল প্রাচীন ঔষধ সোহাকুহি নামে পরিচিত যা ফোলা প্রতিরোধক, মূত্রবর্ধক, কাশি নিরাময়ক এবং প্রাচীন ঔষধ তাপমাত্রা অবনমনকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতা গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবে, হাঁসমুরগী এবং মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ইহার কাঠ খেলনা সামগ্রী এবং বক্র দ্রব্যাদি তৈরির জন্য উপযোগী। শিকড়ের বাকল থেকে ফ্ল্যাভোন জাত পদার্থের সিরিজ পৃথক করা হয়ে থাকে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্ল্যাভোন হচ্ছে মালবেরিন, মালবেরোক্রোমিন, সাইক্লোমালবেরিন, সাইক্লোমালবেরোক্রোমিন এবং মালবেরানোল। সার কাঠ থেকে পৃথককৃত ফ্ল্যাভোন মেরিন উত্তেজনা নাশক গুণাবলী সম্পন্ন যা উচ্চরক্তচাপে উপকারী। মালবেরী বৃক্ষের শিকড়ের বাকল থেকে ১৮টি নাইট্রোজেনযুক্ত চিনি পৃথক করা হয়ে থাকে। জাতিতাত্বিক ব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তুঁতের পাকা ফল খাওয়া যায় এবং গ্রামবাসীদের একটি প্রিয় ফল বিশেষ করে শিশুদের।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) তুঁত প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যেহেতু উদ্ভিদটি গুটিপোকা পালনের জন্য চাষ করা হয় সেহেতু ইহার প্রতি কোন হুমকি নেই। বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে তুঁত সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে শীঘ্র সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

আরো পড়ুন:  কাঠলিচু এশিয়া মহাদেশের ফল

তথ্যসূত্র:

১. এম এ হাসান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ৯ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৪৭-২৪৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!