কুসুম এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ

কুসুম বড় ধরনের ঝাকড়া গাছ। গাছ বেশ মোটা হয়, ছালের বাইরের বর্ণ ধূসর বাদামী, ভেতরের দিকটা রক্তাভ। কাঠ খুবই শক্ত। ঘরবাড়ির সাজ-সরঞ্জাম, আসবাবপত্র তৈরীর কাজে লাগে। পাতার ডাঁটা প্রায় ফুটখানিক লম্বা। ঐ ডাঁটার দুধারে ২- ৪ জোড়া পাতা বা পত্রিকা থাকে, সেগুলি ৮/১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হলেও নিচের দিকের পাতা আকারে ছোট। বসন্তের প্রারম্ভে গাছে নতুন পাতা গজায়। ফুল ছোট, গুচ্ছবদ্ধ, হরিদ্রাভ-সবুজ, সাধারণতঃ স্ত্রী ও পুং পুষ্প আলাদা আলাদা গাছে হয়ে থাকে। ফল লম্বাটে, ইঞ্চিখানেকের মত লম্বা, তাতে শাঁস আছে, কাঁচায় অম্ল, পাকলে অম্ল-মধুর, এটি খাওয়াও হয়। গরমের দিনে এটি হয় এবং খেতেও ভাল লাগে। ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে ফুল এবং এপ্রিল-মে মাসে ফল হয়ে থাকে। ফলে দু’একটি বীজ থাকে, তা থেকে তৈল তৈরী হয়। এই গাছে লাক্ষাকীট বাসা বাঁধে এবং প্রচুর পরিমাণে লাক্ষা জন্মে এবং তা উন্নতমানের।

কুসুম-এর অন্যান্য নাম

এটিকে বাংলায় কুসুম, হিন্দীতে কোশম্ভ, কোসম, কুসুম, কৌসিন্ধ; সংস্কৃতে জতুড়ুম, লাক্ষা বৃক্ষ প্রভৃতি বলে। এর বোটানিক্যাল নাম Schieichera oleosa (Lour.) পূর্বে এটির নাম ছিল Schleichera trijuga Willd. & Klein. ফ্যামিলী Sapindaceae.ইংরেজীতে এই গাছটিকে Lac tree, Macassar oil tree, Ceylon Oak প্রভৃতি বলে। আমাদের প্রচলিত রীঠা যে ফ্যামিলীর গাছ, এটিও সেই ফ্যামিলীর। ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ: গাছের ছাল ও বীজের তৈল ।

বিস্তৃতি

বিহার, মধ্যভারত, কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গে এটি পাওয়া যায়। মেদিনীপুরের কোন কোন অঞ্চলে অনেক কুসুম বৃক্ষ দেখা যায়। পুরুলিয়ার যে অঞ্চলে লাক্ষার চাষ হয়, সেখানে গাছ বেশি লাগানো হয়। হিমালয় সংলগ্ন ভূমিতে কাশ্মীর থেকে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত স্থানেও এটি জন্মে।

ভেষজ ব্যবহার

ছাল: সংকোচক, বাহ্য ব্যবহারে চুলকানি নষ্ট হয়, পিঠের বেদনা ও প্রদাহ কমে, ক্ষতেও বাহ্য ব্যবহার করা হয়। ছাল ভিজানো জল ম্যালেরিয়াতে ব্যবহার্য।

আরো পড়ুন:  জিকা, জিগা বা জিওল গাছের আটটি উপকারিতার বর্ণনা

বীজ: বীজের চূর্ণ গবাদি পশুর ক্ষতে ব্যবহার করলে ক্ষতের কৃমি সকল (maggots) মরে গিয়ে ঘা শুকিয়ে যায়।

বীজের তৈল: কুসুম বীজের তৈল Macassar oil নামেই প্রচলিত। এতে Cyanogenetic glucosides থাকায় এটি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। সরিষার তৈলের পরিবর্তে কুসুমবীজের তৈল ব্যবহৃত হয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রে তৈলটিকে ভালভাবে শোধন করে নেওয়া দরকার। এটি চুলে ব্যবহার করলে মাথা পরিষ্কার ও চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। ব্রণ, চুলকানি, পোড়া ঘা এবং অন্যান্য চর্মরোগে তৈলের ব্যবহার হয়। বাতে মালিশ করলে বেদনা কমে। কুসুম তৈল মেসিনেও লাগানো হয়ে থাকে, সাবান তৈরীর কাজে লাগে। এই গাছটির ছাল ও বীজের তৈল নানা প্রকার রোগে ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

CHEMICAL COMPOSITION

Schleichera oleosa (Lour.) Oken.

Syn. Schleichera trijuga Willd. Green leaves contain:- crude protein 10.37%; ether extract 1.93%; crude fibre 32.34% N-free extract 49.21%; calcium 2.42%; phosphorus 0.71% and gallo-tannic acid 5.09%. ) Bark contains:– tannin 9.4% and resin. Flowers contain: a dye. Testa contains:– oil 2.5%. Seed contains:- fatty oil 58-60% known as “macassar oil”, unsaponine matter 1.5-3.1%; fat 35-45%; hydrocyanic acid 0.3%; fatty acids 13-19% (palmitic 1.6, stearic 10%. arachidic 19.7%, behanic 0.9%; palmitoleic 3%, oleic 52%. gadoleic 8.5% and C-22 acid. Oilcake contains:- moisture 5.57%; protein 22.3%, fat 48-53%; soluble carbohydrates 14.4%, soluble mineral matter 3.4%; fibre 5.4%; phosphoric acid 3.08% and potash 1.13%.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ১২১-১২৩।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Tabish

Leave a Comment

error: Content is protected !!