সিভিট বাংলাদেশে সংকটাপন্ন দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বৃক্ষ

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]বৈজ্ঞানিক নাম: Swintonia floribunda Griff., Proc. Linn. Soc. 1: 283 (1846). সমনাম: Swintonia griffithii Kurz (1870), Swintonia helferi Hook. f. (1876). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: সিভিট (বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে), আম চুঙুল, সামবাঙ, সাংগিনফ্রো, মইলাম-চিবুক(চট্টগ্রাম অঞ্চল), সাংগ্রিন (মগ), সিবিকা (চাকমা)। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots অবিন্যাসিত: Rosids বর্গ: Sapindales পরিবার: Anacardiaceae গণ: Swintonia প্রজাতি: Swintonia floribunda.[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকা: সিভিট এনাকার্ডিয়াসি পরিবারের সুইনটোনিয়া গণের একটি বিশালাকারের চিরসবুজ বৃক্ষ। গাছটি বাংলাদেশে সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত এবং বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-৪ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

বিবরণ: সিভিট ৭ মিটার বা ততোধিক উচ্চতা সম্পন্ন, প্রশস্ত গুঁড়ি বিশিষ্ট, মসৃণ, অতি উচ্চ চিরহরিৎ বৃক্ষ। বাকল উজ্জ্বল গোলাপি, অগভীর উলম্ব ফাটল বিশিষ্ট, মসৃণ, ধূসর বর্ণ, ব্লেজ গোলাপি। পত্র প্রশাখার প্রান্তদেশে গুচ্ছাকারে অবস্থান করে, বল্লমাকার, ১০-১৫ সেমি লম্বা, পাতলা, উপরিভাগ চর্মবৎ ও চকচকে সবুজ, অষ্কীয় পৃষ্ঠ চকচকে, পত্রবৃন্ত অত্যন্ত সরু, ২.৫-৪.০ সেমি লম্বা।

পুষ্পবিন্যাস ১৫-৩০ সেমি লম্বা, যৌগিক মঞ্জরী, প্রান্তীয় বা কাক্ষিক, প্রচুর শাখান্বিত, মসৃণ। পুষ্প উভলিঙ্গ, আড়াআড়িভাবে ৩-৪ মিমি, হালকা হলুদ। বৃতি খন্ড ১ মিমি লম্বা। দলসমূহ ডিম্বাকার-আয়তাকার, ২ x ১ মিমি, উভয় পার্শ্বে অণুরোমশ, ফলক দীর্ঘায়িত, ০.৫-০.৮ মিমি লম্বা। পুংকেশর ২-৩ মিমি লম্বা, পরাগধানী আয়তাকার। গর্ভাশয় অর্ধশাঙ্কব, ব্যাস ১ মিমি, গর্ভদণ্ড ১.৫ মিমি লম্বা, সরল, গর্ভমুণ্ড চাকতি সদৃশ। পুং পুষ্প দীর্ঘায়িত, ২.৫ x ১.৫ মিমি, পক্ষ-সদৃশ, গোলাপি আভা, উলম্ব-শিরান্বিত, প্রায় ৫ সেমি পশ্চাদমুখী বক্র, আয়তাকার-রৈখিক দল এ উপবিষ্ট। কাঁচা অবস্থায় অবৃন্তক ড্রুপ জাতীয় ফল। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।

চাষাবাদ ও আবাসস্থল: পাহাড়ী বনভূমিতে ভালো জন্মে। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।

আরো পড়ুন:  ছোট চমকী অর্কিড বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও তিব্বতের অর্কিড

বিস্তৃতি: মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালেশিয়া । বাংলাদেশে ইহা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এর বনাঞ্চলে পাওয়া যায়।।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: কাঠ চায়ের বাক্স, ফ্লামজোর ও দরজা-জানালার ফ্রেম তৈরীর কাজে ব্যবহৃত হয়। নৌকা ও নির্মাণ কাজেও ইহা ব্যবহৃত হয়। এটি পাতলা তক্তার আবরণ ও প্লাইউড রূপে ব্যবহৃত হয়।

সংরক্ষণ তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) সিভিট প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, প্রজাতিটির সংকটের কারণ ও অরণ্য উচ্ছেদ এবং আবাসস্থল ধ্বংস। বাংলাদেশে সিভিট সংরক্ষণের পদক্ষেপ হিসেবে বলা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিছু গাছ রক্ষিত আছে ও পুনঃস্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া চলছে। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু উভয় প্রক্রিয়াতেই সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তাব করা হয়েছে। [১]

তথ্যসূত্র:

১. মোহাম্মদ কামাল হোসেন, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১২৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

Leave a Comment

error: Content is protected !!