বকফুল পুরাতন ও নতুন পৃথিবীর আলংকারিক গাছ এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সবজি

ভূমিকা: বকফুল, বক, বকে, বগ, বগফুল, অগস্তা, অগাতি (বৈজ্ঞানিক নাম: Sesbania grandiflora ইংরেজি: Indian Gum Arabic Tree, Prickly Acacia, The Babul Tree) হচ্ছে ফেবাসি পরিবারের সেসবানিয়া গণের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ প্রজাতি। এটি পুরাতন এবং নতুন পৃথিবীর আলংকারিক ফুল এবং দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবজি।

বৈজ্ঞানিক নাম: Sesbania grandiflora সমনাম: সমনাম: Sesban coccinea, Agati grandiflora, Coronilla grandiflora অন্যান্য নাম: বক, বকে, বগ, বকফুল, বগফুল, অগস্তা, অগাতি মনিপুরী নাম: হৌয়াঈমাল Houwaimal মারাঠি নাম: शेवरी Shevari, हतगा Hatga উর্দু নাম: অগস্ত সংস্কৃত নাম Varnari, Munipriya, Agasti, Drigapalaka. ইংরেজি নাম: Black Babool, Egyptian Mimosa, Egyptian Thorn, Gambia Pods, Indian Gum Arabic Tree, Prickly Acacia, The Babul Tree. স্থানীয় নাম: বকফুল।

বর্ণনা:

বকফুল ছোট আকৃতির দ্রুত বর্ধনশীল পত্রঝরা বৃক্ষ। এই গাছের কাঠ কোমল। উচ্চতায় ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের বাকল হালকা থেকে গাঢ় বাদামি বর্ণের হয়; তবে পুরাতন বৃক্ষ দেখতে বিদীর্ণ। গাছের পাতা অচূড় পক্ষল।  পাতার দৈর্ঘ্য ১৩-৩০ সেমি, পত্রক ২০-৬০টি, আয়তাকার, রোমহীন, উপপত্রিকা ক্ষণস্থায়ী, ক্ষুদ্র, ১.৫-২.৮ সেমি লম্বা।

পুষ্পবিন্যাস কাক্ষিক রেসিম। একটি গুচ্ছে ২ থেকে ৪ পুষ্পক ফুটে। ফুলের আকৃতি বৃহৎ। বৃতি প্রায় ২.৫ সেমি লম্বা, রোমহীন, ২-ওষ্ঠ বিশিষ্ট। দলমন্ডল ৮-১০ সেমি লম্বা। ফুলের রঙ সাদা বা লাল দাগযুক্ত। ‘ফুল ফোটার আগে দেখতে টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো থাকে।’[১] ফল পড আকৃতির; ৩০ থেকে ৫০ সেমি লম্বা। ফল দেখতে কাস্তে আকৃতির, দৃঢ়, তবে বেলনাকার নয়। সন্ধি অধিক স্থূল। বকফুল গাছে বীজ অনেক ধরে।

চাষাবাদ ও বংশবিস্তার:

উচ্চ ভূমিতে আবাদ করা হয়। তবে ধৈঞ্চা গাছের সাথে কিছুটা মিল আছে। তবে বকফুলের গাছ ধৈঞ্চার চেয়ে  অনেক বড় ও মজবুত। বকফুল সারাদেশে পাওয়া যায়। বকফুল দিয়ে বড়া তৈরি করে খাওয়া যায়। তাই অনেকে বাডিতেও লাগিয়ে থাকে।  অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে এই গাছে ফুল ও ফল ধরে। শীত ছাড়া প্রায় সারাবছর গাছে ফুল ফোটে। বকফুলের ফলে অনেক বীজ থাকে। বীজ বংশ বিস্তার হয় বীজ এবং পুরাতন কান্ড দ্বারা।[২]

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ১৪, ২৪ (Fedorov, 1969).

বিস্তৃতি: পুরাতন এবং নতুন পৃথিবীতে ব্যাপক বিস্তৃত। বাংলাদেশের সব জেলায় পাওয়া যায় ।

উপকারিতা:

ফুল এবং কচি ফল সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। পাতা ভালো গো-খাদ্য। এছাড়া পাতা টনিক, জ্বর নাশক, রাতকানা এবং খিটখিটে মেজাজ নির্মূল করে। গাছের মূলের ক্বাথ গেঁটে বাতে প্রয়োগ করা হয়। মূলের রস মধুর সাথে মিশ্রিত করে শ্লেষ্ম বিদারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফল তিক্ত, স্বাদহীন, রেচক ঔষধ, জ্বর নাশক, এবং ব্রংকাইটিসে ব্যবহার করা হয় (Kirtikar et al., 1935)।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৮ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  বকফুল  প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বকফুল  সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে অঞ্চল ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি অধিক বনায়নের সুপারিশ করা।[১] 

ছবির ইতিহাস: ছবিটি কক্সবাজারের সুগন্ধা মোড় থেকে সুগন্ধা সমুদ্র তীরের দিকে যেতে পথের ধার থেকে তোলা। কলাতোয়া বিচ দিয়ে যাবার পথেও চার-পাঁচটি গাছ আছে। হয়ত কোনো বৃক্ষপ্রেমিক এই দুই পথে কয়েকটা গাছ লাগিয়েছেন

তথ্যসূত্র:

১. ড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ফুলের চাষ প্রথম সংস্করণ ২০০৩ ঢাকা, দিব্যপ্রকাশ, পৃষ্ঠা ১৩৯। আইএসবিএন 984-483-108-3

২. এ টি এম নাদেরুজ্জামান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৮ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  কাঁকরোল লতা-র বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ

Leave a Comment

error: Content is protected !!